নিদিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন প্রণীত একাদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ করা হয়েছে। এই রোডম্যাপ ধরেই আগামী নির্বাচনে
কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ কারণে রোডমাপে যেসব কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে
তা পুস্তক আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তা বই আকারে প্রকাশ করা
হয়েছে। রোডম্যাপ প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের
প্রস্তুতি শুরু হল। মূলত নির্বাচনের আগে যেসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে তা রোডম্যাপে
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাজ বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করা হবে। কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সবার
কাছে ইসির সব কাজ তুলে ধরা হচ্ছে। সবার মতামত নিয়ে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন
নিশ্চিত করা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার লক্ষ্যে
এ কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ দিতে
প্রধান সাতটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ ছয় ধরনের অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করার সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়েছে। চলতি মাসেই এই সংলাপ শুরু হবে। সংলাপে রোডম্যাপ প্রণীত বিষয়গুলো নিয়ে
আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের
গেজেট প্রকাশের সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া, রাজধানীর মতো বড় শহরের আসন সীমিত করে নির্দিষ্ট
করে দেয়া, আরপিও-সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ বাংলায় রূপান্তরের
প্রস্তাবও থাকছে কর্মপরিকল্পনায়। ৩১ জুলাই থকে অক্টোবর নাগাদ এ সংলাপে পর্যায়ক্রমে
নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল,
নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নারী সংগঠনের নেত্রী ও
নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত
সময়ে সংসদ নির্বাচন করতে দৃঢ়তার সঙ্গে ও সুচিন্তিত পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সার্বিকভাবে দেশে জাতীয় নির্বাচনের
একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ইসি কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো অংশীজন,
গণমাধ্যম, দলসহ সংশ্লিষ্টদের সামনে উপস্থাপন
করে সবার মতামত নেবে। সবার মতামতের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইনানুগ ও
গ্রহণযোগ্য করে তোলা হবে। যে ৭টি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে
তার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের আইনী কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার। এর মধ্যে
রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ,
সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ, বিধি অনুসারে
ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত
রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা। এছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির
কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সীমানা পুনর্নির্ধারণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে
গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নীতিমালার আলোকে সংসদীয় আসনের সীমানার খসড়া করে সংশ্লিষ্ট
দাবি-আপত্তি-নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত করা হবে। অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে
আইনী সংস্কার ও তা প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট সবার সুপারিশ পেলে শান্তিপূর্ণ ভোট করতে
সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None