৭১ এবং ২০১০ পরবর্তী আওয়ামীলীগ: হত্যা, খুন আর নির্যাতনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

প্রথম লেখার সাথে এক করে আবার প্রকাশ হল।

আমি ইতিহাসের ছাত্র নই। কিন্তু ইতিহাস জানাটা আমার নেশা। বহুদিন ধরেই
ভাবছিলাম, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পরবর্তী সময়ের সঠিক ইতিহাস জানতে
হবে। তাই ছুটি পেলেই আমার বন্ধু কাউকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি কিছু জানার আশায়্ ।
আমি গত এক বছর যাবত চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস
একদম মানুষের মুখ থেকে শুনতে। এই জন্য আমি বিভিন্ন বয়সি বৃ্দ্ধ মানুষদের
কাছ থেকে জেনেছি কি ঘটেছিল একাত্তরে। সত্যতা যাচাই বাছাইয়ের জন্য আমি
বিহারী পল্লীতে ও গিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলতে যেয়ে সম্মুখিন হয়েছি অনেক
প্রতিবন্ধকতার। এই সাক্ষাতকার গুলো নিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে একটা সত্য
ইতিহাস তুলে ধরার ইচ্ছা আছে। অনেক লোমহর্ষক কাহিনী আর অজানা ইতিহাস আছে
তাদের বুকের মধ্যে লুকিয়ে। যদি বেচে থাকি তাহলে আপনাদের সাথেও শেয়ার করতে
পারব এসব ইতিহাস ইনশাহআল্লাহ।

 কিন্তু প্রতিকুল পরিবেশ হওয়ার কারনে আমার কাজ অনেকটাই থেমে গেছে। সব খানেই সবাই কেমন যেন সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। কিছুদিন হল আলীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের তোড়জোড় শুরু করেছে। এটাকে যুদ্ধাপরাধী না বলে বলা হয়েছে মানবতা বিরোধী বিচার। যেই  বিচারিক কর্মকান্ডের আওতায় শুধু জামায়াত ইসলামী আর আলীগ বিদ্বেশীরা আসবে। যদিও জানি আমার এই লেখা বাঙলাদেশের কোন কিছুরই কোন পরিবর্তন আনবে না। তারপরও লেখা দরকার। কারন মানুষকে জানতে হবে কি ঘটেছিল ৭১ এ।

শেখ মুজিবের ব্যাপক জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন ছিল তিনি সব মানুষের কথা বলেছিলেন স্বাধীনতার পুর্বে। যার কারনে ছোট থেকে বড়, হিন্দু থেকে মুসলিম, বাংগালী থেকে বিহারী, গরিব থেকে ধনী, সকলেই তার আহ্বানে এগিয়ে এসেছিল। বিহারীদের একটা অঙশের সাথে বরাবরই বাঙগালীদের একটা বিরোধ ছিল। দুই পক্ষের মধ্যেই ছিল চাপা ক্ষোভ যা কিনা বের হয়ে আসছিল না পরিবেশের অভাবে। এইটা জানতেন শেখ মুজিব। এই ব্যপারে দিক নির্দেশনাও তার ছিল। কি বলেছিলেন তিনি সেদিন??
২ রা মার্চ ৭১, শেখ মুজিবের ভাষনের অঙশ বিশেষ

““ জনসাধারনকে সব সময় উষ্কানী দাতাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে ভাষা ও জন্ম স্থান নির্বিশেষে বাঙলাদেশে বসবাসকারী সকলেই আমাদের লোক। তাদের জান মাল ও সম্পদ সকলই আমাদের কাছে আমানত। এবং এগুলো অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।একই কখার পুনরাবৃত্তি করে শেখ মুজিব বলেন আপনারা গুন্ডা আর লুটেরাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। ””
শেখ মুজিব বাঙলাদেশের সকল মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেও তিনি ব্যাথৃ হয়েছিলেন তার দলের লোকদের নিয়ন্ত্রনে। তারই প্রতিফলন ঘটে কিছুদিন পরেই। স্বাধিনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই শুরু হয় আওয়ামী গুনডাদের তান্ডব লীলা।যেখানেই তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেছে সেখানেই চলেছে ভয়াবহ হত্যাযগ্গ যা কিনা হিটলারের নৃশঙসতাকেও লজ্জায় ফেলে দেয়।

