মুখের উচ্চারনে হবে বাংলা টাইপ

মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ভাষা।সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক অবস্থান ও কাল ভেদে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভাষার গঠন, প্রকৃতি, ছন্দের পার্থক্য ও সাদৃশ্য উভয়ই বিদ্যমান। ভাষা যেমনটা আমরা আজ প্রত্যক্ষ করছি, তা হাজার বছর ধরে এমনটিই ছিল না। আবার বহু বছর পর তা এমনটা নাও থাকতে পারে। ভাষা পরিবর্তনশীল। মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে ভাষার স্বরূপ পরিবর্তিত হয়। আর সংস্কৃতির বিকাশের জন্য প্রয়োজন মাতৃভাষা চর্চার বিকাশ ঘটানো। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, কম্পিউটিং জগতে বাংলা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণে গবেষণা ও সহায়ক সফটওয়্যার উন্নয়নে চলতি মাসেই একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলায় সরাসরি কথা থেকে লেখা বা লেখা থেকে কথায় রূপান্তরসহ এ প্রকল্পে কম্পিউটিং জগতে বাংলা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণে ১৬টি ক্ষেত্রে কাজ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কথা বলে যন্ত্রের মাধ্যমে টাইপিং কাজ সম্পাদন করা যাবে। এর ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে সুবিধা হবে। শব্দের উচ্চারণ লিখিত আকারে প্রকাশ করতে আইপিএ (ইন্টারন্যাশনাল ফনেটিক অ্যাসোসিয়েশন) ফন্টের ব্যবহার হয়ে থাকে। আইপিএ’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলা আইপিএ ফন্ট উন্নয়ন করা হচ্ছে। এতে অভিধান প্রণয়নে এবং বিদেশি ভাষার ছাত্র-শিক্ষক, ভাষাবিদ, গায়ক, স্পিচ-ল্যাংগুয়েজ প্যাথলজস্টিদের প্রয়োজন মেটাবে বলে আসা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য মূলত কম্পিউটিং জগতে বাংলা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণে কাজ করা। বাংলা কি-বোর্ডের ব্যবহার সম্প্রসারণে এর বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং অধিকতর উন্নয়ন করা হচ্ছে। এতে কি-বোর্ডকে বিভিন্ন কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম যেমন- ডেক্সটপ, মোবাইলে ব্যবহারের জন্য সম্প্রসারণ করা যাবে। এছাড়া হাতে লেখা, প্রিন্ট করা দলিলপত্র ইত্যাদি ব্যবহারযোগ্য বাংলা টেক্সট হিসেবে রূপান্তরের সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে এই প্রকল্পের আওতায়। এর ফলে অফিস-আদালত, গ্রন্থাগার ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক দলিলপত্র, সাহিত্যকর্মকে টেক্সট হিসেবে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এর ফলে বাংলায় ডকুমেন্ট প্রসেসিং, ই-মেইলিং, হিসাব-নিকাশ সহজতর হবে। এই প্রকল্পের আওতায় বাংলা ভাষার জন্য কমন লোকাল ডেটা রিপোজিটরি উন্নয়ন করা হচ্ছে। মায়ের  ভাষা বাংলা হোক সার্বজনিন।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None