ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ-কবজ ~ সৌরভ

আমাদের দেশে কতক পীর-ফকির, আলেম-জাহেল, কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত অনেকেই তাবিজ-কবচ, তাগা, কড়ি, সামুক, ঝিনুক ও গাছ-গাছালির শিকর-বাকর ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন এবং ইহা বৈধ ও জায়েজ মনে করেন। এ সম্পর্কে বাজারে কিছু বই পুস্তক পাওয়া যায়, সে সব বইয়ে নির্ধারিত বিষয়ে গ্রহণ যোগ্য কোন দলিল নেই, আছে কিছু মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনী, অসংখ্য তদবিরের বর্ণনা ও তার বানোয়াট ফাজায়েল। এ সব বই পড়ে কেউ কেউ বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, রোগ, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভের আশায় বিভিন্ন তদবির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয় ও তা গ্রহণ করে। তারা এ ধরণের চিকিৎসার মূল্যায়ন ও তার বৈধতা-অবৈধতা সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। আমি অত্র নিবন্ধের মাধ্যমে এ বিষয়টির তত্ত্ব ও স্বরূপ উদ্ঘাটন এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তার হুকুম বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছি।
এক. সাহাবি ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত :
ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺭﺃﻯ ﺭﺟﻼ ﻓﻲ ﻳﺪﻩ ﺣﻠﻘﺔ ﻣﻦ ﺻﻔﺮ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﻫﺬﻩ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺍﻫﻨﺔ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﺰﻋﻬﺎ ﻓﺈﻧﻬﺎ ﻻ ﺗﺰﻳﺪﻙ ﺇﻻ ﻭﻫﻨﺎ ﻓﺈﻧﻚ ﻟﻮ ﻣﺖ ﻭﻫﻲ ﻋﻠﻴﻚ ﻣﺎ ﺃﻓﻠﺤﺖ ﺃﺑﺪﺍ ) ﺃﺣﻤﺪ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ﻭ ﺣﺎﻛﻢ )
একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখে বললেন, এটা কি? সে বলল: এটা অহেনার অংশ। {অহেনার অর্থ এক প্রকার হাড়, যা থেকে কেটে ছোট ছোট তাবিজ আকারে দেয়া হয়।} তিনি বললেন: এটা খুলে ফেল, কারণ এটা তোমার দূর্বলতা বাড়ানো ভিন্ন কিছুই করবে না। যদি এটা বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তবে কখনও তুমি সফল হবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাকেম ও ইবনে মাজাহ) হাদিসটি সহিহ্।
দুই. উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি:
ﻣﻦ ﺗﻌﻠﻖ ﺗﻤﻴﻤﺔ ﻓﻼ ﺃﺗﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ﻭﻣﻦ ﺗﻌﻠﻖ ﻭﺩﻋﺔ ﻓﻼ ﻭﺩﻉ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ . ) ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺣﺎﻛﻢ )
‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ আহমদ, হাকেম।
তিন. উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন :
ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻗﺒﻞ ﺇﻟﻴﻪ ﺭﻫﻂ ﻓﺒﺎﻳﻊ ﺗﺴﻌﺔ ﻭﺃﻣﺴﻚ ﻋﻦ ﻭﺍﺣﺪ ﻓﻘﺎﻟﻮﺍ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺎﻳﻌﺖ ﺗﺴﻌﺔ ﻭﺗﺮﻛﺖ ﻫﺬﺍ ﻗﺎﻝ : ﺇﻥ ﻋﻠﻴﻪ ﺗﻤﻴﻤﺔ ﻓﺎﺩﺧﻞ ﻳﺪﻩ ﻓﻘﻄﻌﻬﺎ ﻓﺒﺎﻳﻌﻪ ﻭﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﻋﻠﻖ ﺗﻤﻴﻤﺔ ﻓﻘﺪ ﺃﺷﺮﻙ . ) ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺣﺎﻛﻢ )
‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম।
চার. একদা হুজায়ফা রাদিআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির হাতে জ্বরের একটি তাগা দেখতে পেয়ে তা কেটে ফেলেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন :
ﻭَﻣَﺎ ﻳُﺆْﻣِﻦُ ﺃَﻛْﺜَﺮُﻫُﻢْ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻢْ ﻣُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ ﴿106 ﴾ﻳﻮﺳﻒ : ١٠٦
তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়।’
