চালু হচ্ছে ‘বায়ো-রিক্রুটমেন্ট’ পদ্ধতি

২০০৯ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০১৩
সালে শুধুমাত্র সরকারিভাবে (জিটুজি) দেশটিতে কর্মীয় যাওয়া শুরু করলেও তা শেষ পর্যন্ত
ফ্লপ করে। ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে এ চুক্তি সংস্কার করে বেসরকারিখাত
তথ্য রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসার সুযোগ রেখে ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি
সই হয়। শুরু থেকেই রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের
কারণে এ প্রক্রিয়াটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন হাইকোর্টে রিটও করেন। যা একের
পর এক নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং কেউ কেউ আবার তা প্রত্যাহারও করে নিচ্ছে। গত মার্চ
মাস থেকে জিটুজি প্লাস চুক্তির আলোকে মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরি, কন্সট্রাকশন, সেবাসহ
কয়েকটি খাতে কর্মী যাচ্ছে। চলমান জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে
অভিবাসন ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে
‘বায়ো-রিক্রুটমেন্ট’ পদ্ধতিও
চালু হচ্ছে। এটি চালু হলে সরকার নির্ধারিত টাকা ব্যাংকে জমা দেবেন বিদেশগামীরা। এর অতিরিক্ত
টাকা গুনতে হবে না তাদের এবং মধ্যস্বত্বভোগীরাও ইচ্ছে করলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত
টাকা নিতে পারবে না। গত মার্চ মাসে প্রায় ৪শ’ কর্মী গেছে মালয়েশিয়ায়। আর চলতি
এপ্রিল মাসে এ পর্যন্ত ৭শ’ –এর মতো গেছে। এ মাসে আরও কিছু ফ্লাইট রয়েছে। আগামী মে
মাসে ৫ হাজার, জুন মাসে
১০ হাজার যাবে। এভাবে জ্যামিতিক হারে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার হার বাড়তে থাকবে। জিটুজি
প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে চুক্তি অনুযায়ী ৩৭ হাজার ৫শ’ টাকা অভিবাসন ব্যয় ধরা হয়। এটিকে রিক্রুটিং
এজেন্সিগুলো অযৌক্তিক বলেই মনে করে। ফলে-এর চেয়ে কয়েকগুন বেশি টাকা মালয়েশিয়াগামীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ
রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের মতো মালয়েশিয়াতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের
পক্ষ থেকে অভিবাসন ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু মালয়েশিয়া নয়, আরও কয়েকটি দেশের অভিবাসন ব্যয়ও আবার পুনঃনির্ধারণ
করে দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্ধারিত অভিবাসন
ব্যয়েই মালয়েশিয়ায় যাতে কর্মী যায়, এটি নিশ্চিত করতে ‘বায়ো-রিক্রুটমেন্ট’ পদ্ধতি চালু করছে সরকার। মালয়েশিয়াতেও
একটি সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে। তাদের দেওয়া সফটওয়্যার অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে
নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় একটি ডিভাইস বসানো হবে। যেখানে
মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মী নিজে টাকা জমা দেবে। ভিসা প্রাপ্তি
ও বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর তার সে টাকা সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির একাউন্টে
ট্রান্সফার হবে। এতে মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীরা অতিরিক্ত টাকা নিতে পারবে না। এভাবে সঠিক
খরচে দেশের কর্মীরা যেন নিরাপদে বিদেশে যেতে পারে সেজন্য  এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None