বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার ইঙ্গিত

 

বিএনপির
লন্ডন ভিত্তিক একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর দেশে ফিরছেন
না। জানা গেছে, আগামী নির্বাচন, নেতাকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও বিদ্যমান মামলা থেকে
তাদের অব্যাহতি ইত্যাদি ইস্যুতে সরকারের সাথে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা করতে ব্যর্থ হওয়ায়
খালেদা জিয়ার উপর আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে বিএনপির তারেক রহমান পন্থী গ্রুপের। উল্লেখ্য,
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ বিচারাধীন দুর্নীতির প্রায় ডজনখানেক মামলায় দায়
মাথায় নিয়ে বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা
জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তারেক রহমান মামলার কারণে দেশে আসতে না পারায়
বিশ্ব জুড়ে তার দুর্নীতিবাজ ইমেজ প্রতিনিয়ত আরও বেশি প্রকাশিত ও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপির
সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মনে করেন লন্ডন বসে না থেকে তারেক রহমান যদি দেশে এসে এসব
মামলা মোকাবেলা করে যদি জেলও খাটতেন তবে একসময় তার দুর্নীতিবাজ পরিচয়  মুছে যেত এবং দেশের বিএনপি সমর্থকদের কাছেও তার
জন্য অন্যধরণের সহানুভূতি তৈরি হতো। বিষয়টি উপলব্ধি করে তারেক রহমান নিজেও কয়েকবার
দেশে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ১/১১ এর সময়কার কঠিন অভিজ্ঞতা স্মরণ করে শেষ
পর্যন্ত দেশে আসেননি তিনি।  আগামী নির্বাচনের
আগে যেকোনো মূল্যে তিনি দেশে ফিরতে চান, তবে কোনোভাবেই জেল খাটতে রাজি নন। দেশে ফেরার
জন্যই তিনি বেগম জিয়াকে সরকারের সাথে একটি সমঝোতা করার তাগিদ দিয়েছিলেন। একইসাথে
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল
ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকার্যও শেষের দিকে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও
বিএনপিপন্থী আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মামলায় খালেদা জিয়ার নিশ্চিত জেল হতে যাচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়াও এই
বয়েসে এসে জেল খাটতে প্রস্তুত নন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় খালেদা জিয়াও সরকারের
সাথে সমঝোতায় আগ্রহী হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে বেগম জিয়া তারেক রহমানের পরামর্শে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন
সরকারের সাথে সমঝোতা করার উদ্যোগ নেন। বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে তাদের দৃষ্টিতে লোভনীয়
সমঝোতা প্রস্তাব দেয়া হলেও সরকার তাদের অগ্রহণযোগ্য কোনো আবদার মানতে নারাজ। তবে বিএনপি
নেত্রীর প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, তারেক রহমান যেকোনো সময় দেশে আসতে পারেন। তারেকের দেশে আসার পথে আওয়ামী
লীগ বা সরকার কোনো বাধা দিবে না। কিন্তু তারেক রহমানের উপর যেসব মামলা চলমান রয়েছে
তা আদালতের ব্যাপার, আদালত তার নিজস্ব পন্থায় বিচার করবে। তারেক রহমান ও খালেদা
জিয়ার মামলার ব্যাপারে আদালতের উপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে
দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় তারেক রহমানের সাথে বিএনপি নেত্রী জরুরী বৈঠকের
উদ্দেশ্যে চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডন সফর করছেন। লন্ডনভিত্তিক সূত্রে জানা গেছে,
দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের সাথে সমঝোতা করার ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে
বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক
রহমান। সেজন্যই বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দেশে ফিরতে না দেওয়ারও
ইঙ্গিত দিয়েছে তারেক রহমান। এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির
সংস্কারপন্থী নেতারা খালেদা-তারেক দুজনকেই বাদ দিয়ে সাবেক বর্ষীয়ান নেতা ডা. এ কিউ
এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকেই দলটির নেতৃত্ব দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানা
যায়। মোদ্দা কথা বিএনপিতে খালেদা অধ্যায়ের ইতি এখন সময়ের ব্যাপার। বিশ্লেষকদের
দৃষ্টিতে মৎস্য ন্যায়ের নীতিতে চলা দলটির ঘরের শত্রু বিভীষণ তারেক জিয়ার ব্যক্তিস্বার্থের
যুপকাষ্ঠে বলী হবেন খালেদা – বিষয়টি এখন মোটামুটি নিশ্চিতই বলা চলে। একারণেই বিএনপি
চেয়ারপার্সনকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার ইঙ্গিত এখন চারিদিকে। 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None