বিএনপির বাঁশিতে নতুন সুর

একবার নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি যে ভুল করেছে সে ভুল আর করতে যাবে না। যে কোন ধরনের সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলীয় হাইকমান্ড। আর তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগেভাগেই নানান হিসেব নিকেশ করছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষ হয় সে জন্য সরকারকে চাপে রাখতে নানা পরিকল্পনা করছে। এ জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে সরব থাকার কৌশল নিয়েছে দলটি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে। এর আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সরকারী দলের পক্ষ থেকে সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে যেন এ কমিশন গঠন করা হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ থাকে তাহলে তারা সে নির্বাচনে ভাল ফল করবে। আর এ জন্যই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই বিএনপি সরকারকে নানামুখী চাপে রাখতে চায়। নতুন নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষ হয়, বিশেষ করে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার যেন সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সে জন্য ইতোমধ্যেই বিএনপি নেতারা সভা-সমাবেশে কথা বলতে শুরু করেছেন। এতদিন বিএনপি মধ্যবর্তী
নির্বাচন এবং নি্রপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী জানিয়ে আসলে ও এখন পাল্টেছে
তাদের বাশির সুর। বিএনপি নেতাকর্মীদের মুখ থেকে জানা যায়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে তারা সোচ্চার থাকলেও শেষ পর্যন্ত যে কেন ধরনের সরকারের অধীনে এমনকি বর্তমান সরকারের অধীনে হলেও পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বোধগম্য না। এ ব্যাপার নিয়ে দলের মধ্যেই
এখন নানা কথা উঠছে। ২০১২ সালে দেশে প্রথমবারের মতো সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত হয় কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশন। যদিও সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি সব সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তবে সার্চ কমিটির মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করা হলেও এর আগে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত নেন। এর মধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)