একাত্তরে ঢাকা দখল করতে চায়নি দিল্লি

অনেক দিন আগে আমি এক মুক্তিযুদ্ধাকে প্রশ্ন করেছিলাম আপনার এতো কম সময়ে যুদ্ধ জয় করলেন কিভাবে? তিনি বলেছিলেন আমরা কি আর যুদ্ধ করেছি আমাদের থেকে বেশি যুদ্ধ করেছেন ইন্ডিয়ান আর্মি। তারা আমাদেরে মতো সিবিল সেজে মানে মুক্তি যোদ্ধা সেজে ইন্ডিয়ান আর্মি যুদ্ধ করেছে। আর এযুদ্ধের নায়ক হলো ভারত পাকিস্তান আমরা মাঝখানদিয়ে ছিলাম। আজ এই সাক্ষাৎকারটি পড়ে আমর তাই মনে হলো।

সিএনবিসির ইন্ডিয়া টুনাইট অনুষ্ঠানের জন্য সাংবাদিক করণ থাপার সম্প্রতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকবের একটি সাক্ষাৎকার নেন। গত ৩০ এপ্রিল সেটি স¤প্রচারিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। জেনারেল জ্যাকব ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চল কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। করণ থাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঢাকা দখলের পরিকল্পনা ভারতীয় বাহিনীর তৎকালীন প্রধান ফিল্ড মার্শাল মানেকশর ছিল না। একাত্তরে ভারতীয় বাহিনীর রণকৌশল নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের মতদ্বৈধতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন জ্যাকব। ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুতে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ মুসতাফা সায়ীদের তর্জমায় সাপ্তাহিক কাগজ পাঠকের জন্য।

করণ থাপার: ভারত সরকার স¤প্রতি ফিল্ড মার্শাল মানেকশকে ১ দশমিক ৬ কোটি রুপির একটি চেক দিয়েছে। ফিল্ড মার্শাল হিসেবে এই টাকা তার প্রাপ্য ছিল। কিন্তু দেওয়া হলো ৩৬ বছর পর। আপনি তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। ১৯৭১-এ তাকে ফিল্ড মার্শাল হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তার সঙ্গে কি ন্যায়সংগত আচরণ করা হয়েছে?

জেনারেল জ্যাকব: আমি মনে করি সরকার খুব উদারতা দেখায়নি। তিনি পেনশন পেয়েছেন ১,৩০০ রুপি, এটা সেনাপ্রধানের পদ থেকে মাত্র ১০০ রুপি বেশি। তাকে আর কোনো পারিতোষিক দেওয়া হয়নি, গাড়িও নয়, কিচ্ছু না।

করণ: অবসরের কয়েক দিন পর তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল আপনার? কেমন দেখেছিলেন তখন তাকে?

জ্যাকব: তাকে খুব বিমর্ষ আর নিঃসঙ্গ মনে হচ্ছিল। কী হয়েছে জানতে চাইলাম আমি। বললেন, ইন্দিরা দেবীর সঙ্গে বৈঠকে প্ল্যানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদটি চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইন্দিরা দেবী প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত কোনো দেশের হাইকমিশনারের পদ নিতে বলেন। এতে তিনি আপসেট হয়ে পড়েন।

করণ: তার মানে, প্ল্যানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদ না পেয়ে তিনি আপসেট হয়ে পড়েছিলেন। তিনি কি জানিয়েছিলেন, কেন তিনি ওই পদটি চান?

জ্যাকব: না, তিনি বলেননি। তবে আমার ধারণা, পদটির জন্য তিনি নিজেকে যোগ্য বলেই মনে করতেন। তা ছাড়া পদটি তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

করণ: আর তিনি ওই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন?

জ্যাকব: হ্যাঁ।

করণ: অবসরে যাওয়ার পর তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন। আপনি তখন কলকাতার আর্মি কমান্ডার। সে সময় তার একটা গাড়িও ছিল না। আপনি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম আপনার প্রতি রুষ্ট হন?

জ্যাকব: হ্যাঁ। তিনি বলেছিলেন, তুমি কেন গাড়ি দিতে গেলে? ফিল্ড মার্শাল বলে তো তার গাড়ি পাওয়ার অধিকার নেই। আমি বলেছিলাম, দেখুন, ফিল্ড মার্শাল বলে আমি তাকে গাড়ি দিইনি। দিয়েছি সৌজন্য হিসেবে; পূর্বাঞ্চলের সব সাবেক সেনাপ্রধানকেই আমি এই সৌজন্যটুকু দেখাতে চাই।

করণ: কিন্তু তখনকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি?

