“আসুন লাভজনক ব্যবসা করি”

“দয়াময় আল্লাহ, যিনি কোরআন সৃষ্টি করেছেন, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা বলা শিক্ষা দিয়েছেন”।
 
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে তাঁর বিশেষ রহমতে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন জ্ঞান ও বুদ্ধির দ্বারা। আর নেয়ামত স্বরূপ কথা বলার শক্তি দান করেছেন। যার মাধ্যম হলো ‘জিহ্বা’। এই নিয়ামতটি ভাল ও মন্দ দুটো কাজেই ব্যবহার করা যায়। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে ভালো কাজে ব্যবহার করবে সে দুনিয়াতেই সৌভাগ্য লাভ করবে। আর আখেরাতে সর্বোচ্চ আবাস জান্নাত লাভ করবে।

কিন্তু যে ব্যক্তি উহাকে মন্দকাজে ব্যবহার করবে সে উভয় জাহানে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পবিত্র কোরআন তেলায়াত করার পর সময়কে কাজে লাগানোর শ্রেষ্ঠ পন্থা হলো আল্লাহর যিকির করা। যে মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে না, সর্বক্ষণ আমার আপনার হেফাজত করছেন, সম্মান দিয়েছেন, সুস্থ রেখেছেন, পৃথিবীর মত এই সুন্দর আবাসস্থলে শান্তি মত বসবাস করার সুযোগ করে দিয়েছেন সর্বপরি সমস্ত সৃষ্টি কূলের মাঝে সবার উপরে আপনাকে আমাকে সম্মান দিয়েছেন। অথচ ঐ মহান আল্লাহকে আমি আপনি কতক্ষণই বা স্মরণ করি। তাঁকে কতক্ষণই বা ডাকি, আফসোস!!!!

এ হচ্ছে এক চরম অকৃতজ্ঞতা, মহান আল্লাহ বলেছেন- আমার বান্দারা আমার এত নিয়ামত ভোগ করার পরও তারা খুব কমই আমার শুকুরিয়া আদায় করে। অথচ দুনিয়াতে কোন বন্ধুর একটি আবদার রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়। এমনকি জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। আর সেখানে আল্লাহর হুকুম আমরা আজ কতটুকু মানি বা আমল করার চেষ্টা করি। আর যে আল্লাহকে পেয়ে গেলো সে যেন দুনিয়া আখেরাতে সব কিছু পেয়ে গেলো। আর আল্লাহকে পাওয়া বা তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করি..........  

হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা’আলা বলেন-
“ আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেরূপ ধারণা করবে সেভাবেই সে আমাকে পাবে। সে আমাকে স্মরণ করলে আমি তার সাথে থাকি। সে যদি নিজের মনের মধ্যে আমাকে স্মরণ করে আমিও তাকে আমার মনের মধ্যে স্মরণ করি। সে যদি কোন সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে আমিও তাকে তাদের চাইতে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে অর্ধ হাত অগ্রসর হয়, আমিও তার দিকে একহাত অগ্রসর হই।” (বুখারী)

আল্লাহর রাসূল (সা) বলেন-
“আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের সংবাদ দিব না! যা তোমাদের আমলের মধ্যে সর্বোত্তম, তোমাদের মালিক আল্লাহর নিকট অতি পবিত্র, সর্বাধিক মার্যাদা সম্পন্ন, স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যয় করার চাইতেও উত্তম এবং শত্রুর মোকাবেলায় যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাদের ঘাড়ে প্রহার করবে আর তারা তোমাদের ঘাড়ে প্রহার করবে অর্থাৎ জিহাদের চাইতেও উত্তম? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ বলুন! তিনি বললেন, তা হলো আল্লাহর যিকির” (তিরমিযী)

তিনি আরো বলেন-
“যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকির করে আর যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকির না করে তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মত”  (বুখারী)

আল্লাহর রাসূল (সা) আরো বলেন-
“ মুফাররেদূনগণ এগিয়ে গেল। সাহাবীগণ বললেন, মুফাররেদূন কারা হে আল্লাহর রাসূল সা. ! তিনি বললেন: অধিকহারে আল্লাহর যিকিরকারী পুরুষ ও নারী।” (মুসলিম)

এক সাহাবীকে উদ্দেশ্য করে বললেন- “ তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে।” (তিরমিযী)

