ভালোবাসা নিয়ে সাদামাটা কিছু লেখা

ভালোবাসা নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়, আমি আর কি লিখব? আর যা হয়ত লিখব তাও খুবই সাধারণ। তারপরও ইচ্ছা হলো, এটা না হয় নিজের জন্যই থাক।

গ্রামে আমাদের বাড়ী। ওখানে দাদা-দাদী, চাচা-চাচীরা থাকেন। নানা বাড়ীও বেশি দুরে নয়। ঐ একই জেলার শহরে থাকেন আব্বা আম্মা। কাজেই একবার সময় করতে পারলে তিন জায়গা থেকেই ঘুরে আসা যায়। মুশকিল হয়, যখন একদিনের জন্য যাওয়া হয়। দিনে দিনেই চলে গেলে দাদা ভীষণ রাগ করেন। আর ঐদিকে আম্মার ঝাড়ি, তোমার এভাবে আসার দরকার কি? ফেরার সময় ঢাকায় আমরা কি খাই না খাই সেই অযুহাতে আব্বা একগাদা বাজার করে দেন। দাদীও দেন আম কাঠাল যা পারেন।

সেইবার দাদী আমাকে ডেকে বলতেছেন। ক্যা! যখন আমি ছেলের বাসায় জিনিস পাঠাইতাম, তোর আম্মা রাগ করে বলত- আম্মা যে কি করে না! আর এখন যখন তোর বাসায় পাঠায় তখন কিছু হয় না? ওই তো বাবা! আমি করলেই সব দোষ! আমি খালি হাসি। এসবের আমি কিছুই বুঝি না।

বাড়ী গেলে সকালে একটা গরম সেদ্ধ ডিম খাওয়ানো দাদীর বেশ পুরানো দিনের অভ্যাস। কোনদিনও হয়ত জিজ্ঞাসা করা হয়নি, দাদী আপনি খেয়েছেন। করলেও হয়ত বলবেন, আমার খাওয়া লাগবে না। ছোট একটা পেয়ারা গাছে হয়ত দুই তিনটা পেয়ারা ধরেছে। ওর মধ্যে বড়টাকে তিনি চোখে চোখে রাখবেন তাঁর বড় নাতি এসে এটা খাবে। গোপনে এসে আমাকে তা দিয়ে যাবেন! আমি এসবের কিছুই বুঝি না, দমাদম খেয়ে শেষ! আজব লাগে মানুষের ভালোবাসা দেখে।

বাসায় গেলেও একই অবস্থা। পায়েশ যে আমার প্রিয়, এইটা আম্মা বুঝে ফেলেছেন। বাসায় আম্মা পাশে থাকলেই ভাল লাগে। এত বেশি হাসেন, ছোটাছুটি করেন যে দুঃখ কষ্ট আর কিছুই থাকে  না! আমার খুব ভালো লাগতেছে যে , আম্মা এখন আমার বাসায়। একবার তিনি এসে হুটমুট করে আমার ব্রাউজারে এসে চোখ বুলাবেন, ব্লগ নিয়ে থাকলে কেটে দিয়ে পাশে বসে থাকবেন; অথবা পড়ার মত হলে নিজেই পড়া শুরু করবেন। মিনিট খানেকের মধ্যেই গল্প শুরু করে দিবেন। ভাল মজা করে বলতেও পারেন। হঠাৎ বলে বসবেন, আমি থাকলে তোমার পড়া হচ্ছে না। এরপর উঠে পাশের ঘরে বোনের কাছে গিয়ে বসবেন। এই তুই কি পড়ছিস? নিজেই হয়ত আইনের বাংলা কোন বই থাকলে সেটা পড়ে ওকে বুঝাবেন। আর আমি পাশের ঘর থেকে মা মেয়ের হাসি শুনতে থাকব।

রাতে নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়ব, ফজরে উঠার কোন টেনশন নাই। আম্মা আছে না? ডেকে উঠাবেনই। আমার খুব ভাল সমালোচক, পরামর্শক আম্মাকে ছাড়া আর কাউকে দেখি না। এমন মানুষ পাশে থাকলে নিশ্চিন্তে থাকা যায়। কিন্তু কতদিনই আর থাকবেন, ম্যক্সিমাম হয়ত সপ্তাহখানেক। তারপর চলে যাবেন আপন সংসারে। মায়েরা ছেলেমেয়েদের ভালোবাসেন ঠিকই, কিন্তু স্বামীদের থেকে মনে হয় বেশী না! Sad

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (7টি রেটিং)

প্রসংগত মনে পড়ছে...