জ্যাকব: না।

করণ: সেই ১৯৫০ থেকে আপনার সঙ্গে মানেকশর জানাশোনা। ব্রিগেডিয়ার হিসেবে তখন তিনি ডিরেকটর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্বে। আর আপনি দিল্লির একজন মেজর। সেই সব দিনে তিনি প্রায়ই আপনার সঙ্গে নানা বিষয়ে পরামর্শ করতেন?

জ্যাকব: হ্যাঁ। অমি প্রায়ই তার ওখানে যেতাম। তিনি খুব উদার আর অতিথিপরায়ণ ছিলেন। আমার সঙ্গে অনেক বিষয়ে কথা বলতেন। এটা একটা দুর্ভাগ্য যে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার প্রায় ছিল না বললেই চলে। যুদ্ধের প্রথম দিকেই তিনি গুরুতর আহত হন। সে কারণে যুদ্ধে একটা আস্ত ব্যাটালিয়ন পরিচালনা করার সুযোগ তার হয়নি। এ জন্য প্রায়ই তিনি আমাকে কথা বলার জন্য ডেকে পাঠাতেন।

করণ: তাহলে তো বলা যায়, যুদ্ধ সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা কম ছিল।

জ্যাকব: ঠিক তাই।

করণ: তার মানে, মিলিটারি অপারেশনের পরিচালক হিসেবে এগুলো ছিল তার ঘাটতি। সেই তুলনায় আপনি পুরো পাঁচ বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কাজ করেছেন। এ কারণেই আপনার পরামর্শ তার প্রয়োজন ছিল।

জ্যাকব: প্রয়োজন ছিল কি না বলতে পারব না। তবে আমাকে তিনি প্রায়ই ডাকতেন।

করণ: এরপর ১৯৬১ সালে মানেকশর সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয় আপনার। তিনি তখন ওয়েলিংটনে স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট, আর আপনি ছিলেন প্রশিক্ষক। ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আপনাকে ডাকা হয়েছিল সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য?

জ্যাকব: হ্যাঁ, জেনারেল কাউল আমাকে ডেকেছিলেন, বলার মতো কিছু থাকলে আমি যেন সাক্ষী হিসেবে তা বলি। কিন্তু আমি সাক্ষ্য দিতে রাজি হইনি। ঊর্ধ্বতনের বিরুদ্ধে কিছু বলা কখনোই আমার স্বভাব ছিল না।

করণ: আপনি কি মানেকশকে রক্ষা করার জন্যই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেননি?

জ্যাকব: আমি মনে করি, আমাকে বসের বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে বলা হয়নি। আমি যদি তা করতাম, তাহলে মানেকশ ঝামেলায় পড়তে পারতেন।

করণ: আপনি সাক্ষ্য দিলে মানেকশ ঝামেলায় পড়তেন?

জ্যাকব: আমি বলেছি, এতে সমস্যা হতে পারত।

করণ: তার মানে আপনি বোঝাতে চাইছেন, আপনি সাক্ষ্য দিলে, আপনি যা জানেন তা বললে মানেকশ অপরাধী প্রমাণিত হতেন?

জ্যাকব: না, আমি তা মনে করি না। আমি বলছি, তার সমস্যা হতে পারত।

করণ: সে সময়ের কথা যত দূর মনে পড়ে, মানেকশ মুখ-পাতলা স্বভাবের মানুষ, এমন জনশ্র“তি ছিল। ওয়েলিংটন ক্লাবের আড্ডায় বসে প্রায়ই তিনি ভারতীয়দের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। ভি কে কৃষ্ণ মেনন বা জেনারেল কাউলের মতো লোকদের সমালোচনা করতেন। আমার ভুল হয়ে না থাকলে আপনি তখন ওয়েলিংটন ক্লাবের অনারারি সেক্রেটারি। মানেকশ সম্পর্কে বলা এসব গল্প কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?

জ্যাকব: আমি কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না।

করণ: আপনি কিছুই বলবেন না?

জ্যাকব: না।

করণ: কিন্তু আপনি এসব কথা অস্বীকার করছেন না?