{ইউসুফ : ১০৬} তাফসিরে ইবনে কাসির। এ থেকে প্রমাণিত হয়, সাহাবি হুজায়ফার মতে তাগা ব্যবহার করা শিরক।
পাঁচ. বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, আবু বশির আনসারি রাদিআল্লাহু আনহু কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী ছিলেন। সে সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে এ নিদের্শ দিয়ে পাঠালেন,
‘কোনও উটের গলায় ধনুকের ছিলা অথবা বেল্ট রাখবে না, সব কেটে ফেলবে।’
ছয়. আবু ওয়াহহাব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ﻭﺍﺭﺗﺒﻄﻮﺍ ﺍﻟﺨﻴﻞ ﻭﺍﻣﺴﺤﻮﺍ ﺑﻨﻮﺍﺻﻴﻬﺎ ﻭﺃﻛﻔﺎﻟﻬﺎ ﻭﻗﻠﺪﻭﻫﺎ ﻭﻻ ﺗﻘﻠﺪﻭﻫﺎ ﺍﻷﻭﺗﺎﺭ . ) ﺍﻟﻨﺴﺎﺉ )
ঘোড়া বেঁধে রাখ, তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দাও এবং লাগাম পরিয়ে দাও। তবে ধনুকের ছিলা ঝুলিয়ো না। সুনানে নাসায়ী।
সাত. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহর স্ত্রী জয়নব রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
একদিন আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বললেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা। এতে আমার জন্য ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া হয়েছে। তা নিয়ে তিনি কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :
ﺇﻥ ﺍﻟﺮﻗﻰ ﻭﺍﻟﺘﻤﺎﺋﻢ ﻭﺍﻟﺘﻮﻟﺔ ﺷﺮﻙ ) ﺃﺣﻤﺪ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ﻭﺣﺎﻛﻢ)
ঝাড়-ফুঁক, সাধারণ তাবিজ ও ভালোবাসা সৃষ্টির তাবিজ ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। [আহমদ, হাকেম, ইবনে মাজাহ]
আট. তাবেয়ি আব্দুল্লাহ বিন উকাইম সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ﻣﻦ ﺗﻌﻠﻖ ﺷﻴﺌﺎ ﻭﻛﻞ ﺇﻟﻴﻪ ) ﺃﺣﻤﺪ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ﻭﺣﺎﻛﻢ )
যে ব্যক্তি কোন কিছু ধারণ করবে, তাকে ঐ জিনিসের কাছেই সোপর্দ করা হবে।’ [আহমদ, তিরমিজি]
এ সব দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাবিজ ব্যবহার করা হারাম ও শিরক।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

শিরক-বিদাতে লিপ্ত আমাদের সমাজের মুসলিমদের আজ এমনি দূরাবস্থা যে দলীল প্রমাণ দিয়েও কাজ হয় না। আমার পরিচিত একজন তাবীয বিক্রি করে। তাকে অনেক বুঝিয়েও নিরস্ত করতে পারিনি। তার যুক্তিঃ অনেক আলেমওতো তাবীয বিক্রি করে, তারা কিভাবে বিক্রি করে? 

-

আবদুল আউয়াল

ভাইজান শিরক বিদয়াত আমাদের অস্থি-মজ্জায় মিশে গেছে।

ভালো পোষ্ট

তাবীয হারাম কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হলে জানতে হবে, বর্ণিত হাদীসগুলোতে যাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তারা কি কোরআনের আয়াত দিয়ে তাবিয গ্রহণ করেছিল, নাকি অন্য কিছু দিয়ে তাবিযগুলো তৈরি ছিল। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে শক্তির উৎস হিসেবে গণ্য করে, তবে তা অবশ্যই শিরক হবে। কিন্তু কোরআনের আয়াত তো আল্লাহরই কালাম, কোরআনকে আল্লাহই শেফা বলেছেন, তাই আল্লাহর আয়াতের একটা প্রভাবশালী ক্ষমতা থাকতেই পারে, এখানে তো আল্লাহকে পাশ কাটিয়ে অন্য কিছুর শরণাপন্ন হওয়া হচ্ছে না। যাহোক, হাদীসগুলোর প্রেক্ষাপট জানতে পারলে, অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে ব্যবহৃত তাবীযের প্রকৃতি জানতে পারলে বিষয়টা পরিস্কার হবে।
আর গাছগাছড়ার ব্যাপারে বলা যায়, গাছপালায় ঔষধি গুণ অবশ্যই আছে। গাছের লতাপাতা বা ফলমূলকে কখনো ওষুধ হিসেবে খাওয়া হয়, কখনো চামড়ার ক্ষতস্থানে লাগানো হয়, আবার কখনো বাইরে থেকে পেচিয়ে দিয়ে শরীরের ভিতরের ভাঙ্গা হাড় বা অন্য কোন অঙ্গ জোড়া লাগানো বা মেরামতের কাজ করা হয়। গাছপালা ও অন্যান্য সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে ঔষধী গুণ ও নিরাময় ক্ষমতা তো আল্লাহই দিয়েছেন, আল্লাহর হুকুম ছাড়া যা কাজ করে না। ঔষধ ব্যবহার করা শিরক নয়। আর ঔষধ হিসেবে গাছ বা যেকোন বস্তু সেবন, গ্রহণ ও ব্যবহার করা বৈধ।

