হোলি আর্টিজানে হামলার পর দেশের নিরাপত্তা ও সাফল্য

 

Image result for picture of নিরাপত্তা বাহিনী

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী
হামলার ঘটনা ঘটেছিল রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারি নামের এক
রেস্তোরাঁয়। হামলায় ২০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক। ৯ জন
ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ২ জন বাংলাদেশি,
১ জন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক। তা ছাড়া, ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয় পুলিশের দুজন
কর্মকর্তাকে। হামলাকারী ছিল সাতজন, তাদের মধ্যে ছয়জন
সেনাবাহিনীর অভিযানে মারা যায়। একজনকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। আরও
গ্রেপ্তার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে যাওয়া দুজনকে, তাদের
একজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। হোলি আর্টিজান ঘটনার পর বাংলাদেশের
সরকার সন্ত্রাস মোকাবিলা এবং এই সমস্যার থেকে নিরাপদ থাকার জন্য নানা ধরনের
অপারেশন ইউনিট ও নিরাপত্তা বিভাগ তৈরি করেছেন। যারা সম্প্রতি দেশে নানা অপারেশন
পরিচালনা করে ৬৩ জন জঙ্গি নিহত এবং অনেক জঙ্গিকে এই পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। যার
ফলশ্রুতিতে দেশে এখন শান্তি বিরাজ করছে। জঙ্গিবাদ কোন একটা দেশের ব্যক্তিগত সমস্যা
নয় এটা এখন সারা বিশ্বের সমস্যা। হোলি আর্টিজান ঘটনার পর বাংলাদেশের সরকার
সন্ত্রাস মোকাবিলা এবং এই সমস্যার সঙ্গে যে বৈশ্বিক সম্পর্ক রয়েছে, তা নিয়ে যথেষ্ট চাপের মুখে ছিল এবং এখনো রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কুচক্রি
মহল প্রচার করছে যে হোলি আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলা হঠাৎ হয়নি। এর পূর্বপ্রস্তুতি
বেশি দিনের না হলেও ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর আগে থেকেই এর খণ্ড খণ্ড চিত্র ফুটে
উঠেছিল। ব্লগার হত্যা, শিয়া ইমামবাড়ায় হামলা, পুরোহিত ও খ্রিষ্টান ধর্মযাজক হত্যা এবং আহমদিয়া মসজিদে হামলা—এসবই ছিল পূর্বপ্রস্তুতি। আরও পরে রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাপানি নাগরিক
কুনিও হোশি এবং হোলি আর্টিজানের কাছাকাছি জায়গায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাবেলার
হত্যার যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো ছিল আগাম সতর্কবাণী।
কিন্তু এসবই রাজনৈতিক আবরণের কারণে হালকাভাবে নেওয়ায় সন্ত্রাসীদের এমন ভয়াবহ ঘটনা
ঘটাতে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু এমন কথার কোন ভিত্তি নেই। কেননা তাহলে বিশ্বের
অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে কেন জঙ্গি হামলা ঘটে তারা আমাদের দেশ থেকে অনেক
উন্নত তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক কঠিন। আমরা যদি আমেরিকা, লন্ডন, জাপান সহ নানা উন্নত দেশের দিকে তাকাই তাহলে
সারা বিশ্বের জঙ্গি হামলার রূপরেখা নিজেদের সামনেই দেখতে পাবো। বর্তমানে
বাংলাদেশের দৃশ্যত সন্ত্রাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। তবে একেবারেই আশঙ্কামুক্ত নয়।
সন্ত্রাসবিরোধী জনসচেতনতাও বেড়েছে, তবে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে
বাড়েনি। তাই সকলের প্রয়োজন অতিরুক্ত সতর্কতা তাহলেই দেশে জঙ্গি নিয়ন্ত্রন সম্ভব।


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None