জ্যাকব: আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

করণ: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণঃ আপনি কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না; আবার অস্বীকারও করছেন না।

এবার ১৯৭১-এর যুদ্ধ প্রসঙ্গে আসি, যে কারণে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তখন আপনি ছিলেন মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চল কমান্ডের চিফ অব স্টাফ। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ওই সময় মানেকশ রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে ছিলেন। এ কারণেই এপ্রিলের বদলে নভেম্বর মাসে যুদ্ধে যোগ দেয় ভারতীয় বাহিনী। এটা কতটুকু সঠিক?

জ্যাকব: বিষয়টিকে বরং এভাবে দেখুন, এপ্রিলের শুরুতে তিনি আমাকে তিনবার ফোন করে বাংলাদেশে সেনা পাঠাতে বলেন। আমিই প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিই। আমি তাকে এর কারণও ব্যাখ্যা করি।

করণ: আপনি কী কী কারণ দেখিয়েছিলেন তা আমরা শুনব। তবে তার আগে বলুন, ওই আদেশ ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি কি নাখোশ হয়েছিলেন?

জ্যাকব: না।

করণ: তিনি বিরক্ত হয়েছিলেন?

জ্যাকব: হ্যাঁ।

করণ: এখন বলুন, আপনার কারণগুলো কী ছিল?

জ্যাকব: আমরা মাউন্টেন ডিভিশনের সেনা। কিন্তু বাংলাদেশে গেলে আমাদের অনেক নদী পেরোতে হবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় বাহন আমাদের ছিল না। অথচ সামনে বর্ষাকাল। তা ছাড়া ওই সময় বাংলাদেশে অভিযান শুরু করলে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়াও কঠিন হতো। আমি মানেকশকে কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বলেছিলাম, ওই মুহূর্তে এটা আসলেই সম্ভব ছিল না।

করণ: এখানে দুটি বিষয়ঃ প্রথমত আপনি যে কারণ বললেন, সেগুলো খুবই ঠিক। কিন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি বিষয়গুলো ধরতে পারেননি, মেনেও নেননি।

জ্যাকব: তিনি কী চিন্তা করেছিলেন, সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।

করণ: কিন্তু এটা তো পরিষ্কার যে তিনি আপনাকে চাপ দিচ্ছিলেন, বিরক্ত হয়ে তিনি আপনাকে তিনবার ফোন করেছিলেন।

জ্যাকব: দিল্লি থেকে তার ওপর চাপ ছিল।

করণ: দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, আপনিই তাকে জানান যে এপ্রিলে বাংলাদেশে সৈন্য নিয়ে গেলে বিপর্যয় হতে পারত?

জ্যাকব: হ্যাঁ, আমাদের বিপর্যয় হতে পারত।

করণ: তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এ রকম, লোকে বলে রাজনৈতিক চাপে মানেকশ বাংলাদেশ অভিযান বিলম্বিত করেছিলেন, কিন্ত আসল সত্যটি হলো, পূর্বাঞ্চল কমান্ড তাকে তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ ধরিয়ে দেওয়ায় তিনি পিছু হটতে বাধ্য হন। তা না হলে তিনি হয়তো রাজনৈতিক চাপের মুখে রাজি হতে বাধ্য হতেন।

জ্যাকব: ঠিক। সম্ভবত আমাদের বার্তা পেয়েই তিনি মন্ত্রিপরিষদে গিয়ে ‘না’ বলে আসেন।

করণ: এখন বলুন, সেই যুদ্ধে ভারতের রণকৌশল কী ছিল? পূর্বাঞ্চলের সেনাপ্রধান হিসেবে আপনি মে মাসে আপনার পরিকল্পনা দিল্লিকে জানান। কিসের ভিত্তিতে সেই পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন আপনি?

জ্যাকব: আমরা ঠিক করেছিলাম, যুদ্ধ জয়ের জন্য আমাদের আগে ঢাকা দখল করতে হবে। ঢাকাই ছিল পূর্ব পাকিস্তানের কেন্দ্রবিন্দু। কাজেই ঢাকা দখল করা ছাড়া যুদ্ধজয়ের উপায় ছিল না।

করণ: তাহলে আপনার রণকৌশলের মূল বিষয়টি ছিল ঢাকা দখল?

জ্যাকব: ঠিক তাই।

করণ: মানেকশ তার পরিকল্পনা নিয়ে আগস্টে কলকাতায় পূর্বাঞ্চল কমান্ডের সদর দপ্তরে যান। আপনার পরিকল্পার সঙ্গে সেটির কী পার্থক্য ছিল?

