দুপুর থেকে গভীর রাতে টিভির রিমোট নারীর হাতে (আপুরা নিজ দায়িত্বে পড়িবেন )

কিরে বান্দর কি করছিস?
-দেখতেই তো পাচ্ছিস টম এন্ড জেরীর বাদরাঁমী দেখছি।
-বাদরাঁমী দেখে দেখে যে গ্রেট বান্দর হচ্ছিস সেটা তোর শত্রুও অস্বীকার করবেনা।
-কাকের মত কাঁ কাঁ না করে যে কাজে এসেছিস তা সেরে যে পথে এসেছিস সে পথে রাস্তা মাপতে মাপতে বাসায় যা।
-রিমোট মেরা হাত মে দে কে আমি যে পথে এসেছি সে পথে গিয়ে তুই রাস্তা মেপে দেখ মে নে কিতনা পা হেঁটে এসেছি।আমি ততক্ষন সিরিয়াল দেখি।আর শোন,যাওয়ার সময় একটা বস্তাও নিয়ে যাস।রাস্তা মাপতে মাপতে যত কাগজ সামনে পাবি সেগুলো বস্তায় ভরিস।কাগজ বিক্রি করে টাকা আমাকে দিস।তোর টাকাই বাদাম খানেমে বহুত মজা আতা হ্যায়।
-আজব কাহিনীতে ভরা যে সিরিয়ালগুলোতে হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে ভেঙে যেতে ৫মিনিট লাগে তা তোদের বাসায় গিয়ে দেখ।
-দেখ হিন্দী সিরিয়াল নিয়ে ৬৯মার্কা কমেন্ট করলে মাথার চুল একটাও থাকবে না।
-একশবার,হাজারবার করব।তোদের হিন্দী সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের মুখে সাত সকালে যে মেকআপের আস্তর থাকে সন্ধ্যার সময়ও একই রকম মেকআপের আস্তর ...আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই খালাত বোনটা মাথার চুল টেনে ধরতেই রিমোট দিয়ে দিলাম।
রিমোট দখলে নিতে আজকালকার নারীরা আমার মত অগনিত অভাগা পুরুষদের কেউ চুল ছেঁেড়,কেউ কিল-গুসি দেয়।সেদিন এক পাড়াত ভাই আফসোস করে জানাল,ভাবীর সিরিয়াল দেখার কারণে কোনদিনই রাতের খবর দেখতে পারেনা তাই রিমোট লুকিয়ে রাখায় ভাবী উনাকে একদিন না খাইয়ে রেখেছে।বছর সাতেক আগেও মা,চাচী,খালা,বোন,পাড়াত-খালাত-মামাত বোন আর ভাবীরা দুপুরে খাওয়া সেরে হয় ঘুমাত না হয় কয়েকজন মিলে সুখ-দুখের কথা বলত।কিন্তু আজকালকার

মা,চাচী,খালা,বোন,ভাবীরা দুপুরে রিমোট দখলে নেয় আর রিমোটের দখল ছাড়ে গভীর রাতে।টিভির সামনে বসে কি দেখে আজকালকার আধুনিক নারীরা?বাপ-বেটির টেলিভিশন বিটিভি না বেলা বিস্কুট টিভি ওরফে বিবিস?ডিসকভারি,ন্যাশনাল জিওগ্রাফি,এনিমেল প্লানেট নাকি কিডস চ্যানেল?নিও স্পোর্টস নাকি স্টার স্পোর্টস?প্রিয় পাঠক আপনাদের উওর যে ‘না’ তাতে এ অধমের কোন সন্দেহ নেই।তাহলে কি দেখছে?আপনারা যে মনে মনে বলছেন স্টার প্লাস,সাহারা ওয়ান,সনি,এনডিটিভি ইমেজিং তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই।

মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির এ যুগে পাশ্ববর্তী দেশের বিনোদনওয়ালারা আমাদের দেশীয় চ্যানেলগুলোকে তাদের ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করতে না দিলেও আমাদের দেশের সুশীল(?)বিনোদনওয়ালারা পাশ্ববর্তী দেশের চ্যানেলগুলোকে সাদরে আমাদের ড্রয়িংরুমের নিয়ে এসেছে।ড্রয়িংরুমে প্রবেশের সুযোগ পেয়েই আমাদের নারীদের মনের গভীরে প্রবেশ করেছে সিরিয়ালের উর্বশী,শর্বশী,কুমুকম,মেনকা,পার্বতীরা।পুরুষ সারাদিন পরিশ্রম করে মাস শেষে বেতন নিয়ে আসে আর সে টাকা থেকে ডিশ সংযোগের বিল দিয়ে আমাদের নারীরা একদিকে শিখছে বউ শাশুড়ীকে,শাশুড়ী বউকে,ননদ ভাবীকে,ভাবী ননদকে কিভাবে সাইজ করে;স্বামীকে কি করে দৌড়ের উপর রাখা যায়;কিভাবে স্বামী তালাক দেওয়ার পর দেবরকে বিয়ে করে সংসারে আগুন জ্বালাতে হয়।।অপর দিকে নারীরা গিলছে কি করে সিরিয়ালের নায়িকা ২স্বামীকে ম্যানেজ করছে আর পরকীয়ার রগরগে দৃশ্য।আগে নারীদের আড্ডায় নিজেদের সাংসারিক আলাপ হত আর এখন হয় সিরিয়ালের উর্বশী,পার্বতী,কুমকুমদের ভার্চুয়াল পরিবারের সমস্যা;আগে চলত ইংরেজী বলার প্রতিযোগিতা আর এখন চলে হিন্দী বলার প্রতিযোগিতা। যে কাহিনী দিয়ে এক পর্বের নাটকও হবে না সে কাহিনীকে লম্বা লম্বা করে করে কয়েক’শ পর্ব বানিয়েও সে কাহিনীকে আরো কয়েক’শ পর্ব লম্বা করতে পূর্নজম্ন করে ছাগলামী করা হয়।

সেদিন মেঝ খালার বাসায় গিয়ে টিভির রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখি সোফায় বসে টিভির দিকে থাকিয়ে খালাত ভাই মামুনের বউ মিলা ভাবী আর কাজের বুয়া কাঁদছে।কাজের বুয়া চোখের পানি মুছতে মুছতে খালাকে বলল,'এত সুন্দর বউডারে তালাক দিয়া দিল?’দৌড়ে গিয়ে ভাবীর পাশে বসে বললাম,মামুন ভাই তোমাকে তালাক দিল?
-আরে বুদ্ধ আমাকে না?সিরিয়ালে।দেখছনা সুন্দরী সেক্রেটারির প্রেমে পড়ে কিতনা সুইট বউটাকে তালাক দিয়ে দিল।মনে মনে বললাম,সারাজীবন যেন এমন বুদ্ধই থাকি

 


দৈনিক আমার দেশের ভিমরুলে লিখছিলাম

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

তাই নাকি? আমিতো দেখি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিভির রিমোট থাকে পুরুষ এবং বাচ্চাদের হাতে। নারীরা তো কাজ করতে করতেই অস্থির, টিভি দেখার সময় পান কখন?

ভাইজান কি অন্যকোন গ্রহ থেকে নাকি?হিন্দী সিরিয়ালের আগ্রাসনের দেখা কি আপনি পাননি?

আমি নিতান্তই নিরীহ টাইপের একজন শান্তিকামী মানুষ। তবে কেউ যদি আমার রুদ্রমুর্তি দেখতে চাই সে যেন এই সিরিয়াল টাইপের কিছু একটাতে চ্যানেল ঘুরিয়ে রাখে। বাসার লোকজন এইটা জানে।

শুধু দেখায় নয়, দুইজন নারী এক জায়গায় হলেই এমন করে এইসব গল্পে মশগুল হবে যে আপনি পাশে থাকলে একেবারেই বুদ্ধু বনে যাবেন। জগতে অনেক কিছু জানেন না ভেবে অপমানিতও হতে পারেন!

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

শুধু দেখায় নয়, দুইজন নারী এক জায়গায় হলেই এমন করে এইসব গল্পে মশগুল হবে যে আপনি পাশে থাকলে একেবারেই বুদ্ধু বনে যাবেন। জগতে অনেক কিছু জানেন না ভেবে অপমানিতও হতে পারেন!

