আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন

 

স্বাধীনতার পর
থেকে আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
ফলে
দেশের বাজেটের আকার,
জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, রাজস্ব আয়, রপ্তানি,
রেমিট্যান্স আহরণ, দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,
অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন,
মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণসহ
বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে সফলতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুরু হয়েছিল ঋণাত্মক দিয়ে।
ওই
সময় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাইনাস ১৩.৯৭ শতাংশ।
এর
পর থেকেই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় প্রবৃদ্ধি।
সর্বশেষ
২০১৫-১৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.১১ শতাংশে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৫৫ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬.০৬ শতাংশ।
এর
আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.০১ শতাংশ।
স্বাধীনতার
পর বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১২৯ ডলার।
এখন
তা বেড়ে ১৪৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৩ সালে দেশের
রিজার্ভ ছিল ১৭৩ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ কোটি ৩ লাখ ডলার।
গত
কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ। গত ১লা সেপ্টেম্বর
অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।
গত
মাসে ৩২ বিলিয়নে এসে রেকর্ড গড়ে ছিল দেশের রিজার্ভ।
সর্বশেষে
রিজার্ভের পরিমাণ ৩০.১৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা প্রতি মাসে
সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো
সম্ভব। গত ৪৫ বছরে দেশ অনেক এগিয়েছে।
যে
পাকিস্তানকে আমরা পরাজিত করেছি সেই পাকিস্তান এখন অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমাদের
চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে। ১৯৭২-৭৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে জাতীয় বাজেটের আকার বেড়েছে ৪৩২ গুণ।
স্বাধীনতার
পর ১৯৭৬ সালে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ছিল ১৬.৩৫ মিলিয়ন বা এক কোটি ৬০
লাখ ডলার। গত সাড়ে চার দশকে তা বেড়েছে কয়েক’শ গুণ।
গত
এক দশকে রেমিট্যান্স আয় প্রায় সাড়ে তিনগুণ বা ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সর্বশেষ
চলতি মাসে দেশের প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১৪.৯৩ বিলিয়ন ডলারে।
স্বাধীনতার
পর প্রথম অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২৬০ কোটি টাকা।  ২০১৫-১৬ অর্থবছরে
রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৪ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ডলার।
রপ্তানি
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে
দেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে
মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৪৭ শতাংশে, এখন যা কমে সাড়ে ৫ শতাংশের
নিচে নেমে এসেছে। স্বাধীনতার পর যেখানে
দেশের ৮৮ শতাংশ মানুষ ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে।
২০০৫
সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১৫ সালে নেমে
এসেছে ২৪.৮ শতাংশে। ২০১৬ সালে এ হার
প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৩.২ শতাংশ। সেই সঙ্গে ব্যাপকহারে
কমেছে অতিদারিদ্র্যের হারও। অতিদারিদ্র্য
কমে দাঁড়িয়েছে ১২.৯ শতাংশে।


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None