বিসিএস পরীক্ষায় আসছে বড় পরিবর্তন

ডিজিটালের ছোঁয়ায়
পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে দেশের সব সেক্টরে। তাই পিএসসিকে ডিজিটালাইজ করার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারে নানা উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে। যার অনেকগুলো আগামী বিসিএসেই বাস্তবায়ন করা হবে। অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা আছে আরও নতুন নতুন বেশ কিছু সংস্কারের বিষয়। অধিকাংশ বিষয়েই কাজ চলছে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যাপক পরিবর্তন ও সংস্কার আসছে বিসিএস পরীক্ষায়। সিলেবাসের আধুনিকায়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বণ্টনে পরিবর্তন ছাড়াও যুগোপযোগী হচ্ছে দেশের সরকারী চাকরি প্রার্থীদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এ পরীক্ষার নানা দিক। একক পরীক্ষকের পরিবর্তে দ্বৈত পরীক্ষক পদ্ধতি চালু করা হবে। সুযোগ আসছে ইংরেজী ভার্সন ও ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের। প্রায় দুই যুগ বন্ধ থাকার পর বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী ভার্সন ও ইংরেজী মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবেন ইংরেজী ভাষাতেই। মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন যোগ হচ্ছে। সময় বাঁচিয়ে স্বল্প সময়ে উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে পরীক্ষার খাতা বাসায় না নিয়ে পিএসসিতে বসেই দেখা হবে। অভিযোগ আছে, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ লাখো তরুণ-তরুণীর মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। তাই এ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরীক্ষা পদ্ধতি পাল্টানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার সংস্কারের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি, নম্বর বণ্টন ও সিলেবাস নিয়ে বহুদিনের আপত্তি আছে। উন্নত দেশ তো বটেই এশিয়ার দেশগুলোর এ ধরনের পরীক্ষাও অনেক আধুনিক। তাদের সিলেবাস, মানবণ্টন ও পরীক্ষা পদ্ধতি অনেক বেশি আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব। যেখানেই প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্য প্রায় নেই বললেও চলে। অথচ আমাদের বিসিএস পরীক্ষা নম্বর বণ্টন, সিলেবাস থেকে শুরু করে অধিকাংশ বিষয়ে আছে সঙ্কট। আছে বৈষম্য। বহুবছর এসব বিষয়ে নিয়ে সমস্যা চললেও এতদিন তা সমাধানের উদ্যোগে কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে এবার আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা ৫০০ তে নামিয়ে আনার চিন্তা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিসিএসের বিস্তৃত সিলেবাস কমিয়ে আনা হবে। বাংলার ওপর একক নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে বাংলার ওপর জোর দিতে গিয়ে প্রশাসনে ইংরেজী জানা কর্মকর্তার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তবে ইংরেজী মাধ্যম ও ইংরেজী ভার্সনে যারা পরীক্ষা দেবেন তাদেরকে সুবিধা দেয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। এখন কেবল বাংলা প্রশ্ন থাকছে। উত্তরও লিখেতে হয় বাংলাতেই। ফলে ইংরেজী ভার্সন ও ইংরেজী মাধ্যমে পড়ালেখা করা শিক্ষার্থীরা প্রায় বঞ্চিতই হচ্ছে এ পরীক্ষা থেকে। পরীক্ষায় গেলেও ইংরেজী ভার্সনের শিক্ষার্থীরা বাংলায় ভাল লিখতে না পাড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে আগামী ৩৮ বিসিএস থেকেই এ পদ্ধতির প্রয়োগ করা হবে। বাই ল্যাঙ্গুয়েল প্রশ্ন প্রণয়ন করার চিন্তা করা হচ্ছে। এতে বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজী ভাষাতেও প্রশ্ন থাকবে। যুগের সংগে তাল মিলিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে
বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None