কারো গ্রেফতারের খবর শুনলে এখন আর আতকে উঠিনা

জীবনে জেনেশুনে কখনো কোনো অন্যায় কাজ করিনি।যত সম্ভব চেষ্টা করি সকল ধরনের
ঝামেলা এড়িয়ে চলতে।থানা পুলিশের ভয় নাই এমন মানুষ পৃথিবীতে খুজে পাওয়া
দুস্কর।পুলিশ নামটি শুনলেই আতকে উঠেন অনেকে আমি তাদেরই একজন।অন্যায় না
করলেও পুলিশকে ভয় পাই লোকমুখে তাদের অন্যায় কর্মকান্ডের খবর শুনে।প্রবাদ
আছে বাঘে ধরলে একঘা আর পুলিশ ধরলে চৌদ্দ ঘা।পুলিশ ধরেছে আর তাকে নির্যাতন
আর হেনস্থা করেনি এমন লোক খুজে পাওয়া যাবেনা। অনেকের কাছেই পুলিশ একটি
আতংকের নাম।পুলিশ সহ সকল আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়ন্ত্রিত হয় ক্ষমতাসীন
রাজনৈতিক দলের নেতাদের দ্বারা।যাদের কথায় পুলিশ চলে আবার সময়ের পরিবর্তের
সাথে সাথে তাদেরকেই পুলিশ বুট দিয়ে আঘাত করতে পিছপা হননা।এটাই যেনো নিয়মে
পরিনত হয়েছে।

একটা সময় ছিলো পারিবারিকভাবে বা কোনো আত্নিয় স্বজন পুলিশের ঝামেলায়
পরেছে শুনলেই আতকে উঠতাম।আতংক বিরাজ করতো।শিউরে উঠতো সারা গা।এখন আর
পুলিশের গ্রেফতারের কথা শুনলে ভয় পাইনা।সামান্য আক্ষেপ লাগে।অনেক প্রিয়
প্রিয় নিরাপরাদ ব্যাক্তিরা আজ জেলে অন্তরিন।গত বছরের শেষের দিকের
ঘটনা।আমার মেঝো বোনের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে একটি অসাধারণ নাটক
মঞ্চস্থ করেছে আমাদের র্যােব বাহিনী।গভীর রাতে মেস থেকে ধরে নিয়ে তাদের
সাথে করে নিয়ে আসা বই আর ল্যাপটপ দিয়ে সাজিয়েছিলেন হিজবুত তাহরিরের সদস্য
আটক নামের নাটকটি।এটাই ছিলো আমার রক্তের সম্পর্কের কোনো ব্যাক্তির
আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহীনির হাতে আটক হওয়ার ঘটনা।নিরাপরাধ ভাগিনার
গ্রেফতারের খবর শুনে নিজেকে সামলাতে পারিনি।এই ভাগিনার ব্যাপারে এমন খবর
আসবে এটা ছিলো কল্পনার অতীত।কয়েকজন ব্লগারের সাথেও বিষয়টা শেয়ার
করেছিলাম।তারা সবাই ধৈর্যেয়র মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য যাওয়ার পরামর্শ
দিয়েছিলেন।বাস্তবা মেনে নেয়া ছাড়া কিছুই করার ছিলোনা তখন।প্রবাসে থেকেও যে
ভাগিনার সাথে একদিন কথা না বললে পেটে ভাত যেতোনা সেই ভাগিনার সাথে কথা হয়নি
২৯দিন।লোক মারফত শুনতে পেরেছি ভাগিনা আমার খুব কষ্টে আছে।কিছুই করার
ছিলোনা তখন আমার।অনেক কাঠখড় পুরানোর পর র্যাাব আমার ভাগিনার গ্রেফতারকে
দুঃখজনক উল্লেখ করে ছেড়ে দিয়েছিলো।কিন্তু এরই মাঝে ভাগিনার জীবন থেকে চলে
গেছে সম্ভাবনার একটি মাস।

আজকেও এরকম একটি খবর শুনে অবাক হলাম।আর তা আপনাদের সাথে শেয়ার করার
উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা।অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলাম।হঠাৎ
মোবাইলে বেজে উঠলো এসএমএস এর জন্য সেটিং করা রিংটোনটি।সারা দিন মোবাইল
কোম্পানী থেকে একটার পর একটা মেসেজ আসতে থাকে তাই মেসেজটা দেখতে খুব একটা
আগ্রহ বোধ করিনি।একটু পরেই আমার বাড়ীর নাম্বার থেকে একটা কল আসলো।বাড়ী থেকে
কল আসলেও তা রিসিভ করিনা।কেটে দিয়ে কল ব্যাক করি।তাই বাড়ীর কলটা কেটে দিয়ে
মেসেজটা খুলতেই গাঁ শিউরে উঠলো।মেসেজটাতে লেখা আছে আব্বার সিটিসেল
নাম্বারে টাকা পাঠাও ।মেঝো দুলাভাইকে পুলিশ এরেষ্ট করেছে।সাথে সাথেই
অনলাইন মোবাইল রিচার্জ সিষ্টেম এ আব্বার মোবাইলে টাকা রিফিল করে আপুর
নাম্বারের ফোন করে যা জানলাম তা হলো দুলাভাই মসজিদ থেকে ইশার নামাজ পড়ে বের
হবার পর ডিবি পুলিশের কয়েকজন লোক দুলাভাই এর পথ রুব্ধ করে এবং তাকে থানায়
যাওয়া জন্য বলে দুলাভাই কারন জানতে চাইলে তারা বলেন থানায় গেলে সব জানতে
পারবেন।দুলা ভাই এর সাথের মুসুল্লিরা বাসায় খবর দিলে আপু রামপুরা থানায় চলে
যান।একটু আগে রামপুরা থানায় অবস্থারত আপুর কাছে জানতে পারলাম আমার
পঞ্চাশউর্ধ দুলাভাইকে ১২ফেব্রুয়ারীর আগে ছাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।দুলাভাইএর
খবর শুনে উনার বৃন্ধ মা মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পরেছেন।

সবাই দুয়া করবেন যাতে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতাকে জালিম সরকারের হাত থেকে আল্লাহ রক্ষা করেন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

সালাম

ফি আমানিল্লাহ

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)