অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য

পরিবর্তিত
প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও প্রসারিত করতে আগ্রহী
মিয়ানমার-বাংলাদেশ দুই দেশই। সেই লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য-সুবিধার আওতায় দুই দেশের মধ্যে সীমান্তবাণিজ্য এবং সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই
সঙ্গে দুই দেশের সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা, নিরাপত্তা
ব্যবস্থা জোরদার, সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার
মানোন্নয়নসহ নানা বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী দুই দেশ। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক
উন্নয়নের বিষয়ে আগামী ৯ নভেম্বর ঢাকায় আসছে মিয়ানমারের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড
এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক
বাণিজ্য চুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে এই সফরে, এরই মধ্যে দুই দেশ এই
বাণিজ্য চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করেছে। এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে মিয়ানমারের বাজারে
বাংলাদেশি পণ্য বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএস রড,
সিমেন্ট, টিভি, ফ্রিজসহ
গৃহস্থালি পণ্যের রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা মিলবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে চিংড়ি,
ইলিশ, শুকনো মাছ, সুপারি
এবং লবণ রপ্তানিতে মিয়ানমার শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এতে সীমান্তপথে মিয়ানমার থেকে
কৃষিপণ্য, বস্ত্র, জুতা, খেলনা, খাদ্যসামগ্রী আমদানি অবাধ করার কথা বলা
হয়েছে। দুই দেশই কিছু পণ্যের উপর শুল্ক একেবারে তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। পাঁচ দশকের
সামরিক শাসনের অবসানে বর্তমানে মিয়ানমার বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে
সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাণিজ্যের ধারা উন্নয়নের লক্ষ্যে
চীনের গৃহিত ‘ওয়ান ওয়ে-ওয়ান বেল্ট’
নামের প্রকল্পের আওতায় চীনের কুনমিং শহর হবে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের
কুনমিং পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে করিডর হলে মিয়ানমারের
জন্য একটি ভালো সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডর
প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী বাংলাদেশ, চীন, ভারত
ও মিয়ানমার। সৎ প্রতিবেশীসুলভ মনোভাবের চর্চায় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা
সম্প্রসারিত হলে আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হবে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None