স্বল্প খরচে ধান শুকানোর যন্ত্র ‘বিএইউ এসটিআর ড্রায়ার’

 

অপচয়
কমিয়ে অল্প সময়ে স্বল্প খরচে ধান শুকানোর একটি নতুন যন্ত্র তৈরি করেছেন বাংলাদেশ
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তাঁরা যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন বিএইউ এসটিআর
ড্রায়ার। প্রচলিত পদ্ধতিতে সূর্যের তাপে চাতালে ধান শুকাতে যেখানে ৩-৪ দিন সময়
লাগলে সেখানে এই যন্ত্রটিতে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টায় শুকানো সম্ভব হবে। সূর্যের ওপর
নির্ভশীল না হয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে ধান শুকানোর এ যন্ত্রটি অযাচিত অপচয় রোধে এটি
কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। ধান থেকে ভাত হয়ে আমাদের খাবার টেবিলে আসা পর্যন্ত
উৎপাদনের প্রায় ১৩ শতাংশ অপচয় হয়ে যায়। হিসাব করলে অপচয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায়
সাড়ে ৭ মিলিয়ন টন। এর একটা বিশাল অংশ অপচয় হয় ধান শুকানোর সময়। এছাড়া বৃষ্টি ও
মেঘলা দিনে ধান শুকাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন কৃষকরা, বেড়ে যায়
ক্ষতির পরিমাণ। সেক্ষেত্রে যন্ত্রটি ব্যবহার করে কৃষকরা অল্প সময়ে অপেক্ষাকৃত কম খরচে ধান
শুকাতে পারবে।যন্ত্রটির আকার অনেকটা ড্রামের মতো। দুইটি লোহার খাঁচা, তাপ উৎপাদনের জন্য একটি চুলার, গরম বাতাস পরিবহন
পাইপের সমন্বয়ে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। চুলাসহ উচ্চতা ১.৪ মিটারের কাছাকাছি।
যন্ত্রে জ্বালানি হিসেবে ধানের খোসা (তুষ) বা চারকোল ব্যবহার করা যায়। অথবা
যন্ত্রটিতে এক হর্স পাওয়ারের ডিজেল বা বিদ্যুত চালিত মোটর ব্যবহার করা যায়। মোটর
ব্যবহার করলে যন্ত্রটি চলতে প্রতি ঘণ্টায় তেল খরচ হবে হাফ লিটারের একটু বেশি।
সম্পূর্ণ একটি যন্ত্র তৈরি করতে খরচ পড়বে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এটা ব্যবহার করে
ধান শুকালে চালে গুণগত মানের কোন পরিবর্তন হয় না। এছাড়াও ছোট ছোট চালের কারখানায়
এই যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। এতে মালিকরা কম শ্রমিক ব্যবহার করেই ধান শুকাতে পারবে
এবং বৃষ্টিতে ভিজে ধান নষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এতে সময় ও শ্রম দুটিই সাশ্রয় হবে।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None