সৃষ্টিকর্তার একত্তবাদ

আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবান| যে, যে নামেই ডাকি না কেন.. সৃষ্টিকর্তা সে এক জন-ই

সব ধর্মেই সৃষ্টিকর্তার একত্তবাদের ঘোষনা করা হয়েছে...

কিন্তু এ ব্যপারে আমরা কে কত খানি জানি?

ইসলাম, হিন্দুধর্ম ও খ্রিষ্টান ধর্মগ্রন্থে সৃষ্টিকর্তার ধারণা নিয়ে আলোচনা করলে আমরা এর একটা স্বচ্ছ ধারণা পাই...

 

*হিন্দু ধর্মগ্রন্থে সৃষ্টিকর্তার ধারনাঃ-
''সেসব লোক যাদের বিচার বুদ্ধি কেড়ে নিয়েছে জাগতিক আকাঙ্খা, তারাই মূর্তি পূজা করে।'' (গীতা ৭:২০)
ছান্দোগ্য উপানিষদ , প্রাপাথাকা - অধ্যায় ৬, শ্লোক ২, "এক্কাম এবাদিতিয়াম"অর্ থাৎঃ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় ।
শ্বেতাশ্বত্র উপানিষদ, অধ্যায় ৪, শ্লোক ১৯ "na tasyapratima asti" (না তাস্যা প্রাতিমা আস্তি) অর্থাৎঃ" ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই।"
যজুর্বেদ
অধ্যায় ৩২, শ্লোক ৩ "na tasya pratima asti"( না তাস্যা প্রাতিমা আস্তি)
অর্থাৎঃ "ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই, মূর্তি নেই, ছবি নেই।"
রিগবেদ গ্রন্থ
৮, পরিচ্ছেদ ১, শ্লোক ১ এ বলা হয়েছে ""Ma cid anyad vi sansata sakhayo
ma rishanyata""অর্ থাৎ"বন্ধুগণ, একমাত্র ঈশ্বরকে ছাড়া কার ও উপাসনা করো
না, শুধুমাত্র উনারই প্রশংসা করো ।"

অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ অনুযায়ী , ঈশ্বর এক। আমাদের শুধু তার ই উপাসনা করা উচিত এবং মূর্তিপূজা নিষেধ।

 

*খ্রিষ্টান ধর্মগ্রন্থে(বাইবেল) সৃষ্টিকর্তার ধারনাঃ-
ঈসা (আ.) কর্তৃক
প্রচারিত আল্লাহর একত্ববাদের ধর্মই পরবর্তীকালে খ্রিস্টধর্ম নামে পরিচিতি
লাভ করে। ঈসা (আ.) ছিলেন আল্লাহর নবী। তিনি (খ্রিস্টানরা যাকে যীশু নামে
ডাকে) আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন। একআল্লাহ ছাড়া
অন্য উপাস্য নেই এবং তিনি আল্লাহর একজন প্রেরিত বান্দা - এ বাণীই তিনি
প্রচার করেছিলেন।
ইসরায়েলের লোকেরা শোনো! প্রভু, আমাদের ঈশ্বর হলেন একমাত্র প্রভু! [ডিউটেরনমী ৬:৪]
শোনো হে ইস্রায়েল, আমাদের ঈশ্বর প্রভু একমাত্র প্রভু। [মার্ক ১২:২৯]
তখন ব্যবস্থাপনার শিক্ষকেরা তাকে বললেন, ''বেশ, গুরু, আপনি ঠিক বলেছেন যে ঈশ্বরই প্রভু, তিনি ছাড়া অন্য কেউ নেই।'' [মার্ক ১২:৩২]
সুতরাং
খুব সাবধান! জীবিত কোন কিছুর আকৃতিতে মূর্তিঅথবা খোদাই করা প্রতিমা তৈরি
করে তোমরা পাপ করো না এবং নিজেদের ধ্বংস করো না। একজন পুরুষ অথবা একজন
স্ত্রীলোকের মত দেখতে কোনপ্রতিমূর্তি তৈরি করো না।[ডিউটেরনমী ৪:১৬]
সেই
দিন অনেকে আমায় বলবে, ‘প্রভু, প্রভু আমরা কি আপনার নামে ভাববাণী বলিনি?
আপনার নামে আমরা কি ভূতদের তাড়াই নি? আপনার নামে আমরা কি অনেক অলৌকিক কাজ
করিনি?’ তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব, ‘আমি তোমাদের কখনও আপন বলে জানিনি,
দুষ্টের দল! আমার সামনে থেকে দূর হও৷’ [ম্যাথিও/মথি ৭:২২-২৩]
‘হে ইহুদী
ভাইয়েরা, একথা শুনুন; নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য
কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ঈশ্বর
পাঠিয়েছেন; আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন৷ [অ্যাক্টস ২:২২]
অতএব,
বাইবেলেও একথা স্পষ্ট প্রমানিত যে সৃষ্টিকর্তা এক এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
একমাত্র সৃষ্টিকর্তারই প্রশংসা করতে হবে ও মূর্তিপূজা নিষেধ।

 

*ইসলামে সৃষ্টিকর্তার ধারনাঃ-
এবার আসুন দেখি, কুরআনে আল্লাহ্‌ বলেন,
বলুন,
তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনিকাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে
জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। [সূরা ইখলাস, ১১২:১-৪]
আল্লাহ
ব্যতীত আর কোনোইউপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কেয়ামতের
দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর
কার হবে! [আল-ইমরানঃ ৮৭]
স্থির করো না আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য।
তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে,
তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর।
[সূরা বনী ইসরাইল, ১৭:২২-২৩]
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে
বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপনকরে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ
করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব,
আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
[সূরা বাকারা, ২:২২]
আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই। [সূরা বাকারা, ২:১৬৩]

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)

তুলনামূলক লেখা। জাকাকাল্লাহ্ খায়ের। চলুক।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)