++ বগুড়া জেলার শান্তাহারে ১৫ হাজারের বেশি লোককে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা  করা হয়। মহিলাদের উলংগ করে রাস্তায় ঘুরানো হয় ।

++ চট্রগ্রামে ১০ হাজারের বেশি লোককে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ছোট একটি এলাকাতেই আড়াইশো মহিলা ও শিশুকে বেয়নেট দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

++ সিরাজগন্জে সাড়ে তিনশত মহিলা ও শিশুকে একটি হলে তালাবদ্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। ফলে তারা সবাই জীবন্ত পুড়ে মারা যায়।

" ++ কিশোর গন্জের বাজিতপুর ছিল এক সাক্ষাত মৃত্যুপুরি। সেখানে ১২৬ জন সাধারন মানুষকে হত্যা করেছিল মুজিব বাহিনী আর রক্ষী বাহিনী।
+++ পিরোজপুরে তাদের কথা না শুনায় গায়ে কম্বল পেচিয়ে কেরোসিন ঢেল আগুন
ধরিয়ে দেয় আমেনা নামক এক মহিলাকে। বালিগায়ে আকবর নামক এক লোককে ধরতে না
পেরে সীমাহীন নির্যাতন করে তার মা কে।
++++ ইকোরাটিয়ায় রশিদ নামক এক লোককে তারা প্রথমে গুলি করে হত্য করে।
তারপর তার বাবার হাতে কুঠার ধরিয়ে দিয়ে বলে তার ছেলের মাথা কেটে দিতে ।
তাদের কথা না শুনায় সীমাহিন নির্যাতন করে তারা তার বাবার উপর শেষে বাধ্য
হয়ে নিজ হাতে ছেলের মাথা কাটে রশিদের বাবা। পরে সেই মাথা দিয়ে ফুটবল খেলে
মুজিব আর রক্ষী বাহিনীর বীর সদস্য রা।

++ ময়মানসিঙহের সানকিপাড়া এলাকায় দুহাজার পরিবারের একটি কলোনিকে সম্পুর্ন নিশ্চহ্ন করা হয়। পুরুষদের ঘর থেকে বের করে গুলি করে মারা হয় আর মহিলাদের গন ধর্ষন করা হয়। এরপর তাদের দিয়ে তাদের পুরুষদের কবর খোড়ানো হয়। অবশেষে মহিলাদেরও হত্যা করা হয়।

++ ১৯৭১ সালের ৩ ও ৪ মার্চে আওয়ামীলীগের বিক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের ওয়ারলেস কলোনিতে আক্রমন করে ব্যাপক লুটতরাজ করেছিল। সেখানে তারা মহিলাদের ধর্ষন আর ও পুরুষদের হত্য করে। পরে সেখানে শেখ মুজিব পরিদর্শনে যেয়ে জনগনের কাছে এইসব সন্ত্রাষিদের দমনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ করেন।

++ ফিরোজ শাহ কলোনীতে ৭০০ ঘর লোক পুড়িয়ে মারা হয়।

উপরোক্ত তথ্য EAST PAKISTAN DOCUMENTATION SERIES : বাঙলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ, ৭ম খন্ড থেকে নেয়া। পৃ: ৩১৯, ৩২১, ৩২২

++ নয়া দিল্লির স্টেটসম্যান পত্রিকা ৪ঠা এপ্রিলে বলে :
“পাকিস্তানের পুর্বান্চলের আটকা পড়া অবাংগালী মুসলমান সব সময় উত্তেজনার শিকার হয়েছে। ”

“ ৬ই এপ্রিল লন্ডনের দি টাইমস পত্রিকায় খবর ছিল দেশ বিভাগের সময় হাজার হাজার অসহায় মুসলিম  অবাংগালী ক্ষুব্ধ বাংগালীদের হত্যা যগ্গের স্বীকার হয়। ”

“ ২৮ শে এপ্রিল নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর হল ৩৫ হাজার বাংগালী আর কয়েক হাজার পাঠান ও অন্যান্য অবাঙগালী পুর্ব পাকিস্তানে নৃশংস ভাবে নিহত হয়।”