আল্লাহর যিকির করার কতিপয় উপকারিতা:-

১. প্রথমত যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর ভালবাসা লাভ করা যায়।
২. তাঁর নিকটবর্তী হওয়া যায় ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভ, তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুভব, তাঁকে ভয় করা, তাঁর কাছে 
     প্রত্যাবর্তন, তাঁর আনুগত্য করতে সাহায্য পাওয়া যায়।
৩. যিকিরের মাধ্যমে অন্তরের দুঃখ-বেদনা ও দুশ্চিন্তা দূর হয়। খুশি ও আনন্দ লাভ করা যায়। অন্তর জীবিত
    থাকে, তাতে শক্তি ও পরিচ্ছন্নতা সৃষ্টি হয়।
৪. মানুষের অন্তরের শূন্যতা ও অভাব আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে দূর হয় এবং যার অন্তরে কঠোরতা আছে
    তার অন্তরের কঠোরতা যিকির ব্যতিত দূর হবে না।
৫. যিকির হচ্ছে অন্তরের আরোগ্য, পথ্য ও শক্তি। যিকিরের আনন্দের মত আর কোন আনন্দ নেই বা স্বাধ
     অনুভব করা যায় না।
৬. অন্তরের রোগ হচ্ছে যিকির থেকে উদাসীনতা।
৭. যিকিরের স্বল্পতা মোনাফেকীর দলিল। মানুষ যাকে বেশী ভালবাসে তাকে বেশী বেশী স্মরণ করে।
৮. বান্দা যখন তার সুখের সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে, আল্লাহ তাকে তার দুঃখের সময় স্মরণ করবে।
    বিশেষ করে মৃত্যুর সময় ও মৃত্যু যন্ত্রনার সময়।
৯. যিকির হচ্ছে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার মাধ্যম। যিকিরের কারণে প্রশান্তি নাযিল হয়। আল্লাহর
    রহমতের ছায়া দ্বারা তাকে আচ্ছাদিত করা হয় এবং সম্মানিত ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে
    থাকে।
১০. যিকিরের মাধ্যমে জিহ্বাকে বাজে কথা, গীবত, চুগোলখোরী, মিথ্যা কথা বলাসহ হারাম ও অপছন্দনীয়
     বিষয় থেকে রক্ষা করা যায়।
১১. যিকির হচ্ছে সবচেয়ে সহজ ইবাদত। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ ইবাদত।
১২. যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।
১৩. যিকিরের মাধ্যমে গাম্ভীর্যতা, কথা-বার্তায় মিষ্টতা ও চেহারায় উজ্জলতা প্রকাশ প্রায়।
১৪. যিকির হচ্ছে দুনিয়ার আলো এবং কবর ও পরকালের নূর।
১৫. যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর রহমতের আশা করা যায়। ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করে।
১৬. যিকিরকারীদের নিয়ে মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। অধিকহারে যিকিরকারীরা
      সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকারীদের অন্যতম।
১৭. আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে কঠিন বিষয় সহজ হয়, কষ্ট হালকা হয়, রিযিকের পথ খুলে যায় এবং শরীর
      শক্তিশালী হয়।
১৮. যিকিরের মাধ্যমে শয়তান দূরীভূত হয়, তাকে মূলতপাটন করে, তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে।

দুনিয়াতে ব্যবসা করলে দেখা যায় সেখানে লাভ বা ক্ষতির ব্যাপার থাকে, কিন্তু কেউ যদি আল্লাহর সাথে ব্যবসা করে অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত করে তাহলে তার কোন ক্ষতি নাই বরং তা ঐ ব্যক্তির জন্য এক চিরস্থায়ী সম্পদে পরিণত হবে। যা কোন দিন শেষ হবে না। মহান আল্লাহ  বলেছেন যে আমার বান্দারা তোমার আমার সাথে ব্যবসা কর। তোমাদের এই ব্যবসায় কোন ক্ষতি নেই, আমি তোমাদেরকে পূর্ণ বদলা দেব। আল কোরআনের বহু জায়গায় আল্লাহকে বেশী বেশী করে স্মরণ করার কথা বলা হয়েছে। তাই আসুন আমরা সকলে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করি..... দুনিয়ার জীবনে আজ থেকে প্রতিটি পদক্ষেপ যেন হয় আল্লাহর জন্য।  

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

মাশ-আল্লাহ উপকারি পোস্ট! আপনাকে ধন্যবাদ!

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)