বাংলার ঐতিহ্যে বেনারসি শাড়ির সুনাম ও চাহিদা

বেনারসি শাড়ি
বাংলার ঐতিহ্যের বিশাল এক স্থান অধিকার করে আছে। এই শাড়ি নিয়ে
রয়েছে শত শত গান,
কবিতা, গল্প, উপন্যাস। বাঙালি নারীর
পরিধেয় বস্ত্র হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় শাড়ি বেনারসি। বিশেষ করে বিভিন্ন
অনুষ্ঠানে পরিধানের জন্য নারীদের অন্যতম পছন্দ বেনারসি। দেশব্যাপী বেনারসির
ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঢাকার মিরপুরে ঐতিহ্যবাহী এ শাড়ি নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল এক বাজার। যা ‘বেনারসিপল্লী’
নামে পরিচিত। বছরজুড়েই এই শাড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকে ক্রেতাদের
কাছে।
বিয়ে, ধর্মীয়
অনুষ্ঠানাদি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাঙালি নারীদের পরিধেয় শাড়ির তালিকায় প্রথম
স্থানে রয়েছে বেনারসি। তবে ঈদ এলে এর চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। মিরপুর ২, ৩ ও ৫
নম্বর ওয়ার্ড এবং সেকশন ১০, ১১, ১২ ও ১৩
এলাকায় গড়ে উঠেছে বেনারসিপল্লী। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
রয়েছে শত শত কাতান আর বেনারসি শাড়ির দোকান। হানিফ সিল্ক, বড়বাজার,
নীল আঁচল, জুই বেনারসি কুঠির, মিতু কাতান শাড়ি ঘর, আপন বেনারসি হাউজ, ঢাকা জামদানি, টাঙ্গাইল তাঁতি শাড়ি, বেনারসি সিলেকশন, জরিন সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, শাড়ি এক্সিবিশন, রেশমা সিল্ক হাউজ, মানিক বেনারসি লিমিটেড, রিমঝিম শাড়ি ফ্যাশান,
শাহীন সিল্ক সেন্টার, শাড়ি এক্সিলেন্ট,
চাঁদনী সিল্ক হাউজসহ শতাধিক শাড়ির দোকানে রয়েছে হরেক রকম শাড়ি। প্রায় প্রতিটি
দোকানেরই রয়েছে নিজস্ব শাড়ি তৈরির কারখানা। পছন্দমতো জমকালো শাড়ির খোঁজে ক্রেতারাও ভিড় করতে
শুরু করেছে।
ঈদ-উল-ফিতরকে ঘিরে স্বল্প আকারে বেচাকেনাও শুরু হয়েছে। গ্রাহকের চাহিদা
ও ঐতিহ্যকে লক্ষ্য রেখে সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন। এই পল্লীতে বেনারসিসহ
প্রায় সব ধরনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এসব শাড়ির দাম কোয়ালিটিভেদে ভিন্ন ভিন্ন।অন্যান্য শাড়ির
তুলনায় বেনারসি শাড়ি কিছুটা বৈচিত্র্যময় হওয়ায় এটি সবার মনোযোগ সহজেই আকর্ষণ করে। কারুকাজ, রঙের
ব্যবহার, ডিজাইন প্রভৃতি মিলে এক সময় বেনারসি শাড়ির চাহিদা ছিল
আকাশছোঁয়া।
বিশেষ
করে বেনারসি ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠান কল্পনাও করা যেত না। ফলে এই শাড়ির
বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করে এবং আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বই দশকের শেষ সময় পর্যন্ত
ঢাকার বেনারসির খ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। গুণমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় দেশের বাইরের বাজারেও
এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি শাড়িতেই রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। এসব শাড়ির অন্যতম
বৈশিষ্ট্য হলো পাকা রং আর ওজনে হালকা। দামও সহনীয় পর্যায়ে। তাই সমাজের উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত
কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত সব শ্রেণীর তরুণী কিংবা নারীর প্রথম পছন্দ বেনারসি শাড়ি। উল্লেখ্য, ১৯৯০
সালে দুই থেকে তিনটি গদি ঘর দিয়ে বেনারসিপল্লীর যাত্রা শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে গোড়াপত্তন
ঘটে ১৯৯৫ সালে। চাহিদা বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে গদি ঘর বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে
কিছু ব্যবসায়ী এসে যোগ হলে ২০০০ সালের পর থেকে এলাকাটি একটি পরিপূর্ণ বেনারসি পল্লীতে
পরিণত হয়।
সময়ের
আবর্তনে গদিঘরগুলো শোরুমে রূপ নেয়। এরপর থেকেই বেনারসিপল্লীর সুনাম ও শাড়ির চাহিদা
বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে
বেনারসিপল্লীতে প্রায় ১৫০টি শোরুম আছে।


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None