স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে

 

হাজার
হাজার বছরের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক বাঙালি জাতিসত্ত্বা চূড়ান্তভাবে বিকশিত হয়ে
একটি গর্বিত আত্মপরিচয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে একাত্তরের রক্তস্নাত মহান স্বাধীনতা
সংগ্রামের ফলে স্বতন্ত্র, স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় পরিচয় বাংলাদেশ অর্জনের
মধ্য দিয়ে। সুপ্রাচীন কালে থেকেই এ জনপদের নানা বৈচিত্র ও বৈপরীত্য মানুষকে
বারংবার বিষ্মিত করেছে। হিউয়েন সাং, ইবনে বতুতার বিবরণ কিংবা মহাবীর আলেকজান্ডারের
সেই অমর উক্তি ‘সত্যি সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ’ এর মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে এর স্বীকৃতি। এতদঅঞ্চলের জন মানসে চেতনার
বৈপরীত্যের কারণেই পলাশীর আম্রকাননে স্বজাতির স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার সেই
মাহেন্দ্রক্ষণেও তাই চেতনার বৈপরীত্যের 
দৃশ্যায়ন হয়েছে – একদিকে যখন মীর মদন, মোহনলাল দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে
আত্মত্যাগ করেছে অন্যদিকে তখন ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তায় মীরজাফর, জগৎ শেঠরা বিদেশি
বেনিয়াদের কাছে স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়েছে অকাতরে। সময়ের পরিক্রমায় এ জনপদ আজও সেই
চরম বৈপরীত্যের ঘেরাটোপ থেকে মুক্তি পায়নি। অতীতের নানা কুশাসনে নাভিশ্বাস উঠা
জনতা যখন গণরায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়া স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির সময়োপযোগী,
দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে ক্রমশঃ দীর্ঘদিনের লালিত সোনার বাংলা বিনির্মাণের
স্বপ্নপূরণে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে দুর্বার গতিতে ছুটতে শুরু করেছে ঠিক তখনও এ
দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার আমাদের সেই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে প্রতিনিয়ত নানা
ছল-চাতুরী করে চলেছে। স্বার্থচিন্তায় তাড়িত এই গোষ্ঠির সীমাহীন লোভ আর ইতিবাচকতার
প্রতি সুতীব্র ঘৃণা এতোই প্রবল যে, প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধাচরণের জন্য তারা যেকোন
অপকৌশল অবলম্বনে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত নয়। তাদের সাম্প্রতিক আচরণ এতোই ব্রাত্য,
দেখে মনে পড়ে ‘নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ’র উপমা। সরকারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ঐ চিহ্নিত রাজনৈতিক অপগোষ্ঠি
বর্তমানে দেশ-বিদেশে সরকারকে বিতর্কিত করে ইমেজ সংকট তৈরির ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে
নিজেদের নেতা-কর্মীদেরকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করতে প্রতিনিয়ত প্ররোচিত করে চলেছে।
পাশাপাশি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুবিশাল কর্মযজ্ঞে গতিশীলতা আসায় অতীতের নানা
দুষ্কর্মের দায় থেকে নিষ্কৃতি পেতেও তাদের অনেক নেতা-কর্মী স্বেচ্ছা নির্বাসনে
রয়েছে। অন্যদিকে, এ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে অতীতে অর্জিত অবৈধ সম্পদের ভাগ-বাট‌োয়ারা
আর আন্তঃদলীয় কোন্দল নিরসনে তারা নিজেরাও অনেককে গুম-খুন করছে বলে অনুমিত। এ
রাক্ষসদের সর্বগ্রাসী মানসিকতায় সবই সম্ভব – স্বার্থের দ্বন্ধে এরা প্রিয় স্বজনকে
বলি দিতেও পিছ পা হয়না। চোরের মায়ের বড় গলা – এ প্রবচনকে সত্যি প্রমাণ করে এরাই
কিনা সম্প্রতি দেশব্যাপী গুম-খুন নিয়ে উচ্চকন্ঠ ভূমিকা নিয়েছে? সত্যি, রঙ্গ ভরা এ
বঙ্গে আজও চরম বৈপরীত্যের বসবাস। কী প্রবল উৎসাহে তারা গুম-খুনের তালিকা প্রকাশ
করছে, দেখলে বিষ্ময় জাগে! এদের কী দেশের সচেতন জনতার প্রজ্ঞা
আর মেধার প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধবোধও অবশিষ্ট নেই? হাঁটি হাঁটি, পা পা করে দেশের
গণমানুষের অভিজ্ঞতার ঝুলি আজ অনেক সমৃদ্ধ – তারা আপনাদের স্বরুপ জানে। জানে ঐ
অঘটনঘটন-পটিয়সী নেত্রীর মিথ্যাচার আর নেতিবাচকতার ইতিবৃত্ত, হিংসুক মানসিকতার
আত্মরম্ভিতাপ্রসূত কুটিলতা আর ষড়যন্ত্রের সাতকাহন।  তার বহুরুপী মানসিকতা আর ছলাকলায় বিভ্রান্তির
সাগরে হাবুডুবু খাওয়ার অতীতকে পেছনে ফেলে দেশ অনেকদূর এগিয়ে এসেছে। তাই গুম-খুনের
অর্ধসত্য তালিকা যেখানে অধিকাংশ ঘটনার পেছনে স্বেচ্ছা নির্বাসন, আত্মগোপন আর দলীয়
কোন্দলের কারণে কপিক্যাট ক্রাইমের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে সেই উদ্ভট তালিকাকে পুঁজি করে
গণরায়ে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে বিব্রত করা যাবে এ অনেকটাই কষ্ট
কল্পনা, তাদের অতীতের নানা হটকারিতার ধারাবাহিকতায় এক নতুন ছেলেমানুষী প্রয়াস।
জনবিচ্ছিন্নতার কারণে ক্ষমতার স্বাদ বঞ্চিত ঐ দলটির জন্য করুণা হয়, নানা মরিয়া
প্রয়াসে এরা নিজেদের আর কতো হাস্যকর করবে? এরা কবে বুঝবে, ষড়যন্ত্র করে জনমত পাওয়া
যায় না আর জনমত না পেলে গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে
যাবে।      

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)