ভূমিকা
ইসলামি জ্ঞান চর্চা হ্রাসের পাশাপাশি আমাদের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুসলিম পরিবার ও সমাজে দিন দিন লক্ষ্যণীয়ভাবে বিভিন্ন প্রকার বেদআত, কুসংস্কার, ইসলামের মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত জঘন্য আকার ধারণ করেছে ঝাড়-ফুক ও তাবিজাত। অনেক ক্ষেত্রে তাবিজাতের নামে যাদু চলছে। যারা যাদু শিখে, যারা যাদু করে এবং যারা যাদু করায় ওরা সবাই যে কাফের সে ব্যাপারে কারো দ্বি-মত নেই। কিন্তু তাবিজাত নিয়ে এখনো মুসলিম সমাজে প্রচুর সন্দেহ রয়েছে। এর প্রধান কারণ, এক শ্রেণীর মুসলমান ইসলামি পোশাক গায়ে দিয়ে ইসলামি চিকিৎসা পদ্ধতি বলে তাবিজাত করছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজাতের মহত্ত্ব বর্ণনা করে নকশে সোলেমানি, তাবিজাতে রুহুল্লাহ, মোহাম্মদী খাবনামা ইত্যাদি প্রচুর বই ইতোমধ্যে এক শ্রেণীর তাবিজ ব্যবসায়ীরা লিখে বাজারে বিক্রি করছেন। এই সমস্ত বই-এ তাবিজের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে এমনভাবে কিছু কেচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে যা পাঠ করলে ইসলাম সম্পর্কে স্বল্পজ্ঞানী মুসলিম সমাজ বিশেষ করে মহিলা শ্রেণী বিভ্রান্ত হওয়ারই কথা-আর তা হচ্ছেনও। তাবিজ সম্পর্কে ইসলামের রায় কী? তা আমরা অনেকেই জানি না। বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় এ সম্পর্কে বিভিন্ন বই প্রকাশিত হলেও আমাদের বাংলাদেশী আলেম সমাজ রহস্যজনকভাবে নিরবতা প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এ সবের সাথে জড়িতও আছেন। অনেকে আবার এটাকে ব্যবসা হিসেবেও গ্রহণ করে নিয়েছেন। তবে হক্বানী আলেম সমাজ নিরবতা প্রদর্শন করলেও এসব থেকে পরহেজ করছেন বলে আমাদের ধারণা। পারিবারিকভাবে আমরা এ সবের প্রতি কোনদিনই আকৃষ্ট নই। মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে আমাদের যে পরিবার তাতে আমরা সবাই ধর্মের ব্যাপারে আপোষহীন, গোটা সমাজের অধিকাংশ মুসলমান যেখানে তাবিজাতকে ধর্মের অংশ মনে করছে সেখানে আমরা কেন আকৃষ্ট হতে পারছি না? এই প্রশ্ন এক সময় জাগ্রত হলো বিবেকে। তাই কুরআন-হাদিসে খুঁজতে লাগলাম তাবিজাতের ভিত্তি। খুঁজতে গিয়ে যা পেয়েছি তা বাঙালি পাঠকদের সামনে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এই লেখা।
সম্মানিত পাঠক, এটা কোন ফতোয়া নয় তবে চিন্তার খোরাক। আপনি পড়ুন, পর্যালোচনা করুন, খুঁজে দেখুন সত্য-মিথ্যার অধ্যায়গুলো। এরপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
তাবিজাত কী?
আরবি ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, ‘তামীমা’....শব্দ থেকে এসেছে তাবিজ। আবার অনেকে বলেছেন ‘তামীম ’...শব্দ থেকে। বাস্তবে এই দু’শব্দের অর্থ এক। আভিধানিক অর্থ হচ্ছে-হেফাজত, পৃষ্ঠপোষক, রক্ষণ করা বা Protection. (তথ্য: ‘লেসান’ নামী অভিধানও ফিরুজুল লোগাত)।
বিশিষ্ট ইসলামি দার্শনিক হযরত ইবনে জোনাই (রা.) বলেছেন, ‘তামীমা’ (তাবিজ) হচ্ছে ঐ জিনিস যা তাগায় বেঁধে লটকানো হয়। বিশিষ্ট মুফাসসির আল্লামা ইবনে হাজর (রা.) বলেছেন, ‘তামীমা হচ্ছে তাবিজ বা হাড় যা মাথায় লটকানো হয়। ইসলামপূর্ব জাহেল যুগের মানুষের বিশ্বাস ছিলো যে, তাবিজ দ্বারা মানুষের বিপদ-আপদ দূর হয়ে যায়। আল্লামা ইমাম ইবনুল আসীর (রা.) বলেছেন, ‘জাহেল যুগের আরবগণ শিশুদের গলায় তামীমা অর্থাৎ তাবিজ লটকাতো যাতে বদনজর না লাগে। এটা তাদের বিশ্বাস ছিলো, অতঃপর ইসলাম তাদের এই বিশ্বাসকে ভ্রান্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে।
(তথ্য: আকিদার মানদণ্ডে তাবিজাত, আল্লামা আলী বিন নাফায়ী আল্ উলাইয়ানী)
মানুষ তাবিজ কেন ব্যবহার করে?