২৮শে অক্টোবর নিয়ে একটা স্মারক বের করা হয়েছিলো। সেখানে মুজিবর রহমান মন্জু ভাইয়ের একটা লেখার কিয়দংশে এরকম ছিলো যে, উনি বিয়ের পর কোন একটা মুহুর্তে তাঁর সহধর্মীনিকে জিজ্ঞেস করছিলেন তিনি (তাঁর সহধর্মীনি) শহীদের মা হওয়া পছন্দ করবেন নাকি শহীদের স্ত্রী হওয়া। অনেক্ষণ চুপ থেকে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, শহীদের মা। একথা শুনে মন্জু ভাই হো হো করে হেসেছিলেন। আর সেটা পড়ে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিলো।

লেখাটা চমৎকার ছিল।।

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

আপনার ব্লগিং এর স্টাইল টা পছন্দ হইছে। পঞ্চতারকা খচিত হইল Smiling

তাই! আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

সত্যি??? মেয়েরা সত্যিই স্বামীকে ছেলেমেয়েদের চেয়ে বেশি ভালোবাসে?? আমি কিন্তু ওরকম দেখি নি Sad(। আমার নানা বেঁচে নেই কিন্তু নানী বাড়ি যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যান। নিজের সংসারের মায়াই হয়তো আলাদা! খুব ভালো লাগলো আপনার টুকরো টুকরো ভালোবাসার গল্প পড়ে। পড়ে বলতে ইচ্ছা করলো রোজিনা আন্টির গল্প! আন্টি যখন প্রেগনেন্ট ছিলেন, তখন আন্টি দোআ চাচ্ছিলেন যখন সুস্থ বাচ্চার জন্য, তখন আমিও দোআ চেয়ে বসলাম দুইটা কারণে। আন্টিও বললেন আমার জন্য দোআ করবেন, আমিও বললাম আন্টির জন্য দোআ করব। এরপর আমার সেটা তেমন মনে ছিল, হয়তো মনে পড়লে ক্যাজুয়েলি এক লাইনের দোআ করে দিয়েছি। অতটুকুই।আন্টির বাচ্চা হওয়ার পর যখন দেখতে গিয়েছি তখন আন্টি আমার হাত ধরে বললেন, 'আমার যখন লেবার পেইন হচ্ছিল, তখন আমি তোমার নাম ধরে তোমার জন্য দোআ করেছি। ইনশাআল্লাহ তোমার সব ঠিক ঠাক মত হবে।' আমি এত টাচড হয়েছি যে আমার চোখে পানি চলে এসেছিল! আশে পাশের মানুষ সম্পর্কে এতটা সচেতন থাকা কিভাবে সম্ভব! তাও যেখানে রক্তের সম্পর্ক নেই, নিজের বাচ্চা হচ্ছে, তেমন অবস্থা!!! 

ধন্যবাদ। আপনার গল্পটা শুনেও প্রীত হলাম।

আজ আমার কলিগের সাথে একসাথে আসছিলাম। উনি উনার ফ্রেন্ডকে সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছিলেন কারণ তাঁর বোন বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে মারা গেছেন খুব রিসেন্টলি। ডাক্তার বলেছিলেন সন্তানকে বাঁচাতে গেলে মাকে বাঁচানো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। তবুও স্বামী ঝুঁকির দিকেই মত দিলেন। শেষে বউ সন্তান সবই হারালেন। শুনে খুব কষ্ট লাগল। ঠিক এধরনের কোন উল্টা ব্যাপার থাকলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস মেয়েরা ওভাবে চিন্তা করত না!

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

উনার ফ্রেন্ড হয় একটা বদ লোক নয়তো পাষন্ড। ওই বেটার আর একটা বিয়ে করার নির্ঘাত ইচ্ছা আছে। দেখবেন খুব শিঘ্রি করেও ফেলবে। আমার মত হল যদি অনেক আকঙখিত সন্তানও হয় তারপর মায়ের জীবন বিপন্ন হওয়ার ভয় থাকলে সন্তানের চিন্তা মাথা থেকে সরানো উচিত।

-

hasan

কিছু মানুষ থাকেন খুবই ভালো। উনি ওই পর্যায়ের।

-

hasan

মুজিবর রহমান মন্জু ভাইয়ের একটা লেখার কিয়দংশে এরকম ছিলো যে, উনি বিয়ের পর
কোন একটা মুহুর্তে তাঁর সহধর্মীনিকে জিজ্ঞেস করছিলেন তিনি (তাঁর সহধর্মীনি)
শহীদের মা হওয়া পছন্দ করবেন নাকি শহীদের স্ত্রী হওয়া। অনেক্ষণ চুপ থেকে
তিনি জবাব দিয়েছিলেন, শহীদের মা।

কেনরে ভাই উনার বউ কি শহীদের গর্বিত স্ত্রী হতে চান না?

আসলে উনার বউ খুব চালাক। ছেলে তো একটা হারালে আরও থাকবে। কিন্তু প্রানপ্রিয় স্বামী গেলে..........

-

hasan

লেখাটা পড়েছিলেন নাকি? অসাধারণ ছিলো।

 

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

না ভাই, পড়ার ভাগ্য এখনো হয় নাই।

-

hasan

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (7টি রেটিং)