ধর্ষকদের ওপর আল্লাহ গজব নেমে আসুক

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই ছাত্রলীগ ধর্ষণের মহড়া শুরু করে।  ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের এক নেতা ধর্ষণের সেঞ্চুরি উৎসব করেছিল। তখন তিরস্কৃত হলেও ওই ছাত্রলীগ নেতাকে পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ যা করছে তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ধর্ষণের সেঞ্চুরি উৎসবকেও হার মানাচ্ছে । যে দলের নেতারা প্রায়  প্রতিদিনই  একাত্তরে নারী ধর্ষণের কথা বলেন, তাদের লোকরাই যখন ধর্ষণের রেকর্ড গড়ে, তখন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক-তাহলে এরাই কি পাকিস্তানীদের উত্তরসূরী?

যাহোক, ছাত্রলীগের ধর্ষণের ইতিহাসে আরো একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্য দিলো টাঙ্গাইলের ছাত্রলীগ নেতারা। আজকের অধিকাংশ দৈনিকে এসেছে,

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় মধ্যযুগীয় কায়দায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার পৈশাচিকতা শুধু ধর্ষণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তারা উল্লাস প্রকাশ করেছে। কিশোরী ধর্ষিতে বাদী হয়ে মামলা করলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামিরা প্রতিনিয়তই হুমকি দিচ্ছে তাদের বংশকে নির্বংশ করার। আসামিদের হুমকিতে পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শনিবার সকালে ধর্ষিতের পরিবার বাড়ি ছেড়ে আত্মরক্ষার্থে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।
 মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার এস আই মিজানুর রহমান জানান, সখীপুর পৌর এলাকার কাহারতা গ্রামের ওই কিশোরী (শান্তা আক্তার) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নবম শ্রেণীতে পড়ে। কিশোরী গত ৫ জুলাই সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে সখীপুর বাজারে আসে খাতা কেনার জন্য। বাড়ি ফেরার সময় পথিমধ্যে সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ ইতিহাস ওরফে হাবিব, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আহমেদ, সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারের ভাগ্নে বাবুল আজাদ ও তার নাতি আরিফুল ইসলাম আকাশ জোরপূর্বক অপহরণ করে কিশোরীকে মোটর সাইকেল যোগে সখীপুর হাজিপাড়ায় আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। পরে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুলস্নাহ ইতিহাস ওরফে হাবিব কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগীরা ধর্ষণের চিত্র ভিডিও ধারণ করে। পরে আরেকজন পালাক্রমে ধর্ষণ করতে গেলে মেয়েটি সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটিকে তারা ধাওয়া করে। মেয়েটির চিৎকারে আশ পাশের লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষণকারী ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কিশোরী ধর্ষিতে বাদী হয়ে সখীপুর থানায় পরের দিন ৬ জুলাই মঙ্গলবার উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুলস্নাহ ইতিহাস ওরফে হাবিব, আরিফ আহমেদ, বাবুল আজাদ ও আরিফুল ইসলাম আকাশকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে বুধবার ভোরে আকাশকে গ্রেফতার করে।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা ধর্ষিতের পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলা, মামলা তুলে নেয়া ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ধর্ষিতের পরিবার অভিযোগ করে, এ মামলার আসামি আকাশকে গ্রেফতারের পর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার থানায় গিয়ে আসামি ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন ও অশোভন আচরণ করেন।

•    এর আগে পিরোজপুরে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের সময় ভিডিওচিত্রে সেই অশ্লীল দৃশ্য ধারণ করে ছাত্রলীগ ক্যাডার আহসান কবীর মামুন।  জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আহসান কবীর মামুন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের সময় তার বন্ধুদের দিয়ে ভিডিও চিত্রটি ধারণ করেই ক্ষান্ত হয়নি পরে তা সিডি করে বাজারজাত করা হয় ।

