গড়তে হবে সোনার বাংলা

সরকার
দেশ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে সকল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক
সময়ে একটি চিহ্নিত কুচক্রিমহলের অপতৎপরতায় দেশব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী
কার্যক্রমের আগ্রাসন বাড়লে সরকার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তার জঙ্গীবিরোধী 'জিরো
টলারেন্স' নীতি জানিয়েছিল। তবে জবাবদিহিতায় উজ্জীবিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার
কোনো বক্তব্য নির্ভর দলের প্রতিনিধিত্ব করে না, তারা কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। তাই
জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করছে সরকার। 'পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট' নামে ৫৯২ সদস্যের এই
দলের নেতৃত্বে থাকবেন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি)। এ
ছাড়া এ ইউনিটে একজন ডিআইজি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি ও ৮ জন
পুলিশ সুপার থাকবেন। এই ইউনিট সারাদেশে সমন্বিতভাবে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে দায়িত্ব
পালন করবে। দেশে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক
বিস্তার ও হামলা জটিল ও বহুমুখী সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। জঙ্গিদের বহুমুখী হামলায়
দেশবাসী চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। পার্থিব-অপার্থিব কল্যাণের অলীক আশায়
সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। তারা তাদের হীনস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে
কিছু বিভ্রান্ত তরুণ মুসলমানকে এহেন কাজে ব্যবহার করছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় ঘটে
যাওয়া অতর্কিত সন্ত্রাসী-জঙ্গি হামলার ঘটনা দেশের সচেতন কোনো নাগরিক সমর্থন করতে
পারেনি। সম্প্রতি সিলেটে ঘটে যাওয়া কাহিনীটিও মেনে নিতে পারছে না দেশপ্রেমিক জনগণ।
সরকার থেকে আলেম-ওলামা, ইসলামি দলগুলো এবং সাধারণ জনগণও এর
প্রতিবাদ করেছে। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে জোরালো প্রতিবাদ করতে দেখা যায়
দেশের নাগরিকদের। কোনো ব্যক্তি, দল বা দেশের  একক চেষ্টায় জঙ্গি নির্মূল খুব দুরূহ ব্যাপার।
বাংলাদেশসহ সব দেশকে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসী-জঙ্গি নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে
হবে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত হোক এ প্রত্যাশা সকলের। জঙ্গি বা সন্ত্রাসী নামে
কোনো খবর প্রকাশিত হলেই সমাজের একশ্রেণীর মানুষ ধরে নেয় এটা মুসলিমদের কাণ্ড। শুধু
তাই নয়, যারা সুন্নতি লেবাস পরিধান করে,
দাড়ি রাখে, টুপি পরে এবং আল্লাহু আকবারের
তাকবির উচ্চারণ করে তারাই সাধারণত এই কাজের সাথে জড়িত ধারণা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে
লেবাসধারীরা সত্যিকার মুসলমান নয়, তারা দাড়ি-টুপি পরে আলেম
সেজে ধরেছে মুসলমানের বেশ। আল্লাহু আকবারের তাকবির স্লোগান এবং ইসলামি বইপুস্তক,
সুন্নতি লেবাস পরিধান, দাড়ি-টুপিধারী
ব্যক্তিদের ঢালাওভাবে জঙ্গি বানানো কোনো সচেতন-বুদ্ধিমান এবং প্রকৃত মুসলমানেরও
কাজ নয়! এ ধরনের মানসিকতা ও ধারণা থেকে দূরে থাকা জরুরি। বিশ্বের সব বরেণ্য
আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, ইসলামি
চিন্তাবিদেরা এবং মূলধারার সব ইসলামি সংগঠন ও সংস্থা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে,
এ ধরনের ব্যক্তিরা বিভ্রান্ত, বিপথগামী। এরা
ইসলামের শত্রুদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। ইসলামের শত্রুরা এদের পৃষ্ঠপোষকতা
করছে। ওরা এদেরকে ইসলামের ভাবমর্যাদা ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করছে। এসব ব্যক্তি
কোনোভাবেই ইসলামের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। 
তাই ইসলামের সঠিক শিক্ষা এদের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে। সন্ত্রাস ও
জঙ্গিবাদের কুফল এদের জানাতে হবে তাহলেই দেশ থেকে চিরতরে জঙ্গি দূর হবে। গড়ে উঠবে
সোনার বাংলা।  

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None