ইসলাম, গণতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ

কয়েকদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, সরকার ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আওয়ামী লীগসহ  বাম ঘরানার রাজনীতিবিদরা রীতিমত বিস্মিত হয়ে পড়েন। কিন্তু আদালতের রায়ের মাধ্যমে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর এখন অনেকেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে আগে থেকেই জানতেন যে, ধর্মীয় রাজনীতি আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হচ্ছে। উনি যাতে বলতে পারেন যে, আমরা তো ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চাইনি, এটা তো করেছে আদালত-এ জন্যই তিনি আগেভাগে উল্লিখিত মন্তব্য করেছেন। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের সময়ও মন্ত্রীরা বলেছিলেন, সরকার আমার দেশ বন্ধ করেনি, এটা করেছে আদালত।

আদালতের দোহাই দিয়ে আওয়ামী লীগ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেও এ কাজটি তারা করেছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অনুযায়ী। কারণ ইসলামের সাথে তাদের শত্রুতা  বহু পুরনো।  দেশ স্বাধীনতা অর্জনের সাথেই আওয়ামী লীগ এদের ইসলাম এবং ইসলামী ঐতিহ্যের উপর চরম আঘাত হানে। শেখ মুজিবের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে একরা... খালাক অর্থাৎ ‘পড় তোমার প্রভূর নামে’, পবিত্র কোরআনের এই আয়াতকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলিম শব্দ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ইসলাম শব্দ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দেয়াসহ দেশব্যাপী অগণিত স্থাপনা থেকে মুসলিম ও ইসলামী ঐতিহ্যের পরিচয় বহনকারী কোন চিহ্ন সহ্য করতে না পেরে বিলুপ্ত করে দেয়।

এদেশীয় মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বদল করে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একজন আমেরিকান খৃস্টান মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করছেন। বিয়ের পর তার নামও পরিবর্তন হয়নি এবং মুসলমানও হয়নি। শেখ রেহেনার ছেলেও একজন বিদেশী ইহুদীর মেয়েকে বিয়ে করেছেন। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রীও লন্ডনে বসবাসকারী একজন ভারতীয় হিন্দুর মেয়ে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদে মনোনয়ন দিয়ে যাকে ধন্য করেন, সেই কথিত মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল চক্রবর্তী একজন হিন্দুকে বিয়ে করে সংসার করছেন। অবশ্য মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য তিনি স্বামীর চক্রবর্তী নামটি উল্লেখ করেন না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় চরম ইসলাম বিদ্বেষী কবির চৌধুরী আজ জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত, বাংলা একাডেমীর পরিচালক এবং জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দেশে ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর পাঁয়তারা করছেন। কবির চৌধুরীরা আজ মুসলিম নাম ধারণ করে সমাজে বসবাস করলেও তার বোন ফেরদৌসী মজুমদার একজন কট্টর হিন্দু রামেন্দু মজুমদারকে বিয়ে করে সংসার করছেন।
ধর্ষণের সেঞ্চুরীয়ান খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সোনার ছেলে জসিমউদ্দিন মানিক আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক। ইসলাম বিদ্বেষী লেখক সালাম আজাদ আজ কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনার। যে কবি শামসুর রহমান নামাযের আযানের ধ্বনিকে বেশ্যার খদ্দের আহ্বানের সাথে তুলনা করেছিলেন, সেই ইসলাম বিদ্বেষী শামসুর রহমানকে জাতীয় পুরস্কারে গৌরবান্বিত করেছিলেন এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকে মন্ত্রীদের উপস্খিতিতে কোরআন তেলাওয়াতের পরিবর্তে রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করছেন। ক’দিন আগে ডেপুটি স্পিকার বললেন, কালো চেহার ঢাকার জন্য মহিলারা বোরকা পড়ে।  

বর্তমান সরকারের ভিতর গণতন্ত্র বিরোধী ফ্যাসিবাদের সমর্থক লোকজনের অভাব নেই। যে বামপন্থীরা এক সময় গলা কাটার রাজনীতি করতেন, যাদের কারণে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে, তারাই আজ মহাজোট সরকারের নীতি নির্ধারণী ভূমিকায় অবতীর্ণ। দেশ স্বাধীনের পর মানুষ যখন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে শ্লোগান দিতো, তখন মতিয়া চৌধুরী, শফিক আহমদ, নাহিদ, মেনন ও ইনু সাহেবরা বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গশত্রু বলে উপহাস করতেন। যারা বঙ্গবন্ধুর গায়ের চামড়া দিয়ে পহেলা বৈশাখে ডুগডুগী বাজানোর শ্লোগান দিতেন, সেই তারাই আজ বঙ্গবন্ধুর নৌকার মাঝি। সুতরাং সময় থাকতে সাধু সাবধান।

সরকার আজ দেশে ইসলামী অনুশাসন ও কৃষ্টি মেনে চলার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নামাযী ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর করে নামায আদায়ে বিরত রাখছেন। ইসলামের ফরজ বিধান পর্দা পালনকারী বোরকা পরা মেয়েদের উপর হামলা করছেন। বোরকা পরা ধর্মীয় গোড়ামী এবং বোরকা প্রগতির অন্তরায় বলে শ্লোগান তুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মেয়েদের বোরকা পরিত্যাগ করতে যারা বাধ্য করছেন, তারা কি ইসলাম পরিত্যাগকারী মুরতাদ নয়?
একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সমাজে শাসক মহলের এই নির্মম নিষ্ঠুরতা ও গণতন্ত্র বিপর্যয়ের ফ্যাসিবাদের এই উলঙ্গ নৃত্য এবং সংবাদপত্র দলন, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার লংঘনে সরকারের এই বেপরোয়া তৎপরতার পরও কি বলতে হবে আওয়ামী লীগ ইসলাম ও গণতন্ত্রের চরম শত্রু নয়?

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

শিরোনাম টা অদ্ভুত।

ইসলাম, গণতন্ত্র ও আওয়ামীলীগ, তিনটির অবস্থান তিন দিগন্তে। একসাথে হিসাব এ যাবৎ মেলেনি, ভবিষ্যতেও মিলবে বলে মনে হয় না। অন্তত আওয়ামীলীগের সাথে।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

আল্লাহ আমাদেরকে তাঁকে বুঝার তৌফিক দিন। তাঁর দ্বীনকে মেনে চলার তৌফিক দিন।

-

"এই হলো মানুষের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা ও হেদায়াত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।" [আলে-ইমরান: ১৩৮]

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)