তাবিজ ব্যবহারের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মানুষ সাধারণত তিনটি উদ্দেশ্যে তাবিজ ব্যবহার করে থাকে।
এক. ঐ সমস্ত রোগ, বদনজর ও বিপদাপদ থেকে রা পাওয়ার আশায় যা এখনো সংগঠিত হয়নি।
দুই. বিপদ এসে গেলে তা থেকে মুক্তি লাভের আশায়।
তিন. কোন অসৎ কিংবা সৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের আশায়।
অতীত ও বর্তমানে ব্যবহৃত তাবিজাত
অতীত ও বর্তমানে ব্যবহৃত তাবিজগুলো বেশ কয়েক প্রকার রয়েছে। যেমন:
১.........আননাফরা, এটা এই প্রকারের তাবিজ যা জ্বীন ও মানুষের বদনজর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিশুদের হাত, পা, কিংবা গলায় বেঁধে দেয়া হয়। আবার কখনো অপবিত্র জিনিস দিয়ে এই তাবিজ অতীতেও লেখা হতো এবং বর্তমানেও হয়ে থাকে। যেমন-ঋতুস্রাবের নেকড়া, হাড় এবং কালো মুরগীর রক্ত ইত্যাদি। অথচ অপবিত্র জিনিস দিয়ে কুরআন স্পর্শ করা সম্পূর্ণ হারাম।
২. ........আকরা, যা মহিলাদের বাচ্চা না হলে কোমরে বাঁধার জন্য দেয়া হয়।
৩...........ইয়ান জালিব, যা দেয়া হয় স্বামী রাগ করলে কিংবা কোথাও রাগ করে চলে গেলে তাকে স্ত্রীর প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং ফিরিয়ে আনতে।
৪.............তিওয়ালা;
৫.............কারজাহলা;
৬..............দারদাবীস;
৭.............কাহলা;
৮.............কারার;
৯. ..........হামরা
চার নম্বার থেকে নয় নম্বার পর্যন্ত যে তাবিজাতের নাম বলা হলো এগুলো হচ্ছে-ফুর্তিজাতীয় তাবিজ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহৃত হয়। ‘কারার’ এবং ‘হামরা’ তাবিজে নির্দিষ্ট একটি মন্ত্র লেখা হয়, যা শিরক পর্যায়ের। যেমন বলা হয় : ‘ইয়া কারারু কারিহি, ইয়া হুমারাতি ইহমারিহি, উন উকবালা ফাসারিয়াতি ওয়া উন আদবাবা ফাদাবিহি মিন ফারজিহি ইলা ফি-হী।’ এ মন্ত্রে আল্লাহর ‘রাবুবিয়্যাত’ ও ‘ইলাহিয়াতের’ সাথে শিরক করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে শিরক থেকে রা করুন।
১০..............খাছম্, যা রাজা-বাদশা বা বিচারকের সামনে যাওয়ার সময় মামলায় জিতার জন্য আংটির নিচে, জামার বোতামে অথবা অস্ত্রের কভারে লটকানো হয়।
১১..............আত্ফ, মানুষের দয়া-মায়া পাওয়ার আশায় ব্যবহার করা হয়।
১২..............সালওয়ানা। সাদা ফুর্তিজাতীয় বস্তু দ্বারা তৈরি তাবিজ। বালুতে পুঁতে রাখলে কাল হয়ে যায়। অতঃপর সেখান থেকে উঠিয়ে ধৌত করে অস্থির মানুষকে পানি পান করানো হয় শান্তি ফিরে পাওয়ার আশায়।
১৩. ...........কাবলা, বদনজর থেকে বাঁচার জন্য সাদা পুঁতি দিয়ে তৈরি এ তাবিজ ঘোড়ার গলায় বেঁধে দেয়া হয়।
১৪.............অদাআ, এটা পাথরের তাবিজ, বদনজর থেকে হেফাজতের উদ্দেশ্যে তা সমুদ্রে নিপে করা হয়।
১৫............তাহবীতা, যা লাল ও সাদা রংয়ের তাগার ছিগা তুলে মহিলাদের কোমরে বাঁধা হয় যাতে বদনজর না লাগে।
১৬. এক প্রকারের তাবিজ আছে যা যাদু ও বদনজর থেকে বাঁচার জন্য খরগোশের হাঁড় ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও আরো বহু প্রকারের তাবিজ আছে, ইসলাম পূর্বযুগে এ সব তাবিজ জাহিলেরা যেভাবে ব্যবহার করতো আজ তের-চৌদ্দশত বছর পরও মুসলিম সমাজে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে লণীয়ভাবে। ইতিমধ্যে অনেকে এই তাবিজাতকে পেশা হিসেবেও গ্রহণ করে নিয়েছেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এই সমস্ত তাবিজ ব্যবসায়ীদের বিরাট-বিরাট বিজ্ঞাপনও দেখা যায়। অনেকে আবার বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে জ্বীন সাধনার কথা উল্লেখ করেন। কেউ কেউ আবার স্বপ্নে পাওয়া হাবি-জাবির কথা বলে মানুষকে আকৃষ্ট করতে চান। হুজুর সায়দাবাদী, দেওয়ানবাগী, দায়রা শরিফ ইত্যাদি তাবিজ ব্যবসায়ীদের বিজ্ঞাপন পড়লে কে-না আকৃষ্ট হয়।
তাবিজাত এক প্রকারের শিরক নয় কি?
