ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক

ছাত্ররা কেন যেন মনে করে শিক্ষকরা রাজ্যের সব জানে। মান্যবর শিক্ষকদের কেউ কেউ হয়ত এটারই সুযোগ নিয়ে থাকেন। তাঁকে সব জান্তার অভিনয় করতে হয়! আদৌ কি তার প্রয়োজন আছে?

শিক্ষকদের প্রধান কাজ পড়ানো নয়, হয়ত এটাকে অন্যতম বলা যেতে পারে। তার থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ছাত্রের সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করা, নার্সিং করা; সেটাকে পথ দেখানো। সেই বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ হয় কি?

শিক্ষকতাকে বলা হয় নোবেল প্রফেশন, কারণ সব পথপ্রদর্শকই ছিলেন শিক্ষক। নবীরা যেমন উম্মতের কাছে অনুসরণীয়, শিক্ষকরাও ছাত্রদের কাছে তেমনি। এখানে প্রফেশনের প্রতি প্যাশন অপরিহার্য।

অনেক ছাত্রের কাছেই এটা অসহনীয় যে, শিক্ষকরা ছাত্রদের অনর্থক হয়রাণী করেন। এমনটা আমিও একবার ভেবেছিলাম, যখন সম্মানীয় শিক্ষক একটা অ্যাপ্লিকেশনে সামান্য ভুলের জন্য লাইব্রেরি থেকে ডিকশনারী দেখে শব্দটা ঠিক করে আনতে বললেন। এমনটা কিছুতেই অন্যায় হতে পারে না। ছাত্রের ভুলের গুরুত্ব বুঝানো শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

ছাত্রদের কাউকে কাউকে দেখা যায় শিক্ষকের সামনে যেতে ভয় পেতে। অথচ তাঁরা মোটেও সেরকম নন। মুর্খরা ভয় পাবে জ্ঞানীদের কাছে যেতে। জ্ঞানের অন্বেষণে পিপাসী কারও উচিত নয় ভীত হওয়া। তবে শিক্ষকরা এগিয়ে এলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

আমরা কখনও এমনটিও দেখি যে, শিক্ষকরা ছাত্রদের দ্বারা লাঞ্ছিত হচ্ছেন, অপমানিত হচ্ছেন; এসবও কি সম্ভব? হচ্ছে তো! আমার আব্বা একজন শিক্ষক। একদিন শুনলাম, উচ্ছৃংখল ছাত্রদের অন্যায় দাবীর কাছে মাথানত না করায় 'ছাত্ররা' বাতচিত করতে যেয়ে তাঁর সামনে থাকা চেয়ার লাথি দিয়ে ফেলে দিলো। আব্বা তাঁর ২৮ বছরের শিক্ষকতার জীবনে এত কষ্ট পেয়েছেন কিনা জানি না, খুব কষ্ট করেই তিনি তাঁর কষ্টকে সংবরণ করেছিলেন সেদিন। কেন বাপু, সন্ত্রাসীই যদি তোমার কাজ হয়ে থাকে তবে ছাত্রত্ব থেকে নামটা কেটে দিলেই পার!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

আমার অভিজ্ঞতা বলে, বাংলাদেশে শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক কিরকম হবে সেটা প্রায় পুরোটাই নির্ভর কর শিক্ষকের উপরে।

আমাদের দেশে সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হচ্ছে ভাবমুর্তি! হাসাহাসি করাটা জ্ঞানী লোকদের ওজন কমিয়ে দেয়! ছাত্রদের সাথে দুরত্ব (!) বজায় রাখাটা ভাবমুর্তির জন্য নিরাপদ!

আমি  ইউনিতে ছাত্র শিক্ষক উভয় অবস্থায় সাধারণত টিশার্ট, জিন্সের প্যান্ট আর স্যান্ডেল পরে‌‌্যেতাম। শিক্ষকতার প্রথম কয়েকবছর সিনিয়র টিচাররা আমাকে অসংখ্যবার নসিহত করেছেন স্যুটেড বুটেড হয়ে আসার জন্য, নাইলে নাকি শিক্ষকদের মান থাকেনা! পরে অবশ্য তারা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন!

 

 

মানুষের মনোযোগ একটানা ৫-৭ মিনিটের বেশি ধরে রাখা কঠিন। একারণেই নাকি গানগুলোর দৈর্ঘ ৫-৭ মিনিটের বেশি হয় না। কাজেই এক ঘন্টা বা দেড় ঘন্টার লেকচার এমনভাবে দেওয়া উচিত যাতে স্রোতা মনোযোগ হারানোর সুযোগই না পায়। এক্ষেত্রে ইউসুফ এস্টেসের লেকচার বেশ ভাল লাগে।

অনুরণন ভাই, ভালো পয়েন্ট ধরেছেন। তারপরও আমি মনে করি টিচারের একধরনের এস্টিম নিয়ে চলা উচিত এবং সেটাকে নষ্ট করা উচিত নয়। তবে হাসাহাসি করলে তা নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এমন স্ট্যাটাস নিয়েই তাঁর চলা উচিত যাতে ছাত্ররা এমন খাজুরে আলাপ বা বিষয় উত্থাপনের সুযোগ না পায় যেটা তার বন্ধুর সাথে করে থাকে।

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)