বিদ্যুত সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে বিশেষ পদক্ষেপ

বিদ্যুতের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে জাতীয় গ্রিড
ব্যবস্থার। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। সরকার ও দাতাসংস্থা
জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (কেএফডব্লিউ) যৌথ অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।
এর মাধ্যমে দেশের গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুত সরবরাহ সক্ষমতা বাড়বে। সিস্টেম লস রোধের
মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহে প্রয়োজন যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত ও উন্নত
বিদ্যুত উপকেন্দ্র। দেশের বেশিরভাগ বিদ্যুত উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতির কর্মক্ষমতা
শেষ হওয়ার পথে। আবার নতুন স্থাপিত বিদ্যুত কেন্দ্রের কারণে আগের উপকেন্দ্রগুলোকে
নিতে হচ্ছে ওভারলোড। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য
সিস্টেম লস রোধ ও ২০২১ সালের মধ্যে সব নাগরিকের বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন কেন্দ্র
স্থাপনের পাশাপাশি পুরনো কেন্দ্রগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই
ধারাবাহিকতায় ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ইন গ্রিড বেইজড পাওয়ার সাপ্লাই প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করছে
পিজিসিবি। দেশের ৬ বিভাগের ১৭ জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। যে সব এলাকায়
গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুত সরবরাহ উন্নয়ন করা হবে সেগুলো হচ্ছে- ঢাকা বিভাগের ঢাকা, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ী
জেলা। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সিলেট বিভাগের সিলেট জেলা, রংপুর বিভাগের
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা, খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা। বরিশাল বিভাগের বরিশাল ও পিরোজপুর জেলা
এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী ও কুমিল্লা জেলাও প্রকল্পের আওতাধীন। প্রকল্পের প্রধান
কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- ৮২ কিলোমিটার ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ৯৫ কিলোমিটার ১৩২
কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন স্থাপন, ৪৬ কিলোমিটার ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের দ্বিতীয় সার্কিট স্ট্রিংগিং
তৈরি। এছাড়া ১৫০ কিলোমিটার ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন রি-কনডাক্টরিং করা
হবে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুতের পৃথক ইন-আউট লাইন নির্মাণ, আলাদা উপকেন্দ্র
নির্মাণ ও আপগ্রেডেশন এবং বিদ্যমান উপকেন্দ্রও সম্প্রসারণ করা হবে। ২০০৯ সালে দেশে
বিদ্যুত উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে এটি ১৪ হাজার ৫৩৯
মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এতে মাথাপিছু বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭১ কিলোওয়াট।
মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে ৩৩টি স্থায়ী
বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণাধীন। চলতি বছরের শেষের দিকে কুইক রেন্টাল বিদ্যুত ছাড়াই ১৭
হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের আশা করছে সরকার।


 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)