 

 

কঠিন ভাবে সহমত

আমি ভাবছি নিচ থেকে দ্বিতীয় প্যারায় উল্লিখিত বৃত্তান্ত নারী হয়েও আমার জানা নেই কিন্তু লেখক জানল কি করে? লেখকও কি তবে নারী?! 
লেখাটা বিনোদনমূলক হয়েছে। যদি পুরুষদের পয়সাতেই ডিশের লাইন রেখে সমাজে এত বড় আগুন ধরে, তাহলে পুরুষদের দায়িত্ব তো বলে দিতে হবে না... 

 

নারী বিষয়ক আমার ফান ম্যাগাজিনে অনেকগুলো লেখা আছে।যেগুলো দেখলে আমাকে আপনার পুরুষ ভাবতে পারবেননা।হিন্দী সিরিয়াল আগ্রাসনের প্রতিবাদে কিছু লিখতে গেলে নারী হওয়া লাগেনা।চারদিকে একটু চোখ বোলালেই হয়ে যায়।আর হ্যা আপনি হয়ত তথাকথিত নারীদের মত না তাই অনেক কিছুই আপনার জানা হয়ে উঠেনি

পুরুষের দায়িত্ব বলতে কি মিন করেছেন ঠিক বুঝতে পারিনি।তাই জবাব দিতে পারলাম না।

পুরুষদের টাকায় এত সব হয়ে থাকলে পুরুষদের টাকার সোর্সটা বন্ধ করে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়... 

"হাতের মুঠোয় সবটুকু সুখ" পাইলে নেবে না কোন দুঃখে?

-

বজ্রকণ্ঠ থেকে বজ্রপাত হয় না, চিৎকার-চেঁচামেচি হয়; অধিকাংশ সময় যা হয় উপেক্ষিত।

তথাকথিত সুখ আর যায় এনে দিকনা কেন মনের সুখ এনে দিতে পারেনা।আমি কি ঠিক বলেছি?

সালাম

 

খুব সুন্দর  লিখেছেন ।  হিন্দী নাটকের আগ্রাসন নিয়ে   এখনই  আমাদের  ভাবা দরকার - খুব বেশী  দেরী  হয়ে যাওয়ার আগেই ।   যে কাজের বুয়া বা গ্রাম  থেকে  অল্প কিছুদিন আগে আসা কিশোরীটি  শুদ্ধ করে  বাংলা  বলতে পারে না , তারাও হিন্দী বোঝে , বাংলাদেশের নাটক না দেখে  হিন্দী নাটক দেখতে চায় ।

 

আমি নিজেও কিছুদিন   নেশাগ্রস্থের মত  হিন্দী  নাটক দেখেছি ।  আল্লাহর রহমতে  আজ এই নেশা থেকে মুক্তি  পেয়েছি ।  তবে  শুধু নারীদের দোষ  দিলে হবে  না , বাংলাদেশের পুরুষরাও   মিরাক্কল  বা বিন্নি ধানের খই  এর  প্রেমে  হাবুডুবু খাচ্ছে ।

আসুন সবার কথাই ভাবি ! এ সব সিরিয়াল তারাই দেখে যারা ঘরে থাকে । তারা সময় কাটাতে সিরিয়াল দেখে । আর তারা কি করবে ? আপনি মা বোন কে চাকরি করতে তো দেবেন না । তাদের কাজ থাকলে তারা এমনটা হয়তো করতো না !

-

"rAna,

সালাম

 

আমি  চাকরী  করি  না ,  হিন্দি  সিরিয়ালও  দেখি না ।   আগে যখন  ডিশ ছিল না , তখন  মা - বোনদের  সময় কাটতো কিভাবে ?     রান্না ,  সেলাই , বাগান করা , ভাল ভাল বই  পড়া -  সময় কাটানোর  জন্য   হিন্দি নাটক - সিনেমা দেখা জরুরী না ।  তাছাড়া  যারা  চাকরী করে  , তারাও  সিরিয়াল দেখে ।

 

 হিন্দির  আগ্রাসন , টিভির  কূ- প্রভাব  নিয়ে এখনই সচেতন  হতে  হবে । 

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)