পরিকল্পিত হত্যাকান্ড নয় কি?

 

দেশের সামরিক বাহিনী অন্যতম অংশ হচ্ছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ
সেনাবাহিনী বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে দক্ষতায় এগিয়ে। দেশে-বিদেশে আমাদের
সেনাবাহিনীর বেশ সুনাম রয়েছে। বিভিন্ন বিদেশী পুরস্কারও জিতেছে আমাদের সেনাবাহিনী।
আর এ রকম একটি বাহিনীর এলাকায় এ ধরণের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। এটাকে পুঁজি করে
গণজাগরণ মঞ্চের মত কিছু দুষ্টু চক্র সেনাবাহিনীকে নিয়ে অপপ্রচার করতে মরিয়া, কেন তাদের
এই আচরণ? সেনাবাহিনী তাদের কি ক্ষতি করেছে? কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাঁরা উঠে পড়ে
লেগেছে? সেনাবাহিনীকে হেয় করার অর্থ দেশের সার্বভৌমত্তকেও হেয় করা। সেনাবাহিনী তথা
সামরিক বাহিনীই দেশের সার্বভৌমত্ত রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ভিসেরা রির্পোটে ধর্ষনের
আলামত নেই, মিডিয়া ছবি ছেপেছে সেটাও নকল। কেন এই একটি হত্যাকান্ড নিয়ে এত প্রচার
প্রসার। এর থেকেও তো অনেক নৃশংস ধর্ষন ও হত্যাকান্ড হয়েছে, তাতে গণজাগরণ মঞ্চ ও
তাদের দোসরা কোথায় ছিল? আমরা চাই প্রত্যেকটি অপকর্মের সঠিক বিচার, সেটা অন্যের
ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নয়।

