এখনও মমতা ও মানবতাবোধ আছে মানুষের মধ্যে

পথেঘাটে
বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে না এসে তাকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে যাওয়া
অথবা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছবি বা সেলফি তোলার এক নির্মম রেওয়াজ শুরু হয়েছে আজকাল। এমন
একটি হতাশাজনক বাস্তবতার ভেতরও ব্যতিক্রম কিছু ঘটানা সত্যই বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। সঙ্গত
ও স্বাভাবিক এমন কিছু উদাহরণ সৃষ্টি হলে তা সমাজে গভীর প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়। সততা
যখন প্রায় নির্বাসনে সে সময় দুয়েকটি সততার দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজে কিছুটা হলেও
আলোড়ন তোলে। এসব থেকে মানুষ হয়ত খুব বেশি শিক্ষা নেন না, কিংবা নিজ জীবনে সেটা অনুসরণ করেন না। তবু তার মূল্য অনেক। রেলওয়ে বিভাগের
একজন গেটম্যান এমন দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছেন সম্প্রতি। গত ২১ নভেম্বর
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের চাষাঢ়া রেলগেট সংলগ্ন রেললাইনে আত্মহত্যার জন্য শুয়ে পড়ে
এক যুবক। দ্রুত বেগে আসা ট্রেনটি তখন ওই যুবকের কয়েক ফুট দূরে ছিল, বিবেকের দায় উপেক্ষা করতে পারেন নি বিল্লাল। সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে
লাইনে শুয়ে থাকা যুবককে বাঁচান গেটম্যান বিল্লাল হোসেন মজুমদার। জীবনের ঝুঁকি
মানুষ সহজে নিতে চায় না। সামান্য কর্তব্যকর্মেও তার কত অনীহা! সেখানে বিল্লালের এই
দায়িত্ববোধ আসলেই প্রশংসাযোগ্য। মানুষের জীবন বাঁচানোর চাইতে বড় মানবিক কাজ আর কী
হতে পারে? একজন গেটম্যান তার চোখের সামনে জলজ্যান্ত এক
যুবকের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। তিনি তৎপর হয়েছেন যুবকটির জীবন বাঁচাতে। এতে
প্রমাণিত হয় মানুষের মধ্যে এখনও মমতা ও মানবতাবোধ জাগরূক রয়েছে। মানুষ মানুষের
পাশে দাঁড়াবে- এটাই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। আত্মহত্যা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
কিন্তু একথা ভুললে চলবে না এই সমাজেরই কোন না কোন বিরূপতা, পরিবারের
কোন না কোন আঘাত একজন মানুষকে চরম হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। তাকে ঠেলে দেয় আত্মহননের
মতো চরম পন্থার দিকে। অথচ বিপদাপন্ন, হতাশাগ্রস্ত মানুষের
পাশে দাঁড়িয়ে সামান্য সান্তনাবাণীর উচ্চারণই অনেক সময় নিমজ্জমান মানুষকে অভয় ও
শক্তি যোগাতে পারে। জীবন অনেক মূল্যবান, তাকে রক্ষা করা ও
ইতিবাচক পথে পরিচালিত করাই তার সার্থকতা।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None