কেটে যাবে সকল সাময়িক স্থবিরতা

 

 

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আগামী
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকা থেকে মনোনীত করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য
চারজন নির্বাচন কমিশনারকে। নতুন কমিশনাররা দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনের মাঠ
পর্যায়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সবকিছু নতুন করে ঢেলে সাজাতে শুরু করেন। তারা
উদ্যোগ নিয়েছেন সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে
সংলাপের, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, সকল দলের অংশগ্রহণে আগামী
নির্বাচন যেন অর্থবহ হয়ে উঠে – অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য
দিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিটি যেন মজবুত হয়। কিন্তু যে চিহ্নিত
মহলটি ইতোপূর্বে তাদের নানা অপতৎপরতায় এদেশের গণতন্ত্র তথা সমৃদ্ধির পথে
অভিযাত্রাকে বারংবার বাধাগ্রস্ত করেছে আরও একবার তাদের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যেতে
শুরু। নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতি আনায়নে সম্প্রতি
গৃহিত গণ বদলি আদেশে সৃষ্ট কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষকে পুঁজি করে
আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে তাদের ষড়যন্ত্রের কালোহাত। সম্প্রতি বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে
গত মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসানকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব
হিসাবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়ায় কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক আন্দোলন ও
কর্ম-বিরতিজনিত অচলাবস্থায়। এক্ষেত্রে আন্তঃ দপ্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ভূত জটিলতার
একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করাই অধিকতর কাম্য এবং শ্রেয়তর ছিল। বর্তমানে
পরিস্থিতি যে দিকে বাঁক নিয়েছে তা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনি সংকেত।
প্রমাণিত হয়েছ ষড়যন্ত্রকারীরা চায় না দেশে কোনো নির্বাচন হোক। কারণ তারা বুঝে
গেছে, আগামী নির্বাচনে তাদের চূড়ান্ত পরাজয় আর নিশ্চিত ভরাডুবি শুধুমাত্র সময়ের
ব্যাপার – এটাই ভবিতব্য, এই অনিবার্য ফলাফল বদলানোর সাধ্য তাদের নেই। কারণ অতীতের
নানা হটকারিতা, অপশাসন, দুর্নীতি আর ভ্রান্ত মতাদর্শে আস্থার কারণে তারা শুধু জনগণের
আস্থাই হারায়নি, জনগণের মন থেকেও নির্বাসিত হয়েছে। নিশ্চিত ভরাডুবির শঙ্কাতেই তাই
তারা একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে। তাদের সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্রের ছোঁয়াতেই
নির্বাচন কমিশনে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আস্থা হারানোর মতো কিছুই হয়নি।
বিষয়টি নিতান্তই সাময়িক। মুক্তিযুদ্ধের অনির্বাণ চেতনা যে জাতির চলার পথের পাথেয়,
তারা অচিরেই এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচণার ফাঁদ থেকে বেড়িয়ে আসবেই। খুঁজে নিবে
সঠিক আর সময়োপযোগী সমাধান। আরও একবার ব্যর্থ হবে অতীতের সেই কলঙ্কিত ঘসেটি বেগম আর
মীরজাফরের বর্তমান উত্তরসুরীদের সকল ষড়যন্ত্র। মিথ্যাচারের কালো মেঘ সরে সত্যের
আলোয় উদ্ভাসিত নতুন সকাল আসবেই। এ যে অনিবার্য – একে রুখবে সে সাধ্য কার?  তাই আগামী নির্বাচনকে অনিশ্চয়তায় ফেলার
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে যে অপতৎপরতা চলছে তা ব্যর্থ হবেই,
কেটে যাবে সকল সাময়িক স্থবিরতা। সাংবিধানিক নিয়মে যথাসময়েই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,
আর সেটা হবে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ – বর্তমান গণতান্ত্রিক
সরকারের আন্তরিকতা আর নিষ্ঠায় তাদের এই অঙ্গীকার পূর্ণ হবেই হবে।


আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None