এস কে সিনহা কী আইনের বাইরে?

পৃথিবীতে কেউই আইন বা নিয়মের বাইরে নয়। প্রধান
বিচারপতি এস কে সিনহাও তার বাইরে নয়। এ কারণেই সম্প্রতি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী
অবৈধ ঘোষণার রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্তব্য এবং রায় পরবর্তী বক্তব্যে প্রধান
বিচারপতির পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক মহল
থেকে শুরু করে আপামর জনতার পক্ষ থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। দেশের ভাবমুর্তি
রক্ষার্থে প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছে
দেশের সাধারণ শান্তিকামী মানুষ। তার অতীত ইতিহাস এবং বর্তমান কার্যকলাপ স্পষ্ট করে
তুলেছে তিনি একজন দেশদ্রোহী। তাকে অপসারণ করে যথাযথ বিচারের আওতায় আনা উচিত। শুধু
বাংলাদেশেই এরকম ঘটনা তা না, বিচারপতি নিয়ে বাংলাদেশের মতো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে
হয়েছে অনেক দেশকেই। দেশের সার্বিক দিক বিবেচনা করে অনেক দেশেই বিচারপতি সরানো
হয়েছে এমন নজির অপ্রতুল নয়। আবার কোথাও কোথাও
প্রধান বিচারপতিই সরে গেছেন সসম্মানে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- চলতি বছরের মে মাসেই
নেপালের প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকিকে বরখাস্ত করা হয়। সুশীলার বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছিল পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগে সরকারের আভ্যন্তরীণ কাজের পদ্ধতিতে তিনি হস্তক্ষেপ
করছিলেন। সরকার পুলিশের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে জয় বাহাদুর চান্দকে নিয়োগ দেয়।
কিন্তু আদালত নবরাজ সিলাওয়ালকে ওই পদে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে কংগ্রেসে
সর্বসম্মত ভোটে সুশীলাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার
প্রধান বিচারপতি শিরানি বন্দরনায়েকের বিরুদ্ধে স্পিকার চামাল রাজাপাকসে দুর্নীতি ও
সম্পত্তির হিসাব গোপন রাখার অভিযোগ আনেন। ২০১৩ সালে পার্লামেন্টে গণভোটে শিরানিকে
অভিসংশিত করা হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মহিন্দ রাজাপাকসে শিরানিকে অভিশংসিত করার
অনুমোদন দেন। ফিলিপাইনের ২৩তম প্রধান বিচারপতি রেনাটো করোনাকে বরখাস্ত করতে ২০১১
সালে সেদেশের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো আকুইনো প্রস্তাব দেন। করোনার বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছিল, তিনি আকুইনোকে উৎখাত করতে সাবেক
রাষ্ট্রপতি গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগালের আরিয়োর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। করোনাকে বরখাস্ত
করতে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয় এবং আকুইনো তাকে অভিশংসিত করতে সক্ষম হন।
বিচারব্যবস্থা ও সরকারের দ্বন্দ্ব নিয়ে দেশের মধ্যেকার অরাজকতার জন্য পাকিস্তান
বিখ্যাত। আর বিদেশেও পাকিস্তানিদের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে গোলমালের রেকর্ড আছে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার প্রধান বিচারপতি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আলি নওয়াজ
চৌহানকে উৎখাত করেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জামেহ। একই সঙ্গে তাঁকে ৭২ ঘণ্টা
সময় দেওয়া হয় দেশ ছাড়ার জন্য। গাম্বিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান সারজো ফোফানার বিরুদ্ধে
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল। এ মামলায় ইয়াহিয়া
ফোফানাকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ নাউরুর সরকার
প্রধান বিচারপতি পিটার লকে উৎখাত করেন। পিটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি সবসময়
মদ্যপ অবস্থায় থাকেন এবং কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। তাকে দেশে প্রবেশ করতে
দেওয়া হয়নি, সরাসরি
অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। বলাবাহুল্য, প্রধান বিচারপতি যতই ক্ষমতাধর হোক না
কেন দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া বা উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগে
জনগণের দাবির কাছে টিকতে পারেননি তারা। মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়
জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তাদের প্রতিনিধি হলেন সংসদ সদস্যরা। ফলে সিনহা সাহেবও তার
ধৃষ্টতার দায় এড়াতে পারবে না। আসল কথা হলো এ দেশ সাধারণ জনগণের, আর অবিমৃষ্যকারী
আচরণের জন্য এস কে সিনহাকে অপসারণের প্রত্যাশা কিংবা দাবিও জনগণের। 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None