জ্যাকব: তার পরিকল্পনা ছিল একবারেই আলাদা। তার মিলিটারি অপারেশনের ডিরেকটর কে কে সিং মানেকশর যে আদেশনামাটি পড়ে শুনিয়েছিলেন তা ছিল এ রকম, ‘খুলনা ও চট্টগ্রাম দখল করো, ওই অঞ্চলগুলোই বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার।’

করণ: আদেশনামায় ঢাকার কোনো কথাই ছিল না?

জ্যাকব: একেবারেই না।

করণ: আমি জেনেছি, কলকাতার সেই সভায় নানা মত নিয়ে কটু বাক্যবিনিময় হয়। আপনি বেশ জোর দিয়েই মানেকশকে দেখিয়েছিলেন, ঢাকা দখলের পরিকল্পনা না থাকা তার রণকৌশলের একটি বড় ত্র“টি। তিনি কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন তখন?

জ্যাকব: তাকে অনেকটাই হতাশ মনে হচ্ছিল। তিনি বলেছিলেন, প্রিয়, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না, খুলনা আর চট্টগ্রাম দখল করতে পারলেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়? কারও কথা মনঃপূত না হলে তিনি ওইভাবে ‘প্রিয়’ স¤ে¦াধন করতেন। আমি তাকে বলেছিলাম, ওই কৌশলে কীভাবে যুদ্ধ জয় সম্ভব, তা আমি বুঝতে পারছি না।

করণ: মানেকশ তখন আপনার বস, সেনাপ্রধান জেনারেল অরোরার মতামত জানতে চান। দুজনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল?

জ্যাকব: মানেকশ জানতে চেয়েছিলেন, জেনারেল অরোরা তার সঙ্গে একমত কি না। অরোরা বলেছিলেন, ‘জি স্যার, আমি পুরোপুরি একমত।’

করণ: অর্থাৎ আপনি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছিলেন। জেনারেল মানেকশ, জেনারেল অরোরা ও ডিএমও কে কে সিং সবাই ছিলেন খুলনা ও চট্টগ্রাম দখলের পক্ষে। ঢাকার কথা তারা হিসাবেই নেননি।

জ্যাকব: হ্যাঁ, জেনারেল মানেকশ সরকারকে তার পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। সরকার সে অনুযায়ীই অনুমতি দিয়েছিল।

করণ: ডিসে¤¦রে যখন যুদ্ধ শুরু হলো, তখনো কি ঢাকা দখলের বিষয়টি পরিকল্পনায় ছিল না?

জ্যাকব: আমাদের লিখিতভাবে যে যুদ্ধপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে খুলনা ও চট্টগ্রাম দখলের নির্দেশনা ছিল।

করণ: তখনকার এয়ার চিফ মার্শাল পি সি লাল ভারতীয় বিমানবাহিনীতে আমার দিনগুলি বইয়ে লিখেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী আশাই করতে পারেনি যে, পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর পতন ঘটবে। তারা এটাও আশা করেনি যে ঢাকার পতন ঘটবে।

জ্যাকব: ঠিক তাই।

করণ: তাহলে জেনারেল মানেকশও আশা করেননি যে পূর্ব পাকিস্তানের পতন হবে, ঢাকাও পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়ে যাবে।

জ্যাকব: ঠিক।

করণ: পি সি লাল আরও কিছু বিষয় তার বইয়ে তুলে ধরেছেন। মানেকশ সব সময় দাবি করতেন, তিনি একাই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবেই বলতেন, নৌ ও বিমানবাহিনী তার আদেশে কাজ করত। কিন্ত পি সি লাল লিখেছেন, ‘সেনা, নৌ ও বিমানÑতিন বাহিনীকেই তাদের সুবিধা অনুযায়ী চলতে দেওয়া হয়েছিল।’ কোনটি সত্যি?

জ্যাকব: এর জবাব দেওয়া কঠিন। লালই ঠিক বলেছেন।

করণ: আপনি নিশ্চিত?

