টার্গেট এক কোটি, মাজেজা কী?

 

 

 

গত কিছুদিন যাবত দেশের অন্যতম টক অব দ্যা টাউন
হিসেবে আলোচিত ইস্যু হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূল চাঙ্গা, তহবিল গঠন, দল ভারি ও ডাটাবেজ
তৈরির জন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা
জিয়া গত ১লা জুলাই এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন
সদস্য সংগ্রহের টার্গেট ঘোষণা করেন। তিনি দশ টাকা দিয়ে নিজের সদস্য পদ নবায়ন করেন।
এই টার্গেট সফল করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা পর্যায়ক্রমে
বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ঘটা করে কর্মসূচি উদ্বোধন করে সদস্য সংগ্রহ ফরম সংশ্লিষ্ট জেলার
প্রতিটি উপজেলার দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। বেগম জিয়ার
নির্দেশনায় ১১ জন সাবেক ছাত্রনেতাকে দিয়ে গঠন করা হয়েছে তদারকি টিম। তারা প্রতিটি
জেলায় নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং আপডেট সম্পর্কে তাকে অবহিত করছেন। কিন্তু খোঁজ
নিয়ে জানা গেছে এই মহাযজ্ঞের পেছনে মূখ্য উদ্দেশ্য সদস্য সংগ্রহ নয়, অন্য কিছু! মূলত প্রায় দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা
বিএনপির তহবিল তো অনেকটাই শূন্য। ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের হটকারিতায়
জনবিচ্ছিন্নতার কারণে মূলধারার রাজনীতি থেকে নির্বাসন দন্ড পাওয়া দলটির জনসমর্থন
যে তলানিতে ঠেকেছে! অদূরদর্শী নেতৃত্বের দায়ে জর্জরিত দলটির
নড়বড়ে অস্তিত্বের কারণে অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যতের শঙ্কার হতাশা থেকে দলের অধিকাংশ
নেতাই তো দীর্ঘদিন নির্ধারিত চাঁদাও দেন না। ফলে দলীয় কার্যালয়ের স্টাফদের
বেতন-ভাতা, সভা-সমাবেশ-সেমিনার করাসহ দল চালাতেই হিমশিম
খাচ্ছে বিএনপি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উদ্দেশ্যে সদস্য ফরম বিক্রি করে আর্থিক
দীনতা কিছুটা লাঘবের আশা করছে দলটি। প্রতিটি সদস্য ফরমের দাম রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। নতুন
সদস্যের পাশাপাশি যারা পুরনো আছেন তাদের সদস্যপদও নবায়ন করা হচ্ছে। অর্থাৎ এক কোটি
সদস্য ফরম বিক্রি করলে ১০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে। এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে
আর্থিক বুনিয়াদ শক্ত হওয়ার পাশাপাশি দল আরো বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে, আসবে
নতুন নতুন সদস্য। তাদের নাম ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বলিত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে
যাতে কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের সরাসরি যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হয়। এ সব গালভরা ইতিবাচক
কথাই বলা হচ্ছে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে। কিন্তু বাংলা ভাষার একটি প্রবাদ যে
আজও কার্যকর – কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকতে থাকতে
অবৈধ সম্পদের দুর্নিবার নেশা যাদের অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে
থাকায় জনগণের অর্থ লুন্ঠনের সুযোগ থেকে যারা বঞ্চিত তারা এবার লোভ সামলাতে পারবে
তো? নাকি নিজেদের নির্লজ্জতার সকল সীমা অতিক্রম করে হাত বাড়াবে তৃণমূলের
নেতাকর্মীদের তিল তিল অনুদানে গড়ে উঠা তহবিলটি লোপাটের জন্য?  এদের অতীত অপকর্মের তালিকা এতো দীর্ঘ যে, চুন
খেয়ে মুখ পোড়ানো মানুষের দই দেখে আঁতকে উঠার মতো অবস্থা হয়েছে! শঙ্কা বাড়িয়েছে শীর্ষ নেত্রীর আগামীতে দীর্ঘ বিদেশ যাত্রার শিডিউল। তার
ভ্রমণ ব্যয় যোগাড়ের মিশন নয় তো এই সদস্য সংগ্রহ অভিযান! কেননা
যে দলের অস্তিত্বই সংকটের মুখে সে দলের ১ কোটি সদস্য জুটবে, এটা কী পাগলেও বিশ্বাস
করবে? মাজেজাটি কী, সময়েই জানা যাবে – অপেক্ষা শুধু সত্য প্রকাশের সেই
মাহেন্দ্রক্ষণের।

 

 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None