উস্তাদ খুররম মুরাদ: ইন দ্যা আরলি আওয়ার্স - ৩

জান্নাতের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ।

 

আত্নগঠনের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে জান্নাত অর্জনের জন্য একাগ্রচিত্তে মনোনিবেশ করা। প্রকৃতপক্ষে  যে ব্যাক্তি জীবনের গন্ত্যবের ব্যাপারে অনিশ্চিৎ, পার্থিব জীবন না পরকালীন জীবন-এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দোদুল্যমান, তার অবস্থা দুই নৌকায় পা দেওয়া ব্যাক্তির মত যে অচিরেই ভারসাম্যহীন অবস্থায় পতিত হবে। আমরা বাস্তবে যে সব জটিলতার মুখোমুখি হই তার অনেকগুলোরই মুল কারন হচ্ছে আমাদের লক্ষ্যের প্রতি দায়বদ্ধতার ঘাটতি এবং জীবনের চুড়ান্ত ও প্রকৃত লক্ষ্যের দিকে একাগ্রচিত্ত না থাকার ব্যার্থতা। যদি আপনি জান্নাত অর্জনকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসাবে গ্রহন করেন তাহলে বাকী আর সবকিছুই করা আপনার পক্ষে সম্ভব।

 

জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে জান্নাতকে অত্যন্ত সচেতনতার সাথে নির্ধারন করা উচিৎ কেননা এজন্য অতীতের সাথে সব সম্পর্ক সম্পুর্ণরুপে ছিন্ন করতে হতে পারে। এই নতুন লক্ষ্যকে জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে গ্রহন করা মানে একটি পরিপূর্ণ নতুন জীবন পদ্ধতি গ্রহন করা। একটি সম্পূর্ণ নতুন ভ্রমন শুরু করা।

 

এই নতুন যাত্রার শপথের শুরুতেই অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে স্মরন করুন জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তিসমুহের কথা যা আপনি যেকোন মুল্যে এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্মরন করুন, জান্নাতের অসংখ্য নিআমতের কথা যার জন্য আপনি প্রানান্তকর চেষ্টা করার শপথ নিয়েছেন। নিজেকে আরও স্মরন করিয়ে দিন সূদীর্ঘ যাত্রাপথের উল্লেখযোগ্য বিরতিস্থান ও মাইলফলকগুলোর কথা। কল্পনা করুন মৃত্যু খুব কাছেই। কল্পনা করুন মৃত্যুদুত ঘোষনা করছেন পৃথিবীতে তোমার সময় শেষ। এখন তোমাকে অবশ্যই আমাকে অনুসরন করতে হবে অন্তহীন গন্তব্যের পথে।’ কল্পনা করুন সেই মূহুর্ত, যখন আপনি বিচারদিনে আপনার স্রষ্টার সামনে চুড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় দন্ডয়মান। সেই সাথে অনুভব করার চেষ্টা করুন বিচারের রায়ের পরিনতিসমুহের কথা। যখন দুই রাকাত নামাজ পড়া শেষ হবে তখন আরেকবার মনে মনে উচ্চারন করে নিন যে এখন থেকে আপনার সকল প্রচেষ্টা হবে একমাত্র জান্নাত লাভের উদ্দেশ্যে। দয়াময় আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে সাহায্য প্রার্থনা করে বলুনঃ

 

‘হে আল্লাহ আমি তোমার দয়া প্রার্থী। আর প্রার্থী সেই সব কথা ও কাজের যা তোমার দয়ার নিকটবর্তী করে। হে আল্লাহ আমি এমন বিশ্বাস চাই যা কখনো নিঃশেষ হবে না, এমন করুনা চাই যা কখনো ফুরিয়ে যাবে না। এমন সন্তোষ চাই যা কমে যাবে না। আর চাই জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান যা তোমার নবী মুহাম্মাদের (সাঃ) সাহচার্য দ্বারা সম্মানিত।’

 

অভ্যাস ও তৎপরতার উন্নতি একটি জীবন-বিস্তৃত প্রক্রিয়া হলেও তা অর্জনের আকাংখায় উজ্জিবিত হওয়া এক মুহুর্তেই সম্ভব। এই তীব্র আকাংখাই আপনার জীবনের লক্ষ্য তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত অর্জনকে ত্বরান্বিত করবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

Superb!!

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক লক্ষ্য নিরুপণে সাহায্য করুন। আমীন।।

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

ধন্যবাদ।

আমীন। 

"জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে জান্নাতকে অত্যন্ত সচেতনতার সাথে নির্ধারন করা উচিৎ কেননা এজন্য অতীতের সাথে সব সম্পর্ক সম্পুর্ণরুপে ছিন্ন করতে হতে পারে। এই নতুন লক্ষ্যকে জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে গ্রহন করা মানে একটি পরিপূর্ণ নতুন জীবন পদ্ধতি গ্রহন করা। একটি সম্পূর্ণ নতুন ভ্রমন শুরু করা।"

হৃদয় আমার বিভোর হলো ওপার বাড়ীর ভালবাসায়

হে দয়াময়! কবুল দিও অভাগার এই ছোট্ট আশায়।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

ধন্যবাদ!

কিছু লেখা দু'চোখ দিয়ে নয়; হৃদয় দিয়ে পড়া হয়, ধারাবাহিক এ লেখা তেমনি একটি। ধন্যবাদ।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

উৎসাহোদ্দীপক মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)