তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ

 

মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি উন্নয়নমূলক নানা নিদের্শনা দিয়েছেন। তার এই নির্দেশনায়
কর্মকর্তাগণ স্ব-স্ব এলাকার জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে আন্তরিকতার সহিত কাজ করবেন
বলে আশা করা যায়। নির্দেশনায় বলা হয়েছ, সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার
না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের
সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে নতুন নতুন
কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। মানুষ যেন শহরমুখী না হয়; শহরের
ওপর জনসংখ্যার চাপ যাতে না বাড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন,
সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান
সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্রতী হতে হবে। ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য কমাতে
উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়।
বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। জঙ্গিবাদ,
সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা
ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন
করতে হবে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গ্রামের মুরুব্বি, নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম
পুলিশ, এনজিও কর্মীসহ সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ
পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলাজট
কমাতে গ্রাম্য আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে তথ্য
ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে। শিক্ষার সর্বস্তরে
নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ
নিতে হবে। ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি
রক্ষায় আরও সচেষ্ট হতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ,
বিদ্যুত, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ করতে
প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাকে জনপ্রিয় করতে
উদ্যোগী হতে হবে। ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি
করে এসব অনৈতিক কর্মকান্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও
এসডিজির সফল বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ
প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে সঠিক সময়ে সঠিক
পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই
সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পাঞ্চলে
শান্তিরক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রফতানি নির্বিঘ্ন করা এবং
পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি
সন্ত্রাস নির্মূল করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে
হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির যে কোন অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
নারী উন্নয়ন নীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে যথাযথ আইনী
ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে
শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল
সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইতিহাস চেতনা,
জ্ঞানস্পৃহা ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে। কঠোরভাবে মাদক
ব্যবসা, মাদক চোরাচালান এবং এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে সরকারি ভূমি রক্ষায়
সজাগ থাকবে হবে। পার্বত্য জেলাসমূহের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের
ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ও ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা
করতে হবে। এছাড়াও নিজ নিজ জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সে বিষয়ে পদক্ষেপ
নিতে জেলা প্রশাসকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ভাবেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
বঙ্গবন্ধু কন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সুচিন্তিত দিক নির্দেশনায় এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল
বাংলাদেশ।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None