তৈরি হচ্ছে ২০ লাখ তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী

বর্তমান
বিশ্বে প্রযুক্তিগতভাবে যেসকল দেশ এগিয়ে আছে, সে
সমস্ত দেশই উন্নত দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। তাই বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তিতে
অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নকে
এগিয়ে নিতে আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নসহ ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমান
বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি হবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত। এই খাত থেকে ২০২১

সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সময়ে ২০ লাখের বেশি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরি করা হচ্ছে।এই ২০ লাখ পেশাজীবী জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। এ জন্য সারাদেশে কানেক্টিভিটি তৈরি করা হয়েছে। কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগের মাধ্যম ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে সরকার দেশের অনেক অঞ্চলে কানেক্টিভিটি তৈরি করতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে দেশের সকল ইউনিয়ন কানেক্টিভিটির আওতায় চলে আসবে। এর বাইরে বেসরকারী উদ্যোগেও আইসিটি উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল থেকেও যেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা কাজ করতে পারেন এমন অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে আইসিটি বিষয়ও বাধ্যতামূলক করেছে। এরফলে একজন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে সে তথ্যপ্রযুক্তিগতভাবেও এগিয়ে
যাবে। ইনফো-৩ প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ প্রান্তিক পর্যায়ের দফতর প্রতিষ্ঠানে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ১৫ হাজার প্রাথমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, ডিসি ও ইউএনও অফিসে কম্পিউটার ল্যাব, ইমার্জেন্সি সার্ভিস সেন্টার, ১০ হাজার গ্রোথ সেন্টারে পয়েন্ট অব প্রেজেন্স ও রেগুলেটরি ল্যাব, সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব ও ভিএলএস ল্যাব স্থাপনসহ গ্রাম পর্যায়ে ই-কমার্স সেবা চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একটি করে পয়েন্ট অব প্রেজেন্স প্রতিষ্ঠা করা হলে গ্রামের মানুষ বাড়িতে বসেই ব্যবসাবাণিজ্য, নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবে। এতে গ্রামীণ জনপদের মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল বৈষম্য রোধ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও চীনের আর্থিক সহযোগিতায় এস্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি নামে নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কালিয়াকৈর, যশোর, সিলেট, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে আইটি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব পার্কে ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আইটি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশী আইসিটি শিল্পের প্রসারে এসব পার্ক ও সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। বর্তমান সরকারের  নেতৃত্বে দ্বিতীয় মেয়াদে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য ও সেবা প্রদানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। সরকারী কার্যক্রম ও সেবা প্রদান পদ্ধতির ডিজিটাইজড করা হয়েছে। মানুষ এখন সহজেই সেবা পাচ্ছে। গত আট বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ অভিযাত্রায় তথ্য প্রযুক্তির অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটেছে। এখন তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে গেছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শহরের সঙ্গে গ্রামের মানুষের পার্থক্য কমিয়ে আনা। দেশের সরকারী ১৮ হাজার ৫শ’ অফিসে কানেক্টিভিটি তৈরি করা হয়েছে। সকল চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন
হলেই ভিশন ’২১ মধ্যে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None