আমরা যারা রোগমুক্তি, বদনজর ও বিপদ-আপদ থেকে রা পাওয়ার জন্য কিংবা কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাবিজ ব্যবহার করে থাকি তাদের স্মরণ রাখা উচিৎ যে সকল কারণে তাবিজ ব্যবহার করা হয় এর একটিও পূর্ণ করার শক্তি না আছে তাবিজের, না তাবিজ লেখেকের। যদি কেউ তাবিজ কিংবা তাবিজ লেখকের শক্তি আছে বলে বিশ্বাস করেন তাহলে তার ঈমান ধ্বংস হয়ে যাবে। পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে-
‘তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা কর, যদি মুমিন হয়ে থাক।’ (সুরা: মায়েদা-২৩)
এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট যে, আল্লাহ ছাড়া কোন কিছুর উপর ভরসা করলে ঈমানদার হওয়া যায় না।
‘আল্লাহ তোমাদেরকে কেশ দান করলে তিনি ছাড়া মোচনকারী কেউ নেই।] (সুরা: আন্-আম-১৭)
‘তাদের অধিকাংশ আল্লাহে বিশ্বাস করে কিন্তু আবার তার সাথে শরীক করে।’ (সুরা: ইউসুফ-১০৬)
এ রকম আরো অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যা পড়লে স্পষ্ট বুঝা যায় তাবিজের উপর বিশ্বাস বা ভরসা করা শিরক। অনেকে বলেন-বিশ্বাস তো আল্লাহর উপর আছে কিন্তু তাবিজ হচ্ছে একটা উসিলা বা মাধ্যম। মুসলমানদের বুঝা উচিৎ আমরা এমন শক্তিধর আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি, যিনি মাধ্যম ছাড়া সকল সৃষ্টির মঙ্গল-অমঙ্গল করতে পারেন।
তাবিজাত যে র্শিক সে সম্পর্কে হাফেজ ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসীর (রা.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত এবং সর্বজন স্বীকৃত ‘তাফসীর-এ-ইবনে কাসীর’-এ সুরা ইউসুফের ১০৬ নম্বার আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ‘এ কথা স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, কতকগুলি শির খুবই হালকা এবং গোপনীয় হয়। স্বয়ং শিরককরীও তা বুঝতে পারে না। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত হুযাইফা (রা.) একজন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যান। সেই ব্যক্তির হাতে একটি সুতা (যাকে তাগা বলা হয়) বাঁধা ছিলো। তিনি ওটা ছিড়ে ফেলে বললেন, ‘মুমিন হয়েও শিরক করছো?’ (তাফসিরে ইবনে কাসীর)।
আল্লামা ইবনে কাসীর (রা.), হযরত হুযাইফা (রা.) থেকে যে কথা বর্ণনা করেছেন তা অবশ্যই হুযাইফা (রা.)-এর মনগড়া ছিলো না। রাসুল (সা.)-এর সাহাবিগণ (রা.) ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে মনগড়া কথা বলতেন না, বরং রাসুল (সা.) যা বলতেন তা তারা প্রচার করে গেছেন।
তাবিজাত সম্পর্কে হাদিসে রাসুল (সা.)-এর ভাষ্য
ইসলামের ভিত্তি কোন ব্যক্তি কিংবা জাতি নয়। ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে কুরআন ও হাদিস। আজকে মুসলিম সমাজে যারা ইসলামি পোশাক গায়ে দিয়ে তাবিজ ব্যবসা করছেন এবং তাবিজাতকে বৈধ করতে বিভিন্ন প্রকার যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন তাদের বক্তব্যকে আমাদের বুঝতে হবে, ইসলামি বিধান অনুসারে পর্যবেণ করতে হবে। কোন জিনিস বা কর্ম ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কিনা, তা পর্যবেণ করতে হলে প্রথমে তা সরাসরি কুরআনে খুঁজতে হবে। যদি কুরআনে না পাওয়া যায় তাহলে হাদিসে। যদি হাদিসেও স্পষ্ট পাওয়া না যায় তাহলে সাহাবায়ে কেরামদের জীবনীতে। যদি এখানেও স্পষ্ট না পাওয়া যায় তাহলে কিয়াসের যোগ্যতাসম্পন্ন উলামায়ে কেরাম কুরআন, হাদিস এবং সাহাবাদের জীবনকে সামনে রেখে মতামত দিবেন। তাবিজাত সম্পর্কে জানতে আমাদের এতটুকু যেতে হচ্ছে না। কুরআনে এ সম্পর্কে ইশারা এবং হাদিসে স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে, শুধু অভাব আমাদের জানার। আমরা এ সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিসের দিকে দৃষ্টিপাত করলে বুঝতে পারবো তাবিজাত কতটুকু ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। পাঠকের সুবিধার্থে নিম্নে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো-
১. বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর স্ত্রী হযরত যয়নাব (রা.) বলেন, ‘আমার স্বামী হযরত আব্দুল্লাহ বাহির থেকে বাড়িতে প্রবেশ করতে গলা খাঁকড়াতেন এবং থু থু ফেলতেন। কারণ যাতে বাড়ির লোকেরা তাঁর আগমনের সংবাদ পায় এবং তাদেরকে তিনি এমন অবস্থায় না দেখেন যা তাঁর অপছন্দনীয়।’ এটা তাঁর প্রতিদিনের অভ্যাস ছিলো। অভ্যাস অনুযায়ী একদিন তিনি এমনভাবে বাড়িতে প্রবেশ করলেন। এই সময় আমার কাছে এক বুড়ি ছিলো, সে আমার রোগের জন্য ঝাড়-ফুঁক দদিতেএসেছিলো। আব্দুল্লাহ্ (রা.)-এর গলার আওয়াজ শোনে আমি বুড়িকে চৌকির নিচে লুকিয়ে দেই। তিনি ঘরে এসে আমার পাশে চৌকির উপর বসেন এবং আমার গলায় তাগা দেখে জিজ্ঞেস করেন এটা কী? উত্তরে বললাম এটা আমি ঝাড়-ফুঁক করিয়ে গলায় বেঁধেছি। সাথে সাথে তিনি তা ছিড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন-‘আব্দুল্লাহ্ ঘর শিরকের অমুখাপেক্ষি স্বয়ং আমি রাসুল (সা.)কে বলতে শোনেছি যে-
` ঝাড়-ফুঁক, তাবিজাবলী এবং ডোরা-সুতা বাঁধা শিরক।
(মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, হাকেম, ইবনে মাজা)
২. হযরত ইমরান বিন হোসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস-
অর্থ: একদিন রাসুল (সা.) এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখতে পেয়ে বললেন, এটা কী? সে বললো-এটা ওয়াহেনার অংশ (ওয়াহেনা হচ্ছে এক প্রকারের হাড় যা কেটে ছোট ছোট করে তাবিজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়)। তিনি বললেন, এটা খুলে ফেল। কারণ, এটা তোমার দুর্বলতাকে বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না। যদি এই তাবিজ বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয় তাহলে কখনো সফলকাম হবে না। (সহীহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম ইবনে মাজা)
৩. হযরত উকবা বনি আমের (রা.) বলেন, আমি স্বয়ং রাসুল (সা.)কে বলতে শোনেছি-
অর্থ: যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করবে আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দিবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে আল্লাহ তাকে মঙ্গল দিবেন না। (মাসনাদে আহমদ, হাকেম)
৪. হযরত উক্বা বিন আমের আল-জোহানী (রা.) থেকে বর্ণিত-: একদিন রাসুল (সা.)-এর খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হলো। অতঃপর হুজুর দলের নয়জনকে বয়াত করলেন, কিন্তু একজনকে করলেন না। তারা বললেন, হে রাসুল (সা.) নয়জনকে বয়াত করালেন আর একজনকে বাদ রাখলেন? রাসুল (সা.) বললেন, তার সাথে একটি তাবিজ রয়েছে। তখন তাঁর হাত ভেতরে ঢুকালেন এবং তাবিজ ছিড়ে ফেললেন। অতঃপর তাকেও বয়াত করলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করলো সে শিরক করলো। (মাসনাদে আহমদ, হাকেম)
৫. হযরত ঈসা বিন আব্দুর রহমান বর্ণনা করেন যে-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওকাইম (রা.) অসুস্থ ছিলেন। আমরা তাকে দেখতে গেলাম। তাঁকে বলা হলো আপনি কোনো তাবিজ-কবজ নিলেই তো সুস্থ হয়ে যেতেন।
তিনি বললেন : আমি তাবিজ ব্যবহার করবো! অথচ এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন-`যে ব্যক্তি কোনো কিছু রাকবচ ধারণ করবে, তাকে ঐ জিনিসের কাছে সোপর্দ করা হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাকেম, তিরমিজী)