আপনার রেটিং: None
সেনাবাহিনীর প্রতি বামপন্থীদের বিদ্বেষ নতুন কিছু নয়। সেনাবাহিনীবিরোধী প্রচারণা তাদের বহু পুরানো। ছোটবেলা থেকেই কমুনিষ্ট দলগুলোর কতিপয় চিরাচরিত শ্লোগান সম্বলিত চটকদার দেয়াল লিখন চোখে পড়তো। যেমন: "শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াও,  সামরিক খাতে ব্যয় কমাও।" "লক্ষ যুবক বেকার রেখে আর্মি পোষা চলবে না।" ইত্যাদি। এমনকি পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর কোন কোন বামপন্থী সংগঠনের ব্যানারে বিডিআর বিদ্রোহের ইতিবাচকতাকে তুলে ধরবার আহবান সম্বলিত পোস্টার দেখা গেছে। আর সাম্প্রতিক তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে মাতামাতি ও লম্ফঝম্প তাদের সেই রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতারই ধারাবাহিকতা মাত্র।
এখন প্রশ্ন হল, সামরিক খাতে ব্যয় কমানোর আবদার কি শিক্ষার প্রতি ও বেকার যুবকদের প্রতি তাদের দরদের কারণে ছিল? বিডিআর বিদ্রোহে উষ্কানী প্রদানটা কি বিডিআর জোয়ানদের প্রতি ভালবাসার কারণে ছিল? বর্তমানে তনুকে নিয়ে যা করছে, তাও কি আদৌ তনুর প্রতি সহানুভূতির কারণে? এসবের একটাই উত্তর, "মোটেই না। not at all।" যদি তারা সত্যিকার অর্থেই দেশ ও মানুষের জন্য দরদী হতো, তাহলে অবশ্যই দেশ ও মানুষের সেবায় তাদের কিছু না কিছু অবদান থাকত। অশিক্ষা ও বেকারত্ব দূরীকরণে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে তাদের কোন উদ্যোগ বা তৎপরতার কথা শুনেছেন কি? তারা যদি নারীদরদী হতো, তাহলে অবশ্যই সব ধরনের নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতো, যার বা যাদের দ্বারাই ঘটে থাকুক না কেন? কিন্তু কৈ, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কথিত বিপ্লবী নকশালরা যখন পরিবারের সবাইকে বেঁধে রেখে সকলের সামনে নারী নির্যাতন করে, তা নিয়ে তো কখনো এদেরকে প্রতিবাদী হতে দেখা যায়নি! এমনকি স্বয়ং এদের নিজেদের মঞ্চে এসে যখন কোন নারী গণধর্ষণের শিকার হয়, তখন তো এর কোন প্রতিকার এরা করেনি। এছাড়া প্রতিবেশী দেশে গণধর্ষণ একটা নিয়মিত কালচারে পরিণত হলেও তা নিয়ে কখনো এদেরকে সরব হতে দেখা যায়নি। বিশেষ করে বার্মার সামরিক জান্তা কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের নির্যাতনের ব্যাপারে তো এরা ইচ্ছাকৃতভাবেই মুখে কলুপ এঁটে থাকে। তদুপরি বিভিন্ন উৎসব ও পার্বণে এরা নিজেরাই যখন কুকর্ম করে আবার নিজেদের কৃত সেই কুকর্মের বিরুদ্ধেই 'নাকি কান্না' করে এবং মিছিল বের করে, তাদের দলীয় রণরঙ্গিনীরা গণধর্ষিত হবার আশায় পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ মারে, তখন তাদের কুরুচি সম্পর্কে জানার আর কিছু বাকি থাকে না।
শুধু দেশের সামরিক শক্তি নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিরুদ্ধেও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার দ্বারা জনঅসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে সদাতৎপর এই মতলববাজ গোষ্ঠী। কমুনিষ্টরা শ্রমিকদরদী হলেও কমুনিষ্ট রাষ্ট্রগুলোতেই কয়লা খনিতে বার বার শ্রমিকদের অপমৃত্যু বেশি বেশি ঘটে। কমুনিষ্ট রাষ্ট্রগুলো হাজারো প্রাণ বলিদান করে নিজ নিজ দেশের উন্নয়ন ও শক্তিবৃদ্ধি ঘটালেও তাদের এদেশীয় এজেন্টরা যেকোন উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলে পরিকল্পিত রক্তপাত ঘটিয়ে দেশকে গরীব ও দুর্বল করে রাখার অপপ্রয়াস চালায়।
কমুনিষ্টরা মুসলিম দেশগুলোতে 'লক্ষ যুবক বেকার রেখে আর্মি পোষার' বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও পৃথিবীতে একমাত্র কমুনিষ্ট রাষ্ট্রগুলোই (অর্থাৎ এদের বিদেশী প্রভুরাই) নিজ দেশের মানুষকে না খাইয়ে রেখে পারমাণবিক অস্ত্র বানায়। অতএব, সামরিক খাতে ব্যয়ের বিরুদ্ধে এবং সময়-সুযোগ পেলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এদের প্রচারণার উদ্দেশ্য একটাই- তাহল মুসলিম দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করা, মুসলিম রাষ্ট্রকে অরক্ষিত করা।
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এদের এত আক্রোশের হেতু ও উৎস কোথায়? এর উত্তর হল, বিপ্লবের নামে নারী নির্যাতনকারী ও সম্পদ লুণ্ঠনকারী সর্বহারা নামধারী সর্বগ্রাসীদেরকে কঠোর হস্তে দমন করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এই সেনাবাহিনী থেকে আসা RAB। পাবলিকের গণপিটুনি ও র‍্যাবের ক্রসফায়ারে সর্বহারারা বাস্তবেই সর্বহারা হয়ে পড়ায় তাদের কাছ থেকে বখরার সরবরাহে যাদের ভাটা পড়েছে, তারা আর্মির উপর ক্ষেপবে না তো ক্ষেপবে কে? পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তিবাহিনীকে শান্ত করার দায়িত্বটাও পালন করেছে সেনাবাহিনী। আর পার্বত্য সন্ত্রাসীদের সাথে বামপন্থীদের লিয়াজোটা কোন গোপন বিষয় নয়। বাংলার মাটিতে কেবল কমুনিষ্টরাই স্বদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের পক্ষে উকালতি করে এবং সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করার দাবি করে খোদ রাজধানীর বুকে। এছাড়া নব্য বর্গী বার্মার কমুনিষ্ট সেনাবাহিনীকেও নাকানি চুবানি খাইয়েছে আমাদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাই ঐ সমস্ত মগদের এদেশীয় সেবকরা সেনাবাহিনীকে সহ্য করবে কিভাবে? ওঝাকে কি শাকচুন্নীর সহ্য হয়?
একটা দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব যারা পছন্দ করে না, তাদের কাছেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পাহারাদাররা হয় জাতশত্রু। সেনাবাহিনীকে ঘায়েল করবার কোন সুযোগ বা বাহানাই এরা কখনো হাতছাড়া করেনি। ৭৫-এর ৭ই নভেম্বর সেনাবাহিনীতে অফিসার হত্যার হুজুগটাও তুলে দিয়েছিল এই বাম দুষ্টচক্র। আজ যারা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে দেশের সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা দরকার। কোন সেনা সদস্য নিজের বউকে পেটালেও তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সুতরাং এই সেনাবাহিনী জেনেশুনে কোন নারী নির্যাতনকারী খুনীকে প্রশ্রয় দেবে, এমনটা যারা ভাবতে পারে, তারা হয় মূর্খ অর্বাচীন, অথবা মতলববাজ সুযোগসন্ধানী জ্ঞানপাপী।
মূল প্রবন্ধটির কোন বাক্য মূল ব্লগ পেজে দেখা যাচ্ছে না এবং লেখার লাইনগুলো অসমান দেখাচ্ছে। লেখাটির এডিট/সম্পাদনা অপশনে গিয়ে নিচের দিকে "Inpur Format" পরিবর্তন করুন। লেখাটি সুদৃশ্য ও সুষম হবে।

Rate This

আপনার রেটিং: None