উন্নয়নের পথে একধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

অবকাঠামোগত
উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে একটি দেশ ক্রমাগত অপর একটি দেশকে ছাড়িয়ে
যাচ্ছে।  কেননা যে  দেশ অবকাঠামোগত দিক  থেকে যত  বেশি আধুনিক ও উন্নত, সে  দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঠিক ততটাই এগিয়ে। এদিক থেকে উন্নত দেশগুলোর থেকে 
বেশ পিছিয়ে থাকলেও, বর্তমান সরকার বিভিন্ন
প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে
যেতে সক্ষম হয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অবকাঠামোগত
প্রকল্পের মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মান। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে এই সেতুর নির্মাণকাজ
সম্পন্ন হবে। যার  দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ৬.১৫ কিলোমিটার ও ২২ মিটার। দ্বিতল এ সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন এবং নীচ দিয়ে
ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি
জেলা রাজধানী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। তাছাড়া এই সেতু বাস্তবায়িত
হলে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১.২% বৃদ্ধি
এবং দারিদ্র্য ০.৮৪% হ্রাস পাবে। পদ্মা সেতুর পর দ্বিতীয় পায়রা ও সোনাদিয়া সমুদ্রবন্দর নির্মান। এর মধ্যে দেশের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পটুয়াখালী জেলার রাবনাবাদ
চ্যানেলে পায়রা সমুদ্রবন্দর  উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে মোট তিন ধাপে
কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। এ
সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটানসহ ভারতের সেভেন সিস্টার্সের
ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি
হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে দেশে একাধিক
বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনেরও কাজ চলছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের
১০% পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৭০% বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে প্রাকৃতিক
গ্যাস  থেকে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট ও
ফ্লাইওভার নির্মাণ, লিফটযুক্ত বৃহত্তম যাত্রীবাহী নৌযান চালু,
বিভিন্ন শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ ভৌত অবকাঠামো
নির্মাণ করা হয়েছে, যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থানকে
ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে।Seaport

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None