সত্য, সুন্দর, প্রগতি, গনতন্ত্র আর উন্নয়নের বিজয়

নারায়ণগঞ্জ সিটি
কর্পোরেশন
(নাসিক) নির্বাচনে একসঙ্গে দুটি বিজয় ঘরে তুলেছে
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করেই
জিতেছে তারা। পাশাপাশি নৌকার জয় নিশ্চিত করে জনপ্রিয়তার উর্ধগতিও
দেশবাসীর সামনে প্রমাণ করেছে আওয়ামীলীগ। দলীয় প্রতীক নৌকাও জিতেছে, অন্যদিনে
তাকলাগানো নিরপেক্ষ নির্বাচন করে রাজনৈতিক প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকেও কড়া জবাব দিতে
পেরেছে তারা। নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনভাবেই সরকারবিরোধী
আন্দোলনের নতুন ইস্যু তৈরি করতে না পারে সেজন্য প্রথম থেকেই সতর্ক ছিল আওয়ামীলীগের
হাইকমান্ড।
জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। তাই নারায়ণগঞ্জে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’
নির্বাচন করে এই মুহূর্তে সরকার কোন সমালোচনার মুখোমুখি হতে চায় না। আবার নৌকার পরাজয়ও
যাতে না হয় সেদিক থেকেও ছিল প্রথম থেকেই সতর্ক। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন
যেমন দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে, তেমনি নৌকার প্রার্থী
পরাজিত হলে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবলেও চিড় ধরবে। তাই দুটি বিজয়ই
ছিল দলটির কাছে একটি অঘোষিত চ্যালেঞ্জ। এই দুটি বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করেই নারায়ণগঞ্জে
সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্র্থী ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীকে বেছে নিয়ে তার হাতে নৌকা প্রতীক
তুলে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। দলের হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্ত যে কতটুকু সঠিক
ছিল বৃহস্পতিবারের নাসিক নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে। নৌকা প্রতীকে
ডাঃ আইভী প্রায় ৮০ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতায়
থাকা বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন খানকে। একইসঙ্গে শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জও
বেশ ভালভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। আওয়ামীলীগের প্রতীক ও
ব্যক্তিগত ইমেজ সেলিনা হায়াত আইভীকে মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে সাহায্য করেছে। কেননা নারায়ণগঞ্জের
নির্বাচনে দুই প্রতীকের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হয়েছে। সততা, আদর্শ
ও ন্যায়নিষ্ঠার ইস্যুতে নৌকার প্রার্থীর বিষয়ে কারও প্রশ্ন ছিল না। এই নির্বাচনে
নৌকার প্রার্থীর মার্কা ও তার ইমেজ এক সঙ্গে কাজ করেছে। এ কারণেই ভোটের
ব্যবধানও বেড়েছে।
তবে
নির্বাচনের পর বিএনপির প্রার্থী ও কর্মীরা বিভিন্নভাবে এদিক-ওদিক ইশারা
করে যা বলছেন তা ঠিক হয়নি। নাসিক নির্বাচনের
নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সামান্য ভুল-ত্রুটির কথা প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিও জোরের
সঙ্গে বলতে পারেনি। নির্বাচনের দিন বিএনপির কোন এক নেতা বলেছিলেন, বাহ্যিকভাবে
সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তাবরণ সৃষ্টি করে সেলিনা হায়াত আইভীকে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সত্যিকার
অর্থে গণরায়ের প্রতিফলন ঘটলে আমরা সেটিকে শুভেচ্ছা জানাই। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা
পরেই ভোল পাল্টিয়ে সেই নেতা দাবি করেন, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ, গণনা, ফলাফল ইত্যাদি বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে
হবে। নির্বাচনের ভোট ‘গণনার
ত্রুটির’ অভিযোগ ‘হাস্যকর’বলেই প্রতিয়মান। নারায়ণগঞ্জের ভোট ‘অনুকরণীয়’
হয়ে থাকবে। নাসিক নির্বাচন এক কথায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি
মডেল নির্বাচন।
অনেক
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল এ নির্বাচন নিয়ে। কিন্তু সব ধারণা
পাল্টে দিয়েছে এ নির্বাচন। এ বিজয় শুধু নৌকার বিজয় নয়, গণতন্ত্রের
বিজয়, নারায়ণগঞ্জবাসীর বিজয়, জননেত্রী শেখ
হাসিনার বিজয়। এই নির্বাচনে পথ ধরে আগামী নির্বাচনের পথও
সুগম হবে বলে আমরা আশা করছি।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None