পাচ্ছে না আশার আলো

 

 

আগামী নির্বাচনে বিএনপির জন্য
কোনো আশার খবর আছে কি না—এমন কৌতূহল ও উদ্বেগ দলটির নেতৃত্বের গণ্ডি পেরিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও বাড়তে
শুরু করেছে। কিন্তু এর উত্তর দলটির সিনিয়র
নেতারা দিতে পারছেন না। কারণ
এক-এগারোর
সময়ে পড়া সংকটের মধ্যেই এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি। সংগঠনকে চাঙ্গা করার জন্য কিছু কিছু
উদ্যোগ নেওয়া হলেও বস্তুত আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো
কর্মসূচি ও দিকনির্দেশনা এখনো দলটির নেই। দলের নেতাকর্মীদের একত্রিত করে দলকে পুনরায় চাঙ্গা করার মতো
কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতাও বিএনপি হারিয়ে ফেলেছে।এখন 
এমন আলোচনাই বেশি দলটি নিজস্ব নেতাকর্মীদের মধ্যে। যার ফলে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক
ভাবে নিজেদেরকে অসহায় মনে করছে এবং রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে ভয় পাচ্ছে। বিএনপি এখন রাজনৈতিক মেরুকরণের ক্ষেত্রেও
পিছিয়ে আছে। ক্ষমতায় যেতে হলে ১৯৫৪ সালের
যুক্তফ্রন্টের আদলে বৃহত্তর জোট গঠনের পরামর্শ বিভিন্ন মহল থেকে এলেও বিএনপির ডাকে
এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল সাড়া দেয়নি। বিএনপির নেতারা জানে ব্যাপক জনসমর্থনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়ের সহায়তা নিশ্চিত না হলে আগামী দিনেও জয়লাভ করা সম্ভব নয়। খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সর্বস্তরের
নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিষয়টি আলোচনায় আছে। তাদের মতে, জনসমর্থনের বিষয়টিতে বিএনপির আস্থা আছে,
কিন্তু শুধু এর ওপর ভর করে নির্বাচনে জয়লাভ তথা ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। তাই আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করার মতো
কোন প্রকার আশার আলোয় দেখছে না বিএনপির নেতাকর্মীরা। জনগণের কাছে ভাল হতে হলে দেশ ও জাতীর প্রয়োজনে নিজেকে সপে দিতে হয় আর
এখানেই বিএনপি নেত্রী ফাস্ট ডিভিশনে ফেল মেরেছে। বিএনপি নেত্রী সহ অধিকাংশ দলীয়
নেতাকর্মি অনেক আগেই জনগণের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। অপরদিকে বর্তমান সরকার সরকার
জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিককালে সরকার হাওড় এলাকায়
সার্বক্ষণিক কাজ করছে। আর
বেগম জিয়া দুর্গত এলাকায় না গিয়ে ঢাকায় বসে মায়াকান্না করছে। ১৯৯১ সালে ঘুর্ণিঝড়ে
নিহতের সংখ্যা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা হলে বেগম খালেদা জিয়া তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে
নিহতের সংখ্যা আরও বেশী হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই খালেদা জিয়ার এখন
হাওড় অঞ্চলের মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে কথা বলা বেমানান। দেশের মানুষ পুড়িয়ে, জঙ্গি দিয়ে নিরাপরাধ মানুষ মেরে আবার এই হাওড়
অঞ্চলের লোকদের জন্য মায়াকান্না করে কখনও জনগণের কাছে ভালো হওয়া সম্ভব নয়। যারা মানুষের উপর অত্যাচার
করছে, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে তাদের
বিচার দুনিয়ায় না হলেও পরকালে হবে। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে
যাচ্ছে। আমাদের সবার উচিৎ সরকারকে এই মহৎ উদ্যোগকে সামনে
নিয়ে যেতে সকল প্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা করা। অন্যদিকে সকলপ্রকার মায়াকান্না বন্ধ
করে দেশ ও জনগণের উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসাই জ্ঞানীর কাজ।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None