দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারকে হেয় করতেই কী অপহরণ নাটক?

 

কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র
করে গত দুইদিন দেশের সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সরব ছিল। কিন্তু
সরকারের একান্ত আন্তরিকতা এবং আইন-শৃংখলা বাহিনীর দৃঢ় প্রচেষ্টায় গত সোমবার রাত
সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগরে খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে
উদ্ধার করা হয় ফরহদ মজহারকে। উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকাল নয়টার কিছু আগে ফরহাদ
মজহারকে প্রথমে রাজধানীর আদাবর থানায় নেয়া হয়। সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে মিন্টো
রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। দুই ঘণ্টার
বেশি সময় সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ডের
জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়। গতকাল বিকেলে জবানবন্দী রেকর্ড করেন ঢাকার মহানগর
হাকিম আহসান হাবীব। জবানবন্দীতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জবানবন্দীতে তিনি
বলেন ‘কারা আমাকে অপহরণ করেছিল তা আমি জানি না। তাদের আমি চিনি না। তবে কথাবার্তা
শুনে মনে হয়েছে, যারা এই
সরকারকে পছন্দ করে না, তারাই দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে এই সরকারকে বিব্রত করতে আমাকে তুলে নিয়েছিল।’ ফরহাদ মজহারের জবানবন্দী থেকে
পুরো বিষয়টি কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে সাজানো ছিল তা অত্যন্ত স্পষ্ট। দেশের চলমান
অগ্রযাত্রাকে দমিয়ে রাখতে এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করতে একটি
মহল সর্বদাই সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ সেই মহলের ইশারাতেই অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে
ধারণা করা হচ্ছে। অতীতের বহু ঘটনা আমাদের চোখের সামনে এখনও স্বাক্ষী হয়ে আছে,
স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থেকে গুমের কলঙ্ক অন্যের ঘাড়ে দেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার
মিথ্যাচার অনেকবারই প্রমাণিত হয়েছে দেশের মানুষের সম্মুখে। এরকম ঘৃণ্য এবং জঘন্য
কার্যকলাপে যারা জড়িত হয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের প্রক্রিয়া এখনও চলছে।
ফরহাদ মজহারের অপহরণের ঘটনার সাথেও কারা জড়িত বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
তদন্ত করে দেখছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের কাঠগড়ায় আসতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষই
আশা করে এমন ঘৃণ্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। তবে দেশের অভ্যন্তরে ও
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারকে হেয় করতে এই অপহরণ নাটকের অবতারনা কিনা এই প্রশ্নেরও
সমাধান হওয়া আবশ্যক নয় কী?


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None