তাহলেই পূর্ণ হবে সুন্দর আগামীর আশা

বাংলাদেশ
এখন যে কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের মতোই ইনফরমেশন টেকনোলজির সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল
বাংলাদেশ কিংবা ডিজিটাল জীবনযাপনে সবাই অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুন
প্রজন্মের মধ্যে এখন সচেতনতা অনেক তুঙ্গে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সবাই একমত। কেউ
চায় না এ দেশে জঙ্গিদের উত্থান হোক, চেপে বসুক কোনো
অপশক্তি। এখন সবাই দেশ গড়তে চায়, দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত। বিশাল জনশক্তি দেশের সঙ্গে
সম্পৃপৃক্ত হয়ে কাজ করতে চায়। প্রতিযোগিতায় দেশকে ঊর্ধ্বে দেখতে চায়, দুর্নীতিমুক্ত-স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ চায়। এই ভূখন্ডকে বড় করে তুলতে চায়।
সুস্থভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে খেয়ে-পরে বাঁচবে – সবার একই স্বপ্ন। দেশের অনেক মেধাবী
মানুষ আছেন তারা মেধা বা যোগ্যতাবলে বিদেশে ভালো কাজ করছেন, দেশের
হয়ে সুনাম কুড়াচ্ছেন। স্বাধীনতার পর গত কয়েক দশকে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। হয়তো কাঙ্খিত
সাফল্য আসেনি, কিন্তু উন্নতি ও উত্থান হচ্ছে। গ্লোবাল বিশ্ব, করপোরেট বাণিজ্য বা পুঁজি এখন বিচিত্রভাবে আমাদের মুখোমুখি। এদের মোকাবিলা
করা এখন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বিপুল পরিমাণে চলছে ভোগবাদের উল্লাস, অপরদিকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-ত্রাস-নিরাপত্তহীনতা কম নয়। পুঁজিবাজারে মানুষের
বৈষম্য বাড়ছে। বৈষম্য থেকে ক্ষোভ-ক্রোধ-উষ্মা বাড়ছে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরিব নির্বিশেষে অনেকটা মোহাচ্ছন্ন মানুষ। তাই গণতান্ত্রিক ও
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়, পূর্ণতা পায়নি। তাই আমাদের মুক্তিসংগ্রামও শেষ হয়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের
সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অবক্ষয় মোকাবেলায় বিজাতীয় সাংস্কৃতির আগ্রাসন প্রতিরোধের
বিষয়টি রপ্ত করা জরুরি। অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে মিডিয়াপ্রীতি বেড়েছে, যোগ্য-অযোগ্য তফাৎ করা দুরূহ। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সস্তা-স্থূল কিছু
ক্রিয়াকর্ম। চিন্তাহীন বিনোদন আজ সর্বব্যাপৃত। কালের অনিবার্য প্রবাহেই মানুষ ডিজিটাল
হচ্ছে। কিন্তু সুস্থ সাংস্কৃতিক উন্নতি জরুরি। মেধাশূন্য জাতি তৈরি নয়, প্রয়োজন বিচিত্রমুখী
জ্ঞানের বিকাশ। নিম্নশ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মননশীল বা সৃজনশীল শিক্ষার
বিস্তার জরুরি। সতর্ক থাকতে হবে তাদের প্রতি যারা অতীতকে
অস্বীকার করতে চায়। কেননা বিভ্রান্তির ভেতর দিয়ে তারা আসলে সম্মুখের পথকে অবরুদ্ধ
করতে চায়, পেছনে ঠেলতে চায়, রুদ্ধ
করতে চায় অগ্রবর্তী চিন্তাকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সমাজ
কখনো পশ্চাৎমুখী নয়। প্রত্যেকটি সূর্যোদয়ই অরুণ আলোর যাত্রী, এগিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যের অনুগামী। তাই প্রেরণাদায়ী, প্রতিশ্রুতিশীল
মানুষ চাই; যাতে সকলকে একত্রিত করে সবকিছুকে পেছনে ফেলে
সামনে এগোনো যায়। দেশের
বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নের জন্য, দক্ষ জনশক্তি
সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগী ক্ষেত্র চিহ্নিত করা দরকার। যাতে এক্সপার্টদের কাজে দীর্ঘমেয়াদী
পরিকল্পনার আওতায় গোটা দেশের কর্মপদ্ধতিকে বিকেন্দ্রীকরণ করে সুষম উন্নয়নের পথ
সৃষ্টি করা যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে সব অনৈতিক কর্মকান্ডকে
নিষিদ্ধ করতে হবে। একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য কঠোর এবং নিরপেক্ষ পদক্ষেপকে কাজে
লাগাতে হবে। এ জন্য সজাগ ও সৃষ্টিশীল তরুণদের নিয়ে একটি জনসাংস্কৃতিক বলয় জরুরি। তরুণদের
নেতৃত্ব দেয়ার শক্তি অর্জন করতে হবে। এ জন্য তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিবান হতে হবে। সংস্কৃতিই
সবচেয়ে বড় শক্তি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে। আমাদের স্বপ্নের ভূখন্ডটি যেন সেই শক্তিতেই
বলীয়ান হয়। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে মেরুদন্ড সোজা করে, উচ্চশিরে দাঁড়াতে হবে – তাহলেই
পূর্ণ হবে সুন্দর আগামীর আশা ও নিশ্চিত হবে সাফল্য।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None