এই দাবির অন্তরালে রহস্যটা কী?

 

বর্তমানে
দেশের রাজনীতি সচেতন প্রতিটি মানুষের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন, বিএনপি’র
সহায়ক সরকারের সংজ্ঞাটা কী? নিকট অতীতে তাদের বোধাতীত হটকারি
কর্মকান্ডের বিরুপ অভিজ্ঞতার কারণেই 
দেশবাসীর কাছে পুরো বিষয়টি এখনও একটি ধোঁয়াশা ছাড়া কিছুই নয়। এমনকি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও বলেছেন, “আমরা নির্বাচনকালে একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরির কাজ করছি।
তাই এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।” অর্থাৎ যে সহায়ক
সরকারের রূপরেখাই এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি, সেই সরকারের দাবি মানানোর
জন্য বিএনপি’র হাঁকডাকের অন্ত নেই! অন্যদিকে
এই রূপরেখাবিহীন সরকার গঠনের দাবি তোলার আসল রহস্য মওদুদ আহমদই আবার ফাঁস করে
দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের চেয়ারপারসন তো বলেই দিয়েছেন,
প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
নির্বাচন হবে না।” সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!
আসল কথা এটাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সহায়ক সরকার একই দাবির দুই নাম মাত্র। আসল উদ্দেশ্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা
থেকে সরিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তিনি ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার,
সহায়ক সরকার যে নামেই একটা সরকার গঠিত হোক না কেন, বিএনপি তা
মেনে নেবে। তখন আর সেই সরকারের কোনো রূপরেখা দরকার হবে না। মুখে তারা যতই বলুন,
নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তারা সহায়ক সরকার চান, তাদের মনের ইচ্ছা, শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনাকে
ক্ষমতা থেকে সরানো। কেননা তা হলেই
তো নির্বাচনে তাদের এক্কা দুক্কা খেলার সুযোগ হবে। যেমনটা তারা খেলেছিলেন ২০০১ সালের নির্বাচনে। তাই
সহায়ক সরকার বস্তুটা কী, তা জনগণকে জানানোর আগেই তারা সেই সরকারের দাবিতে
মাঠে নেমেছেন। ভাবছেন হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারলেই আবার ২০০১ সালের খেলার
পুনরাবৃত্তি করতে পারবে। এই দুরাশা পূর্ণ হয়নি বলেই তারা ২০১৪ সালের
নির্বাচনে যায়নি। এই অসংবিধানিক সরকারের দাবিতে তারা রাজপথে নেমে জামায়াতের সঙ্গে
হাত মিলিয়ে আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিশপ্ত রাজনীতি
করেছে। তবে সেই সন্ত্রাসের রাজনীতি ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ বিএনপি’র তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের দাবিতে সাড়া দেয়নি। সংবিধানে এই সরকারের কোনো বিধান না থাকাতেই বিএনপিকে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির খোলস পাল্টাতে হয়েছে। সাপ যেমন প্রতি বছর খোলস পাল্টায়,
তেমনি বিএনপিও তাদের দাবিগুলো জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হলেই বদলে
ফেলে – এটা তাদের পুরনো অভ্যাস। তবে আবদুর রহমান
বিশ্বাস (রাজাকার রাষ্ট্রপতি নামে পরিচিত), সাহাবুদ্দিন আহমদ ও ইয়াজউদ্দিন
আহমদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তাদের কারো কারো দলীয় পক্ষপাতিত্ব এবং কারো দুর্বলতার
সুযোগ নিয়ে এবং একটি সুবিধাভোগী সুশীল সমাজের সমর্থন আদায় করে বিএনপি যেভাবে
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটিকে বিকৃত ও কলুষিত করেছে, তাতে
এই ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশে মোটেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা
দেবে না। দেশের মানুষও তা বোঝে। তাই বিএনপি নেত্রী ওই পচা ও গলিত তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের ব্যবস্থাকেই সহায়ক সরকারের লেবেল লাগিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টায়
মেতেছেন। তাই তাদের প্রস্তাবিত সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণায় মওদুদ আহমদের মতো
ব্যারিস্টারও ঘর্মাক্ত হচ্ছেন। এই রূপরেখা যদি তারা দেনও, তাহলে
দেখা যাবে পুরনো মদই নতুন বোতলে ঢালা হয়েছে। তবে আমেরিকায় যেমন প্রেসিডেন্ট
নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তিনমাস ক্ষমতায় থাকেন। বড় কোনো
সিদ্ধান্ত তিনি নেন না, বাংলাদেশেও এবার এই পদ্ধতিতেই
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেটা হলে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নামে
পুরনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার এনে, তাকে ম্যানুপুলেট করে,
একটি অনুগত সুশীল সমাজ ও তথাকথিত নিরপেক্ষ মিডিয়া গ্রুপের দ্বারা
বিভ্রান্তি সৃষ্টিপূর্বক (সঙ্গে একশ্রেণির বিদেশি কূটনীতিকের গোপন তত্পরতায় ভর করে)
নির্বাচনে বাজিমাত করা যাবে না, এটাই কি তাদের আসল ভয়? এই দাবির অন্তরালে রহস্যটা কী?


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None