সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন প্রকল্প গ্রহণ করছে না সরকার

সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন প্রকল্প সরকার নিচ্ছে না ॥ প্রধানমন্ত্রী

 

সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কোন প্রকল্প সরকার নিচ্ছে না, বিশ্ব ঐতিহ্য
হিসেবেই এ বনকে সংরক্ষণ  করা হচ্ছে।  যে কোন প্রকল্প সরকার নিক না কেন অন্তত আমাদের এই সুন্দরবন যেন
ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েই প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে বাগেরহাটের রামপালে
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের
বিরোধিতা করে আসছে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও বামপন্থীরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে
বলা হচ্ছে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না। ১৯৯৭ সালে বর্তমান
সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সুন্দরবনকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষণা করে ইউনেস্কো। সেভাবেই সুন্দরবন সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সুন্দরবনের কারণে বাংলাদেশ বেঁচে আছে। সুন্দরবন যেন বৃদ্ধি পায়, সেজন্য কৃত্রিমভাবে
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকার দেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ ১৭ শতাংশে উন্নীত
করতে সক্ষম হয়েছে। এখন লক্ষ্য তা ২৫ শতাংশে উন্নীত করা। সামাজিক বনায়নসহ পরিবেশের
ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। বনাঞ্চলে অপরাধ দমনের জন্য
স্মার্ট পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয়
জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে, যাতে অহেতুক বৃক্ষ
নিধন না হয়। আর জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পেতে আমাদের সব থেকে দরকার সবুজ বেষ্টনী গড়ে
তোলা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের অর্থে ট্রাস্ট ফান্ড গড়ে তোলা
হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে ২০১০ সালে ক্লাইমেট চেইঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের পর এ
পর্যন্ত তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ দেশ বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে, কারও মুখাপেক্ষী না
থেকে নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড করে কিভাবে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করা যায়।
তার একটা স্বীকৃতিও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০২১
পর্যন্ত সময়ে আওয়ামী লীগের সময়ে উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু ২০০১
সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর সেসব গাছপালা কেটে সেখানে চিংড়ি ঘের করা হয়েছিল। পক্ষান্তরে বর্তমান সরকার সুন্দরবন রক্ষার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে
নিয়েছে।  


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None