জ্যাকব: হ্যাঁ। নিশ্চিত।

করণ: মানেকশর আচরণে অনেক সেনা কমান্ডার ক্ষুব্ধ ছিলেন। উদাহরণ, ১৯৭১-এর সেপ্টে¤¦রে ডি পি ধরকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় যান মানেকশ। তার সামনেই ধর কয়েকজন সেনা কমান্ডারকে ভর্ৎসনা করেন। এটা শুধু বিবেচনাহীনই ছিল না, বেঠিকও ছিল।

জ্যাকব: উচ্চপদের কমান্ডারদের নিয়ে কলকাতায় একটা সভাও হয়েছিল। সেখানে মানেকশ আমাদের সবাইকে তিরস্কার করেন।

করণ: এ কারণে জেনারেলদের মধ্যে কোনো বাজে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

জ্যাকব: তারা ভীষণ রকম রেগে গিয়েছিলেন।

করণ: যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগে, সেই সংকটজনক মুহূর্তে সেনাপ্রধানের কাছ থেকে এমন ব্যবহার নিশ্চই আশা করেননি আপনারা।

জ্যাকব: আমি শুধু এটুকুই বলব, মানুষ বিস্মিত হয়েছিল যে, ডি পি ধর, যিনি কিনা একজন রাজনীতিবিদ এবং প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের মানুষ, তিনি সেখানে বসে শুধু শুনে গেলেন।

করণ: এবার যুদ্ধ প্রসঙ্গে আসি। আমি নভে¤¦রের কথা বলছি। ঢাকা দখলের জন্য মানেকশ আপনাকে সৈন্য দিতে অস্বীকার করলেন। কারণ ঢাকা যুদ্ধাঞ্চলের বাইরে ছিল। আপনি তখন চীন সীমান্ত থেকে তিন ব্রিগেড সৈন্য তুলে নিয়ে আসেন। তিনি বিষয়টি কীভাবে দেখেছিলেন?

জ্যাকব: তিনি খেপে যান। তবে এ নিয়ে ডিএমও জিলের সঙ্গে আমার কথা বলা ছিল। তিনি ঢাকা দখলের পক্ষে ছিলেন। মানেকশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরে তিন ব্রিগেড সৈন্য আনার কথা শুনে তিনি জিলের ওপর রেগে আগুন হয়ে যান। তক্ষুনি সৈন্যদের ফেরত পাঠাতে বলেন।

করণ: কিন্তু তাদের ফেরত পাঠানো হয়নি।

জ্যাকব: আমার সঙ্গে এ নিয়ে জিলের দীর্ঘ আলোচনা হয়। আমি তাকে বলি, সৈন্য ফিরিয়ে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

করণ: তার মানে সেনাপ্রধানের নিষেধাজ্ঞার পরও হলে তিন ব্রিগেড সৈন্য থেকে যায়?

জ্যাকব: জিল এটা সামাল দেয়। তবে সে আমার কাছ থেকে কথা আদায় করে রেখেছিল, ওই সৈন্যদের বাংলাদেশে পাঠানোর আগে অবশ্যই তাকে জানাতে হবে।

করণ: তাহলে ওই তিন ব্রিগেডের কাছে যাওয়ার সুযোগ আপনার ছিলঃ যদিও আপনি কথা দিয়েছিলেন যে, অনুমতি ছাড়া আপনি তাদের বাংলাদেশে ব্যবহার করবেন না।

জ্যাকব: আমি আশা করেছিলাম, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে আমি অনুমতি পাব। আমি প্রতিদিন অনুমতি চেয়েছি, পাঁচ দিন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৮ মার্চ মানেকশ অনুমতি দেন।

করণ: যদি আগে অনুমতি পেতেন, তাহলে কি পাঁচ দিন আগে ঢাকা দখল করা সম্ভব হতো?

জ্যাকব: হয়তো পারতাম না, তবে ঢাকার পতন ত্বরান্বিত হতো, এটা নিশ্চিত।

করণ: আরেকটি বিষয়। ডিসে¤¦রের ২-৩-৪ তারিখে যুদ্ধ শুরু হলো। আপনাদের ওপর আদেশ ছিল শুধু খুলনা ও চট্টগ্রাম দখল করার। কিন্তু আপনি তা করলেন না। আপনি সরাসরি ঢাকা দখল করার জন্য এগিয়ে গেলেন। আর এটাই সঠিক কৌশল বলে সব সময় বিশ্বাস করতেন আপনি।

জ্যাকব: ঠিক তাই।

করণ: ১৩ ডিসে¤¦রের দিকে নজর দেওয়া যাক। ভারতীয় সৈন্যরা রংপুর, দিনাজপুর ও সিলেটের মতো শহরগুলো পাশ কাটিয়ে ঢাকার উপকণ্ঠে পৌঁছে গেল। এর অর্থ, আপনারা রাজধানীর কাছাকাছি চলে গেলেন। কিন্তু যশোর ও কুমিল্লা ছাড়া আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ শহরই আপনারা নিয়ন্ত্রণে নিলেন না। পাকিস্তানিরা যেসব শহর ছেড়ে চলে গেছে, আপনারা শুধু সেগুলোই দখলে নেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির এই মূল্যায়ন কি ঠিক?

