যুদ্ধ

প্রতিবছর গড়ে ৮ লক্ষ লোক সুইসাইড করে। এটি গোটা পৃথিবীতে যেসব কারণে মানুষের মৃত্যু হয় তার মধ্যে উপরের দিক থেকে ১৭তম কারণ।
এইডসে প্রতিবছর যত লোক মারা যায় তার চাইতে ৩ গুণ বেশী মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে সুইসাইড করে।
প্রতি চল্লিশ সেকেন্ডে কেউ না কেউ দুনিয়ার কোন এক প্রান্তে সুইসাইড এটেম্পট করে জীবন থেকে পালাতে। ইউরোপে এক সময় সুইসাইড কে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে দেখা হতো। যদিও এখন তা আর হয়না।
নিম্বোক্ত কারণে সুইসাইড মানুষ বেশী করে। এ কারণগুলোকে আপনি সুইসাইড এটেম্পট করতে যাওয়া মানুষের সিম্পটম হিসেবেও দেখতে পারেন।
১. তারা ডিপ্রেসড: মোস্ট কমন রিজন অফ সুইসাইড। ডিপ্রেসড যে কোন কারণে হতে পারে।
১. স্টাডি ব্যার্থতা
২ . বেকারত্ব
৩. আর্থিক সমস্যা
৪. পারিবারিক কলহ
৫. একাকি কৈশোরকাল
৬. বন্ধুবিহীন জীবন।
৭. ভালোবাসায় প্রতারিত।
২. তারা সাইকোটিক: অনেক সুইসাইড ভিক্টিমের কেস স্টাডি করে দেখা গেছে। তারা তাদের সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে বলেছে তাদের ভেতর থেকে কেউ একজন তাদের কে সুইসাইড করতে সাজেস্ট করে। আ ইনার ভয়েস। যেন সারাক্ষণ কানের কাছে বলে।
" সুইসাইড করো ,সুইসাইড করো। তোমার কেউ নেই। "
এটা মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার থেকে হতে পারে। যে তার মধ্যে দুই ধরণের পার্সোনালিটির যুদ্ধ চলছে। দুই পার্সোনালিটির ভয়েস দুইটা।
৩. তারা মেজাজি: তাদের মেজাজ খুব আপডাউন করে। মুড সুইং করে ফাস্ট। খুব ভাল মুড থেকে খুব খারাপ মুডে চলে যায়। আবার খারাপ থেকে ভাল মুডে সুইং হতেও সময় লাগেনা। তাদের মধ্যে বেশীরভাগ এলকোহলিক এবং স্লিপিং পিলে আসক্ত।
আত্মীয় স্বজন সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলে। অন্ধকার ঘরে বসে থাকতেই পছন্দ করে। সম্ভবত রাত জাগে। নিজের পোশাকের ব্যাপারে খুব একটা যত্নবান না।
৪. তারা মৃত্যুর মাঝে দর্শন খুঁজে পায়:
অনেক সুইসাইড ভিক্টিম মৃত্যুটাকে ফিলোসফিকালি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। আত্মহনন তাদের কাছে সেলফ গ্লোরিফিকেশনের সর্বোচ্চ সোপান। বিষণ্ন কবিতা ,মৃত্যু সম্পর্কীয় মুভি ,কবিতা ,গল্প ইত্যাদি বলতে ভালোবাসে। সুইসাইড নিয়ে রোমান্টিসিজমে ভোগে।
একজন সুইসাইড করতে যাওয়া মানুষ মোটামুটি এইসব কারণে সুইসাইড করে। সিম্পটমও শো করে এইগুলা।
এখন কিভাবে নিজে বাঁচবেন আর আপনজন কে ফেরাবেন সুইসাইডের পথ থেকে।
একটা সময় ছিল মেন্টাল হেলথ বা মানসিক স্বাস্থ্য কে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হতোনা। সাইক্রিয়াটিস্ট
দের ডিমান্ডও ছিলো কম।
কিন্তু আধুনিক এই যুগে মেন্টাল হেলথ ফিজিক্যাল হেলথের মতই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
আপনার প্রিয়জনের মাঝে ডিপ্রেশন দেখলে আর সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি দেখলে আজই সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে তাকে নিয়ে যান।আমাদের দেশে সাইকি শুনলে পাগলের ডাক্তারের কাছে যাব বলে নাক সিটকায়।
দিস ইজ নট রাইট।
ডিপ্রেশন ইজ আ ডিজিজ। এটা কিউর করার জন্য মনের ডাক্তারের দরকার্। সাইক্রিয়াটিস্টই পারবে আপনাকে হেল্প করতে।
সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে ,
যদি আপনার সন্তান আপনার কাছে এসে বলে
" আমার না ইদানিং হতাশ লাগে। একা লাগে। "
তাদের সেই কথাকে টিন এজের পাগলামী বলে উড়িয়ে দিবেন না। তাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন। তাদের মধ্যে পরিবর্তনগুলো লক্ষ করুন।
তাদের খারাপ সময়ে তাদের কাঁধে আস্থার হাত রাখুন।
ও ডিপ্রেশনে ভোগা অসহায় মানুষগুলোকে কখনোই এটা ফিল করতে দিবেন না ,যুদ্ধটা তার একার্। তাকে অনুভব করান যুদ্ধটা সবাই মিলেই করছি।
আপন জন কে কখনোই একা হতে দিবেন না। কারণ আপনজন হারালে আর ফেরে না।

(ওয়ারিশ আজাদের লেখা থেকে)

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None