টরেন্টো ডেইলি স্টারে তথ্যমতে সরকারী হিসাবে সাম্প্রদায়িক সঙঘাতে পূর্ব পাকিস্তানে মে মাসের ৮ তারিখের পুর্ব পর্যন্ত ৩০ হাজার অবাংগালী নিহত হয়েছে।

এই হল আওয়ামীলীগের নৃশংশতার ক্ষুদ্র একটা চিত্র। এটা যদি মানবতা লংঘনের মধ্যে না পড়ে তাহলে আমার মনে হয় মানবতা বলতে কিছু নাই। আমার ফুফা একজন মুক্তিযুদ্ধা তাকে বলেছিলাম যে ফুফা, এগুলো কি সত্য?

ফুফা বলেন বাবা যুদ্ধের সময় এরকম অনেক কিছুই ঘটে। হয় তাই হবে। তাইতো একাত্তরে আওয়ামীলিগের লোকেরা কিছু করলে সেটা হয় মুক্তিযুদ্ধ। আর অন্য কেই কিছু করলে সেটা হয় যুদ্ধাপরাধ।

এরপরের পর্বে থাকবে আওয়ামীলিগের লোকেরা কিভাবে বিভিন্নকায়দায় নৃশংসভাবে মানুষ খুন করে তারই কিছু ইতিহাস।
"" বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বয়োবৃদ্ধদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাসের ভিডিও ক্লিপগুলো ইউটিউবের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।""

চলবে…………………………………………

 
প্রথম লেখার সাথে এক করে আবার প্রকাশ হল।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (7টি রেটিং)

ভালো লাগল, পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম। তবে লেখককে বানানের দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ করা হল।

(পোষ্টটি স্টিকি করা হোক)

-

সূর্য রশ্নি

ধন্যবাদ ভাই। এরপর খেয়াল রাখব অবশ্যই।

-

hasan

"এই উদ্দ্যশ্যে আমার কর্ম ততপরতাও আপনাদের জানিয়েছি গত লেখায়"
আগের লেখার লিন্কটা কি দেয়া যাবে?

অবশ্যই।

-

hasan

আপনার তথ্য সঙগ্রহ এখন কোন পর্যায়ে?

-

হিটলার

একটা ওয়েবসাইট দেখছিলাম কয়েকদিন থেকে। সেটা কি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার?
একটা সাইটের উদ্যোগ নেয়া দরকার দেশের বাইরে থেকে যেখানে এসব লেখাগুলোকে বাংলা ও ইংরেজীতে প্রকাশ করা যাবে।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

সরকার বাংলাদেশি হোষ্টিং কোম্পানি কে হুমকি দিয়ে সার্ভার থেকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করেছিল, পরে বাইরে থেকে হোষ্টিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।তবে সবচেয়ে বড় পাবলিসিটি করে দিয়েছে কালের কন্ঠ এই খবরটায়। কালের কন্ঠকে ধন্যবাদ। Laughing out loud

"বগুড়া জেলার শান্তাহারে ১৫ হাজারের বেশি লোককে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা  করা হয়। " এই লোকগুলি কি বিহারী জাতি গোষ্ঠির ছিল?

"নয়া দিল্লির স্টেটসম্যান পত্রিকা ৪ঠা এপ্রিলে বলে : "  কোন সালের?

লেখা তথ্যবহুল হচ্ছে তবে আরেকটু গোছানো হলে ভাল হয়।  আর রেফারেন্সিং আরেকটু ভালো হওয়া দরকার।

 

 


 

ওটা ১৯৭১ সালের প্রতিবেদন। রেফারেন্স আর কত দেব বলেন। সরকার তো পেপারের কাটিঙ দিয়ে ফাসি দিয়ে দিচ্ছে।

-

hasan

বেশি দিতে বলিনি, যেগুলো আছে সেগুলোই আরেকটু মান সম্মত ভাবে দেয়ার কথা। এইযে রেফারেন্সটা ৭১ সালের এইটা কিন্তু না জিজ্ঞেস করলে জানতে পারতাম না।

পুনশ্চঃ আপনার গবেষনার জন্য শুভ কামনা। Smiling

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (7টি রেটিং)