•    গত জুলাই মাসে  ফরিদপুরের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণীর এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে তার ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোন, ভিডিও সিডি আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে।ফরিদপুর জেলার সদরপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের এক কিশোরী বেড়াতে গিয়েছিলেন চরভদ্রাসনে তার নানীবাড়িতে। আর সেখানে তাকে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে তুষার, কালামসহ চার যুবক। মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় আবার সেই ধর্ষনের ভিডিওচিত্রও তুলে রাখে তারা।

•    যশোর সদর উপজেলার একটি গ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দৃশ্য ধারণকৃত শত শত ভিডিও সিডি বাজারে ও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই মেয়ের পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, জঙ্গাল বাঁধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে গ্রামের মনিরার বাড়িতে আটকে রেখে শুকুর নামে এক যুবক ধর্ষণ করে। আর ধর্ষণের এ দৃশ্য রফিকুল নামে আরেক যুবক ভিডিও করে। গত ১৪ এপ্রিল সকালে এ ঘটনা ঘটে। এরপর ভিডিওচিত্র সিডি করে তারা বাজারে ও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেয়। কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলা হবে বলে ওই স্কুলছাত্রীকে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়।

•    গত ১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় যশোরে দশম শ্রেণীর এক মুসলমান ছাত্রীকে সিঁদুর পরিয়ে ধর্ষণ করেছে শিশির ঘোষ নামক এক যুবক। শিশির ঘোষ স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

•    যশোরের কেশবপুর উপজেলার বায়শা গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চিত্র মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধারণ করে সহযোগীরা। এতে ধর্ষিতার পিতা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে একই গ্রামের মাসুদ ও ইজাজুল স্থানীয় মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে মহিউদ্দিন নামক এক ব্যক্তির পুকুরপাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ধর্ষণের চিত্র মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধারণ করা হয়। পরে তা সিডি আকারে বাজারে ছাড়া হয়।  এই ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িতরাও সরকারি দলের লোক।

•    গত ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় পূজামন্ডপ থেকে ফেরার পথে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ছাত্রলীগের ১০ কর্মী পালা করে ধর্ষণ করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ধর্ষিতার পিতা যাতে আইনগত ব্যবস্থা না নেন সেজন্য ধর্ষকরা ধর্ষিতার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা ৩টি সাদা কাগজে ধর্ষিতা ও তার পিতাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে।

•    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার সদরঘাটে ১১ বছরের এক কিশোরীকে ৫ জন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একটি ফাঁকা লঞ্চে ডেকে নিয়ে ভিক্ষুক কিশোরীকে ধর্ষণের পর অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৭নং ওয়ার্ডে ওই কিশোরীকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

•    ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার নোয়াপাড়ায় চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় গত ১ সেপ্টেম্বর অপহরণ করা হয়। ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ গোয়ালঘরের মাটিতে পুঁতে রাখে ধর্ষকরা। পুলিশ ও গ্রামের মানুষ গত ৩ অক্টোবর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মানিক ও সুজন নামে দুই সহোদরসহ তাদের মাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ পরিবারটিও সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

•    ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রীকে ১০ই এপিওল  দিনে-দুপুরে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগের দুই কর্মী। ক্যাম্পাসের ভিতরেই ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন।  

উপরে ছাত্রলীগের ধর্ষণের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র। বাস্তবতা হচ্ছে, এমন কোন দিন নেই, যেদিন ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে না। লোক-লজ্জার ভয় ও হুমকির কারণে তা মিডিয়া আসছে না। আওয়ামী লীগ সমর্থক ধর্ষকদের বিচার এ সরকারের আমলে হবে বলে মনে হয়। তাই ধর্ষকদের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসুক এটাই এ মুহুর্তের কামনা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

এগুলি পড়ার সাহস সন্চয় করে উঠতে পারি না কোন ভাবেই।

শুধু স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা, এই জালিমদের‌   দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এ দুনিয়াতেই দাও খোদা।

সালাম

আল্লাহ আপনার এই দোয়াকে কবুল করুন। যাতে করে, পৃথিবীর মানুষ বুঝে যে, নিরিহ্ অসহায় নারীর স্বতীত্ব হরণ আর আল্লাহর বিধানের সাথে তামাশা করার শাস্তি কতটা ভয়ংকর।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)