কলঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ চাই

বিএনপির অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের অভ্যন্তরীণ
বিভক্তির শুরু অনেক আগে থেকেই। নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জল উত্তরাধিকার থাকা
সত্বেও দেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে তাই তারা সমালোচিত, কখনো বা নিন্দিত। তারই জলন্ত প্রমাণ হয়ে এখনো দেশের মানুষকে গা শিহরিত
করে। জঙ্গিবাদ, বোমা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মেতে উঠেছিল
তারা। উল্লেখ্য, ১৩ বছর আগে ২০০৪ সালে দিনদুপুরে শেখ
হাসিনার জনসভায় প্রকাশ্যে গ্রেনেড হামলা
করে আওয়ামীলীগ দলীয় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল শুধু শেখ হাসিনাকে নয়, আওয়ামী
লীগের গোটা নেতৃত্বকেই ধ্বংস করা। এছাড়াও প্রশ্রয়
পায় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি। দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান আটক হওয়ার মধ্য দিয়ে
বাংলা ভাইদের প্রকাশ্য আস্ফালনের নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াত সরকারের অভ্যন্তরীণ
প্রশ্রয়ের কথাও প্রমাণিত। জামায়াতকে রাজনৈতিক মিত্র করে পথচলায় জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিএনপি নেতৃত্ব সমালোচনার তীরে ক্ষত-বিক্ষত। জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিতর্ক
এবং দলের ভেতরে-বাইরে থেকে চাপের মুখে একটি মধ্যমপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল
হিসেবে বিএনপির অস্তিত্ব এখন দেখতে নির্ভর করছে জামায়াতের প্রভাবমুক্তির উপরে।
বিএনপির ভেতরে-বাইরে, কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্খীদের চাওয়া আজ জামায়াতমুক্ত
বিএনপি। অন্যদিকে একটি অপশক্তি আজ ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ,
আল কায়েদা, আইএসের ব্যানারে বাংলাদেশের
রাজনৈতিক, সামাজিক অবস্থাকে অস্থির করে তুলেছে। এ দেশের
মানুষ ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে শান্তিতে
বিশ্বাস করে ফলে কোন অপশক্তিই পারবে না এ তাদের অপচেষ্টাকে সফল করতে। তেমনি ধর্মের
নামে, জেহাদের নামে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদের পথকেও জনগণ
কখনো প্রশ্রয় দেয়নি, দিবেও না। এ দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের উত্তরাধিকারিত্ব
বহন করে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক  রাষ্ট্র হিসেবেই দেশকে দেখতে চায়। তাই বর্তমান
প্রেক্ষাপটে দেশের গণমানুষের প্রত্যাশা আজ জামায়াতমুক্ত বিএনপি ও জঙ্গিমুক্ত
বাংলাদেশ। চাই কলঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ। এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য
বাংলাদেশসহ সব দেশকে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসী-জঙ্গি নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে
হবে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত হোক এ প্রত্যাশা সকলের।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)