জ্যাকব: হ্যাঁ।

করণ: সেই সময়ে ভারতের জন্য একটা শঙ্কা ছিল যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করার আগেই হয়তো অস্ত্রবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ আসতে পারে।

জ্যাকব: হ্যাঁ, তখন জাতিসংঘের অধিবেশন চলছিল।

করণ: ওই সময় কোনো গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে না রেখেই ভারত যদি অস্ত্রবিরতিতে যেতে বাধ্য হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত।

জ্যাকব: কঠিন বিপদ হতো।

করণ: মানেকশ তখন আপনাকে একটা আদেশনামা পাঠান। কোর কমান্ডারদের সবার কাছেই তার অনুলিপি পাঠানো হয়েছিল। আপনাকে বলা হয়েছিল পথের প্রতিটি শহর দখল করার জন্য। জবাবে তাকে কী জানিয়েছিলেন?

জ্যাকব: ওই আদেশে ঢাকার কথা কিছুই বলা ছিল না, ঢাকার প্রসঙ্গই আনা হয়নি। আর আপনি এমনি এমনি একটা শহর দখল করতে পারেন না। এ জন্য অনেক সময় লাগেঃ অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

করণ: তাহলে আপনি তার আদেশনামা অমান্য করেছিলেন?

জ্যাকব: দেখুন, ইতিহাসে এর উদাহরণ রয়েছে। হোরেশিও নেলসন তার অন্ধ চোখে টেলিস্কোপ লাগিয়ে বসে ছিলেন।

করণ: আপনিও ঠিক তা-ই করলেন?

জ্যাকব: হ্যাঁ, আমরাও তা-ই করলাম। নির্দেশমতো ফেলে আসা শহরগুলো দখল করতে গেলে আমরা আর ঢাকা জয় করতে পারতাম না।

করণ: ১৫ ডিসে¤¦রের প্রসঙ্গে আসি। পাকিস্তানের কমান্ডার জেনারেল নিয়াজি অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব পাঠালেন। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঢাকায় তার অধীনে ৩০ হাজার সৈন্য ছিল।

জ্যাকব: হ্যাঁ, প্রায় ৩০ হাজার।

করণ: আর ঢাকার বাইরে আপনার ছিল মাত্র তিন হাজার সৈন্য। আপনার চেয়ে তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১০ গুণ বেশি?

জ্যাকব: হ্যাঁ।

করণ: একই সময়ে আবার জাতিসংঘের অধিবেশন চলছিল। ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য একটি প্রস্তাব তুলেছে পোল্যান্ড। রাশিয়াও জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের পক্ষে ভেটো দেবে না। জ্যাকব: পোল্যান্ড তখন রাশিয়ারই পক্ষভুক্ত।

করণ: তার মানে, ১৫ ডিসে¤¦রের ওই সময়টাতে পূর্ব পাকিস্তান বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন ছিল না যে,পাকিস্তানিদের আÍসমর্পণ করতেই হবে।

জ্যাকব: দেখুন, নিয়াজি তখন আমাদের কাছে সংকেত পাঠিয়ে দিয়েছেন; আমেরিকাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের অধীনে অস্ত্রবিরতি হবেঃ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সৈন্য প্রত্যাহার করা হবেঃ দায়িত্ব হস্তান্তরও হবে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায়। আর যুদ্ধ নয়, অপরাধ নয়ঃ। বিষয়টা ছিল এ রকম।

করণ: নিয়াজি চাইলে জাতিসংঘের অস্ত্রবিরতির উদ্যোগের আগে ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে আরও দু-তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারতেন। আর তা হলে ভারতীয় বাহিনীর জন্য খুবই বিপদ হতো, কারণ কোনো গুরুত্বপূর্ণ শহরই তখন ভারতের দখলে ছিল না।

জ্যাকব: একদম ঠিক।

করণ: এখন আসি ১৬ ডিসেম্বরে। নিয়াজির অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আপনি পৌঁছালেন। এর চার ঘণ্টা পর অস্ত্রবিরতি পরিণত হলো পাকিস্তানি বাহিনীর নিঃশর্ত আÍসমর্পণে। এতে আপনার ভূমিকা কী ছিল?

