কবে যে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে?

মুক্তিযুদ্ধের অনির্বাণ চেতনা আর গণতান্ত্রিক
মূল্যবোধে বিশ্বাসী জনবায়ে নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর
থেকেই দেশের গণতন্ত্রকে একটি দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে
নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সরকারের এই আন্তরিক প্রচেষ্টার অর্জিত সাফল্য বর্তমানে
এতোটাই দৃশ্যমান যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও এদেশের গণতন্ত্র ও
সুশাসন আজ অন্যতম রোল মডেল। কিন্তু অতীতের নানা কুকর্মে জনসমর্থন হারানো, মূলধারার
রাজনীতি থেকে নির্বাসিত, অপরাজনীতির চর্চাকারী একটি বৃহৎ রাজনৈতিক গোষ্ঠী সেই ২০১৩
সাল থেকেই এদেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধারক সরকার নামক একটি অসংবিধানিক, অযৌক্তিক
দাবি করে আসছে। জনসমর্থন তলানীতে থাকা এই দলটি মনে করে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে
সুষ্ঠু,
অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু
পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশেই তো জাতীয় নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীনে
হয়। তাহলে সরকার কেন বিএনপির ঐ অসংবিধানিক দাবি মানবে? তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার
ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখোখুখি অবস্থান যেন যৌক্তিকতা আর একগুয়েমির
মুখোমুখি দাঁড়ানোর চিরন্তন সংগ্রাম। বিএনপি মনে করে তাদের
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রতি রাজনৈতিক, নাগরিক সমাজ এবং দেশের এক বড় সংখ্যক
মানুষের সমর্থন আছে, বাস্তবতা কিন্তু সেটা নয়। তাই বিএনপি যতই তাদের এই দাবির
প্রতি অবস্থান দৃঢ় করছে ততই গণতন্ত্রের প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধাচরণের কারণে
গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এই অযৌক্তিক ইস্যুতে
বিএনপির অনড় ও অনমনীয় অবস্থানের কারণেই দেশের রাজনীতিতে বারংবার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ইস্যুতে
আন্দোলনের  নামে বিএনপি নানা সহিংসতা করেছে, জীবন
ও সম্পদের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সরকার পিছু হটেনি। সাংবিধানিক
ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনে সরকার নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে গেছে। বিএনপি নির্বাচন
বর্জনের ঘোষণা দেয়। শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপার্সন
খালেদা জিয়াকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে টেলিফোনে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন।  প্রধানমন্ত্রী
সে সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সরকার গঠন করে
স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়সহ বিএনপির পছন্দ অনুযায়ী আরো মন্ত্রণালয়
বিএনপিকে অফার করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে না
যাওয়ার গোঁ ছাড়েনি। পরবর্তীতে বিএনপিকে ছাড়াই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি জোটের সমর্থকরা ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে, নির্বাচন কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং শত শত স্কুলঘর পুড়িয়ে দিয়েও নির্বাচন
ঠেকাতে পারেনি। তারপর থেকেই তো বিএনপি রাজনীতির মাঠে খোঁড়া ঘোড়ার মতো আচরণ করে
চলেছে। তারা এখন না ঘরকা না ঘাটকা। এই অবস্থায় আর একটি নির্বাচনের হাতছানি বিএনপির
সামনে। কী করবে বিএনপি? কিন্তু কয়লা ধুলে কী আর ময়লা যায়?
অতীতে অনেক মাশুল দেয়া সত্বেও বিএনপি আবারও সেই পুরেনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
দাবিকেই নতুন ভাবে উপস্থাপন করছে, নাম দিয়েছে ‘সহায়ক’
সরকার, ইস্যু মূলত আগেরটাই। তবে যে যৌক্তিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
দাবি খারিজ হয়েছে সে যুক্তিতে সহায়ক সরকারের দাবিও আমলে নেয়া কোন সুযোগ নেই, কেননা
সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ সরকারের নেই। আর সংবিধানে সহায়ক সরকার বলে কিছু
নেই। নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই হতে হবে। সহায়ক সরকারের এক দাবি বিএনপির
একগুয়েমি নয় কী? জনবিচ্ছিন্নতার কারণে অস্তিত্বের সংকটে খাবি
খাওয়া বিএনপির পক্ষে কী  আন্দোলন করে এই
দাবি আদায় করা সম্ভব?  বিএনপির বরং উচিত
হবে যে কোনো পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া, তারা যদি আগামী নির্বাচনের ট্রেনও
ফেল করে তবে তাদের স্থান হবে আস্তাকুঁড়ে। কবে যে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে?

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None