এভাবে তাবিজাতের বিরুদ্ধে মহানবি (সা.)-এর প্রচুর হাদিস বা উক্তি রয়েছে। হাদিসে রাসুল (সা.) যেখানে স্পষ্ট তাবিজ-কবচের বিরুদ্ধে বক্তব্য সেখানে এক শ্রেণীর মানুষ কোন সাহসে ইসলামের দোহাই দিয়ে তাবিজ-কবচ ব্যবহার করেছেন এবং যারা বড় বড় সাইনবোর্ড, বিজ্ঞাপন, পোস্টার এবং মাইক দিয়ে প্রচার করে তাবিজ-কবচের ব্যবসা করছে ওদের বিরুদ্ধে উলামায়ে ইসলাম কেন জনসাধারণকে সচেতন করতে এগিয়ে আসছেন না। মাজারে গিয়ে কোন কিছু প্রার্থনা করা যেমন পাপ তেমনি তাবিজের মাধ্যমে কিছু প্রাপ্তির আশাও পাপ।

রসূলুল্লাহ (সা:)-এর আবির্ভাবের সময় যে সমস্ত তাবিজ প্রচলিত ছিল, তা সবই ছিল দেব-দেবি বা অন্যকিছুর নামে করা তাবিজ। অতএব, এখানে বর্ণিত হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনাই অধিক যে, রসূলুল্লাহ (সা:) যে সমস্ত তাবিজের ব্যবহার হতে দেখে নিষেধ করেছিলেন, তা ছিল শিরকী তাবিজ।
বর্তমান যুগে যারা তাবিজের কারবার করে, তারা অবশ্য সব ধরনের তাবিজই ব্যবহার করে থাকে। তাবিজ বা ঝাড়ফুকের কাজে তারা একদিকে যেমন দেবদেবির নাম এবং মানুষ বা যেকোন সৃষ্টবস্তুর নাম ব্যবহার করে, অন্যদিকে আবার কোরআনের আয়াতও ব্যবহার করে থাকে। তাবিজের ব্যবহার সৎ কাজে যেমন করে থাকে, তেমন আবার অসৎ কাজেও করে থাকে। আমার মতে, যদি উদ্দেশ্য সৎ হয় এবং শুধু কোরআনের আয়াত দিয়ে করা হয়, তাহলে তা হারাম বা শিরক হবার কারণ নেই।

One of our brothers/sisters has asked this question:
In the Subcontinent, many people wear tabeez. I have heard and believe this to be shirk. Could you please verify and tell me if wearing tabeez is shirk, and if so, why is it so?
Thank You
May Allah Bless You
(There may be some grammatical and spelling errors in the above statement. The forum does not change anything from questions, comments and statements received from our readers for circulation in confidentiality.)
Answer:
Taaweedh amulet
In the name of Allah, We praise Him, seek His help and ask for His forgiveness. Whoever Allah guides none can misguide, and whoever He allows to fall astray, none can guide them aright. We bear witness that there is no one (no idol, no person, no grave, no prophet, no imam, no dai, nobody!) worthy of worship but Allah Alone, and we bear witness that Muhammad (saws) is His slave-servant and the seal of His Messengers.
The Messenger of Allah (saws) strictly forbade the believers to wear any sort of taaweedh or amulet on any part of their body. Anyone who does wear a taaweedh or an amulet, starts seeking his trust and help from this taaweedh, rather than putting his full life and trust in the Lord of the Worlds!
Guidance is to worship, invoke, believe and keep ones full and unconditional trust in none but Allah Subhanah, the Lord of the Heavens and the earth and all that exists in between!
If a believer, who sincerely believes in Allah and the Last Day, seeks any protection for anything in life,
all he has to do is seek refuge in Allah and supplicate Him for all His needs. For Allah Alone is the Owner of All Strength and Power; and no harm or no trouble can come to anyone without the permission of Allah Subhanah. Therefore, a believer must put his full and unconditional Trust in none but Allah Subhanah Alone.
Allah says in the Holy Quran Chapter 3 Surah Ale Imraan verse 160:
If Allah helps you none can overcome you: if He forsakes you who is there after that that can help you? In Allah then let believers put their trust.
Allah says in the Holy Quran Chapter 33 Surah Ahzaab verse 3:
And put your trust in Allah Alone; and enough is Allah as a Disposer of affairs.