জ্যাকব: তখন একটি ঘটনা ঘটে। ১৬ ডিসে¤¦র সকালে মানেকশ আমাকে ফোন করে বলেন, ঢাকা গিয়ে ওদের আÍসমর্পণ করাও। আমি তাকে বলি, আÍসমর্পণের একটি খসড়া দলিল দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। ওই দলিলের শর্ত অনুযায়ী আমি দরকষাকষি করব কি না, তা আমি তার কাছে জানতে চাই। মানেকশ আমাকে বলেন, তুমি ওখানে যাও, গেলেই জানতে পারবে কী করতে হবে। দিল্লিতে যে দলিলটি পাঠিয়েছিলাম, সেটির খসড়া নিয়ে আমি ঢাকায় পৌঁছাই। সঙ্গে ছিলেন একজন স্টাফ অফিসার। ঢাকা বিমানবন্দরে জাতিসংঘের মার্ক হেনরি, কেলি ও অন্যদের সঙ্গে আমার দেখা হয়। তারা বলেন, আমরা অস্ত্রবিরতি ও পাকিস্তানি সৈন্য প্রত্যাহার এবং ঢাকার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর তত্ত্বাবধানের জন্য আপনার সঙ্গে আসছি। আমি বলি, অনেক ধন্যবাদ আপনাদের। কিন্তু আপনাদের সাহায্য আমার দরকার পড়বে না। এরপর আমি নিয়াজির সদর দপ্তরে রওনা হই। একজন পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার আমার সঙ্গে ছিলেন। মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সৈন্যদের মধ্যে রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছিল। মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করছিল। তারা আমার সঙ্গে থাকা ব্রিগেডিয়ারকে হত্যা করতে চাইছিল। অনেক কষ্টে পাকিস্তানি সদর দপ্তরে পৌঁছে আমি আÍসমর্পণের খসড়া দলিলটি নিয়াজিকে পড়ে শোনাই। নিয়াজি বললেন, আপনারা কেবল অস্ত্রবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। আমি আÍসমর্পণ করতে চাই, এ কথা কে বলল? এই নিয়ে আমাদের মধ্যে তর্ক চলতে থাকল। তিনি জানতে চাইলেন এটা নিঃশর্ত আÍসমর্পণের প্রস্তাব কি না। আমি তাকে বলি, চুক্তিটি আমরা সম্মানের সঙ্গে করব। সব বেসামরিক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হবে। পাকিস্তানি সৈন্যদেরও নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কাজেই এটা নিঃশর্ত আÍসমর্পণ নয়।

করণ: এরপর কী হলো? তাকে কীভাবে রাজি করালেন?

জ্যাকব: আমি তাকে বলি, জেনারেল, আÍসমর্পণ করলে আমরা আপনার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। ভারত সরকার আপনাকে কথা দিচ্ছে, আপনার ও আপনার সৈন্যদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, বেসামরিক লোকদের সরিয়ে নেওয়া হবে।

করণ: আÍসমর্পণ না করলে তাকে রক্ষার দায়িত্ব আপনারা নেবেন না, এমন কথা আপনি বলেছিলেন?

জ্যাকব: আমি একটু অন্যভাবে বলেছিলাম। নিয়াজিকে আমি বলি, আÍসমর্পণ না করলে আমরা কোনো দায়িত্ব নিতে পারব না।

করণ: তারপর কী ঘটল?

জ্যাকব: তিনি তার কথা বলতেই থাকলেন। শেষ পর্যন্ত আমি তাকে বলি, জেনারেল, আমি এর চেয়ে ভালো কোনো শর্ত দিতে পারছি না। আপনাকে ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হলো। এর মধ্যে আÍসমর্পণ না করলে আমি আবার যুদ্ধ শুরুর আদেশ দিতে বাধ্য হব।

করণ: ওই ৩০ মিনিট কেমন লাগছিল আপনার? ভয় পাচ্ছিলেন?

