রঙ্গরস ও সত্যের অপলাপ

 

 

দেশের মানুষ যখন এক
ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে, তখন বেগম জিয়া দুর্গত মানুষের কথা
বলার পরিবর্তে ইফতার পার্টি ডেকে দেশের রাজনীতি সম্পর্কে শুধু রঙ্গরসই করেনি,
বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের মতো কী ধরনের ভয়াবহ প্রতিহিংসার
নীতি গ্রহণ করবে তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন, নির্বাচনে
পরাজিত হলে আওয়ামী লীগের বড় নেতাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে এবং ছোট নেতারা পালাতে না
পেরে মার খাবে। এই ভয়টা দেশের অনেক মানুষই করছেন। এ জন্যেই তারা চান না, আগামী নির্বাচনে বিএনপি (লেজুড় হয়ে জামায়াত) আবার ক্ষমতায় আসুক। বিএনপি
ক্ষমতায় আসতে পারলে তারেক রহমান সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফিরবেন। তারপর দেশ জুড়ে আওয়ামী
বধের নামে যে অত্যাচারের স্টিম রোলার চালানো হবে, তা ২০০১
সালের অত্যাচারকে ছাড়িয়ে যাবে। কত পূর্ণিমা শীলের কপাল পুড়বে তা কে বলবে। শুধু
আওয়ামী লীগার বা আওয়ামী লীগের সমর্থক নয়, বিএনপি-জামায়াতের
বিরোধী মাত্রেরই ওপর চলবে চরম নির্যাতন। সংখ্যালঘুরাও এই নির্যাতন থেকে রক্ষা পাবে
না। বেগম জিয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ। তিনি তার মনের এই গোপন ইচ্ছাটি ইফতার পার্টিতে
ব্যক্ত করে ফেলেছেন। প্রথমবারের মতো জয়ী হয়ে বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ
গ্রহণের প্রাক্কালেই বাংলাদেশে ঘটে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই ঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চল
প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, এজন্যে বেগম খালেদা জিয়াকে তখন নাম
দেওয়া হয়েছিল তুফানি বেগম। তিনিই আবার বর্তমানে 
যেসব কথা বলছেন, তাতে মনে হয় তিনি ভেবেছেন, দেশের সকল
মানুষেরই স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল। তবে এগুলো পুরনো
কাসুন্দি। বর্তমানে
আবারও রঙ্গরস সৃষ্টি করেছেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার নির্বাচনকালীন
সরকার গঠনের দাবি আওয়ামী লীগ সরকার গ্রহণ না করলেও আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে
বিএনপি ও ২০ দলের যোগদানের নিশ্চিত আভাস দিয়ে বলেছেন, আমরা
ও ২০ দল নির্বাচনে যাব। এটা শুধু রঙ্গরস নয়, এর সঙ্গে কিছুটা
সত্যের অপলাপও মিশ্রিত রয়েছে। ফখর-মইনুদ্দীন সরকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে
এবং দণ্ড এড়াবার জন্য বেগম জিয়া তার দু’ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে
দেন। তারেক রহমান তো মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন এবং বর্তমানে ব্রিটেনে রাজার হালে
আছেন। সিংহাসনচ্যুত মিসরের রাজা ফারুক অথবা ইরানের শাহও বিদেশে এত দীর্ঘকাল এত
বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে পারেননি। তার বিদেশে পালিয়ে থাকাতেই এটা সম্ভব হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে নির্বাচন
হয়নি। কেউ ওই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি। কেবল আমাদের প্রতিবেশী দেশ (ভারত)
দিয়েছে। কিন্তু এবার তাদের সুরটাও বদলে গেছে। তারা বুঝেছে তারা ভুল করেছে। ঠিক কাজ
করেনি। বিএনপির আশা কখনো পূর্ণ হয়নি। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এসেই শেখ
হাসিনার দিকে মৈত্রীর হাত বাড়িয়েছেন এবং দু’দেশের মধ্যে অনেক বড় বড় সমস্যার
সমাধান হয়েছে। বরং নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে এলে বেগম জিয়াকে দরখাস্ত করে,
নানা জনকে ধরে তার সঙ্গে দেখা করতে হয়েছিল। বাংলাদেশ-ভারত প্রতিটি
সম্পর্কোন্নয়ন-চুক্তির সময়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে
বিএনপির নেতা-নেত্রীরা যেভাবে শোরগোল তোলেন এবং এখনো তুলছেন, তাতে এই সম্পর্ক উন্নত হওয়ার কোনো কারণও নেই। আসলে দীর্ঘকাল ক্ষমতার বাইরে
থাকায় হতাশায় ভুগে ভুগে বেগম জিয়া এখন ক্ষমতায় ফেরার দিবাস্বপ্ন দেখছেন এবং ভাবছেন। তবে বিএনপি
সহিংসতার পথ থেকে ফিরে এসে ইতিবাচক রাজনীতি এবং নির্বাচনে অংশ নিলে তারা অন্তত
মানুষ পুড়িয়ে ও বোমা মেরে মানুষ হত্যার নেতিবাচক রাজনীতি থেকে ফিরে আসবে। কাজেই
বিএনপি বাস্তব কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনে আসুক, দুর্নীতিমুক্ত যোগ্য প্রার্থী
নির্বাচনে দিক, নির্বাচন বর্জনের নীতি বর্জন করুক, তারেক রহমান ও জামায়াতের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত হোক, তাহলেই হয়তো দেশের বৃহত্তম দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে তার টিকে থাকা
সম্ভব। তা না হলে বেগম জিয়া যতই বাগাড়ম্বর করুন, আগামী
নির্বাচনে বিএনপি’র মুসলিম লীগের পরিণতি বরণেরই সমূহ
সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None