Allah says in the Holy Quran Chapter 9 Surah Taubah verse 51:
Say: "Nothing will happen to us except what Allah has decreed for us: He is our Protector"; and on Allah let the believers put their trust.
Uqbah ibn 'Amir narrates that the Messenger of Allah (saws) said: "If anyone wears an amulet (taaweedh), may Allah not help him in fulfilling his wish. If anyone wears a sea-shell around his neck, may Allah give him no peace."
Narrated by Ahmad and Al-Hakim.
An amulet (tamimah, taaweedkh, etc.) is a string of shells or beads that the Arabs used to put around their children's necks, believing that it would protect them from the evil eye. Islam absolutely abolished this and all other superstitious practices.
The Messenger of Allah (saws) called it a manifest form of shirk and invoked the curse of Allah upon those who wore a taaweedh seeking its protection.
It is reported from Ibn Mas'ud that once, when he entered his home, he noticed his wife wearing a knotted object round her neck. He took it away and broke it. Then he remarked: 'The family of Abdullah has become so arrogant that they now associate with Allah those for whom He has sent down no authority.' I have heard the Messenger of Allah (saws) saying: 'Verily, incantations, amulets, and love charms are acts of shirk (associating gods with Allah).' The people said: 'O Abu Abdullah! We are familiar with incantations and amulets, but what is a love charm (altawlah)'?' He replied: 'It is a sort of magical formula by which women sought to gain their husbands' love'." (Related by Al-Hakim and Ibn Hibban).
Imran ibn Hasin reports that the Messenger of Allah (saws) saw a man wearing a bracelet of copper on his arm. The Prophet (saws) exclaimed to him: 'Woe be to you!' What is this? ' The man replied: 'I am suffering from weakness (al-wahinah).' (Al-wahinah is a disease that causes pain in the shoulders and hands. The man was wearing a copper bracelet believing it would relieve his pain and suffering).
The Prophet (saws) prohibited him from wearing it because he regarded it as an amulet. The Prophet (saws) said: 'It will give you nothing but pain.
Throw it away. Had you died while wearing it, you would never have achieved salvation! (ie. you would have died in the state of the unforgivable sin of shirk'" (Narrated by Ahmad)
Isa ibn Hamza said: I went to see Abdullah ibn Hakim and his face was red due to high fever. I said to him: 'Why don't you use an amulet?' He said: 'We seek refuge with Allah from it. The Messenger of Allah (saws) said: "Whoever wears anything as an amulet will be entrusted to it".
(Narrated by Abu Daw'ud)
Whatever written of Truth and benefit is only due to Allahs Assistance and Guidance, and whatever of error is of me. Allah Alone Knows Best and He is the Only Source of Strength.
Your brother and well wisher in Islam,......... collected

হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর ঘরে একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখলেন যে, তার প্রতি জিনের বদনজর লেগেছে। তখন তিনি বলেন, একে অমুকের কাছ থেকে ঝাড়ফুঁক করিয়ে নাও, এর বদনজর লেগেছে। (বুখারী, মুসলিম)
অবশ্য তাবিজ ও ঝাড়ফুকের কাজটি যদি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে করা হয়, অথবা কোরআনের আয়াত ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে ইসলামের সত্য আকীদার পরিপন্থী শেরেকী বা কুফরী বাক্যের দ্বারা করা হয়, তাহলে তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত নেই।
কোরআনের আয়াত ছাড়াও ইসলামী আকীদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোন বাক্য তাবীজ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়াটা দোষণীয় বলে মনে হয় না। হযরত ওমর (রা:) নীল নদের কাছে পত্র লিখেছিলেন: "হে নদ! যদি তুমি আল্লাহর হুকুমে প্রবাহিত হয়ে থাক, তাহলে তাড়াতাড়ি প্রবাহিত হও। আর যদি শয়তানের হুকুমে প্রবাহিত হয়ে থাক, তাহলে তোমার আর কোনদিন প্রবাহিত হবার দরকার নেই।" খলীফার পত্রটি নদীতে নিক্ষিপ্ত হওয়া মাত্র নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়।
"যে বক্তি সূরা বাকারার প্রথম চার আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও তার পরের দু'আয়াত এবং সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত পড়বে, সেদিন তার কাছে শয়তান আসবে না, তার বাড়ির লোকজনদের কাছেও আসবে না, তার পরিবার-পরিজনদের কোন অনিষ্ট হবে না এভং তার ধন-সম্পদেরও কোন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। এই আয়াতগুলি কোন পাগলের উপর পড়লে তারও ফায়দা হবে।" (সুনানু দারিমী, ফাযায়িলুল কোরআন)
এ থেকে বোঝা গেল, কোরআনের আয়াত দ্বারা পাগলের চিকিৎসা করা বৈধ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)