জ্যাকব: ঠিক ভয় পাচ্ছিলাম না। আমি পায়চারি করছিলাম আর ভাবছিলাম, খোদা, ওদের ৩০ হাজার সৈন্য; আর আমাদের মাত্র তিন হাজার। ওরা যদি ‘না’ বলে দেয়, তখন আমি কী করব! আমার কাছে এর কোনো জবাব ছিল না।

করণ: ৩০ মিনিট পর আপনি যখন নিয়াজির ঘরে গেলেন, কী বললেন তিনি?

করণ: তিনি একেবারেই শান্ত ছিলেন। আমি হেঁটে তার সামনে গেলাম। আÍসমর্পণের দলিলটা টেবিলের ওপর ছিল। আমি তাকে বললাম, জেনারেল, আপনি এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন? তিনি জবাব দিলেন না। আমি তিনবার তাকে একই প্রশ্ন করলাম। প্রতিবারই তিনি চুপ করে থাকলেন। আমি দলিলটি তুলে নিয়ে বললাম, আমরা ধরে নিচ্ছি, আপনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন।

করণ: তিনি তখন কেঁদে ফেলছিলেন।

জ্যাকব: হ্যাঁ, তার চোখে পানি ছিলঃ

করণ: আপনি তাকে বিশ্বাস করাতে পারলেন যে, আপনি তার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেনঃ। তবে এক দিক দিয়ে এটাকে আপনি তার চালাকি বলে মনে করেছেন।

জ্যাকব: হ্যাঁঃ হঁ্যাঁ।

করণ: ৩০ হাজার সৈন্যের সুবিধা কাজে না লাগিয়ে তিনি আপনার প্রস্তাবে সায় দিলেন?

জ্যাকব: দেখুন, পরে তাকে এ জন্য নিজের ঊর্ধ্বতনদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে। তিনি তখন বলেছিলেন, আমি তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছি। আমি নাকি তাকে বলেছি, প্রস্তাবে রাজি না হলে তার সব সৈন্যকে আমি ফাঁসিতে ঝোলাব।

করণ: পুরো কাজটি আপনি একা সামলেছেন এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে। কিন্তু এর কৃতিত্ব আপনি পাননি। আপনি কী বলেন? ইতিহাস কি আপনার প্রতি নির্দয় আচরণ করেছে?

জ্যাকব: না, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। সৈনিক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি।

করণ: আরেকটি প্রশ্ন। আজ আপনি এক অন্য মানেকশকে তুলে ধরেছেন। আমরা ফিল্ড মার্শাল মানেকশকে যেভাবে চিনতাম, তা থেকে ভিন্নভাবে। আপনি ধরিয়ে দিয়েছেন, তিনি যে রণকৌশল ঠিক করেছিলেন, তা ছিল ভুল। তার ওয়েলিংটনের দিনগুলো নিয়ে আপনি যা বলেছেন, তাও সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হতে পারে। আপনি আপনার কোনো বক্তব্য ফিরিয়ে নিতে চান?

জ্যাকব: দেখুন, আমি ভিন্ন কিছুই তুলে ধরিনি। আপনি আমাকে প্রশ্ন করেছেন, আর আমি আমার সাধ্যমতো তার উত্তর দিতে চেষ্টা করেছি।

করণ: আপনি আপনার বক্তব্যের ব্যাপারে অনড়?

জ্যাকব: অবশ্যই। সেনা আদেশ-সংক্রান্ত বিষয়ে আমি যা বলেছি, সে-সংক্রান্ত সব দলিলই সেনা সদর দপ্তরে আছে।

করণ: জেনারেল জ্যাকব, ইন্ডিয়া টুনাইটে আপনাকে পেয়ে আমরা আনন্দিত। ধন্যবাদ।

দায়স্বীকার:
Click This Link

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.2 (5টি রেটিং)

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এ সাক্ষাৎকারটি বিসর্গে পোষ্ট করে আমাদের পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।

সাক্ষাতকারটির জন্য ধন্যবাদ। তবে শুরুতে আপনার ভুমিকাটা যথেষ্ট বিভ্রান্তিকর।

জটিল তথ্য। সাথে পাঁচ তারা পোষ্টের জন্য।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

পাকসেনাদের উদ্দেশ্য খারাপ ছিল এবং ফলাফল হচ্ছে এই নৈতিক পরাজয়।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.2 (5টি রেটিং)