কাল বৈশাখীর কালো থাবা!!!!!!!!

সুখীপুর গ্রামের দুই ভাই টুনুমিয়া আর চিকুমিয়া, তারা দুই ভাই ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, তার মধ্যে টুনুমিয়া পড়াশুনা করা, সখিন ভাবে চলা, ঘুরাফেরা আর খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো, আরেক জন চিকুমিয়া, সে সারাদিন কোথায় মাছ পাওয়া যায়, পাখির বাসা খোঁজা, বাগানে বাগানে ঘোরা, নারিকেল সুপারিসহ তরিতরকারি বেচা-কেনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। সুখিপুর গ্রামের মানুষগুলো বলতে গেলে অধিকাংশই সুখি ছিল। যারা সুখি তাদের যেন ধনে জনে আল্লাহ সব দিক দিয়ে দিয়েছেন। আর কিছু সংখ্যক ছিল গরিব। যারা দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড়ে তাদের যেন হিমশিম খেয়ে যায়। টুনুমিয়া আর চিকুমিয়া তাদের সংসারেও এক নির্দারুন কষ্ট বয়ে চলছে যেন কষ্টের অথৈ সমুদ্রে তরঙ্গ মালায় চলতে লাগলো তাদের জীবন। কোন এক কাল বৈশাখি এসে হঠাৎ করে জীবনের এক সুখের ছোঁয়াকে কেড়ে নিয়ে কোথাও উদাও হয়ে গেলো। কষ্টময় জীবনতো আর থেমে নেই, চলছে যেন এক ছলনার ধারাপাতে, কখনো রুটি খেয়ে, কখনো বা ভাতের মাড় খেয়ে আবার কখনো বা উপোশ থেকে, বেদনা ভরা দৃষ্টি যেন তাকিয়ে আছে সেই সোনালী দিনের........................

যে দিনে থাকবে না ভাতের কষ্ট, কাপড়ের কষ্ট থাকবে শুধু এক সুখের ছোঁয়া, তাকিয়ে নিজের অন্তর আত্মাকে বুঝিয়ে যেন ঘুম পাড়াচ্ছে টুনু মিয়াদের পরিবার। টুনু মিয়াদের সংসার চলে বাগানের নারিকেল সুপারি বিক্রি বা জমির সামান্য কিছু ফসল দিয়ে যেন সারা বছরের সময়কে পাড়ি দিতে হয়। যাহোক সংসারের কষ্টের কারণে তার মা টুনু মিয়াকে তার নানা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। নানার বাড়িতে সে আরামেই পড়াশুনা করছে। আর চিকু মিয়া তার মার সাথে থেকে মাকে সাহায্য করছে, চিকু মিয়ার পড়াশুনার ইচ্ছা থাকলেও সংসারের অভাব অনটনে তার লেখাপড়া বেশিদূর আগাতে পারেনি। সংসারের দুবেলা দুমুঠো জোগাড়ে যেন তার বয়ে যায়..........

টুনু মিয়ার নানা বাড়ি ছিল তাদের ঠিক পাশের গ্রামেই, গ্রামের স্কুল, মাদ্রাসা, বাজারসহ সব কিছুই তাদের নানার গ্রামের পড়েছে। তাদের গ্রামটা যেন নিরব নির্ঝন কিন্তু নানাদের এলাকাটি ছিল জমজমাট, তাই টুনুমিয়া আর চিকুমিয়া সব সময় তাদের নানা বাড়িকেই পছন্দ করতো। নানার বাড়িতে না গেলে যেন পেটের ভাত হজম হতো না। নানা নানীর বাড়তি আদর স্নেহ যেন তাদের সেখানে টেনে নিতো।

কোন এক বৈশাখ মাসে চিকুমিয়া তার নানা বাড়িতে গেলো। সেদিন রাতে নানা নানী তাকে আর বাড়িতে যেতে দেয়নি, তাকে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। দুই ভাই একসাথে হলে অনেক মজাই হয়। তার মা যদিও বাড়িতে একা তাই চিকুমিয়া ঐ রাতে নানা বাড়িতে থেকেই গেলো। টুনু মিয়ার নানার দুটো ঘর ছিল। একটিতে তার নানা নানী থাকতো আর আরেকটিতে টুনুমিয়ার পড়াশুনার সুবিধার জন্য সে ঘরে টুনুমিয়া একাই থাকতো। যে ঘরে টুনুমিয়া থাকতো সে ঘরটির চৌখাটে প্রচুর মালালালে পরিপূর্ণ ছিল। টুনু মিয়া যে ঘরে থাকে সে ঘরে রাতে খাবার খেয়ে দুই ভাই শুয়ে পড়লো।

রাত গভীর হতে লাগলো। তখন ছিল বৈশাখ মাস, সে রাতের নিশীথে আকাশে জমেছে হিংস্র মেঘের সারি। কাল বৈশাখি যেন তার পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করে হানা দিল সে রাতে, চারিদিকে প্রচন্ড ঝড় শুরু হলো। গাছ-পালা যেন ভেঙ্গেচুরে একাকার করে ফেলছে। বাতাসের গতি যেন হিংস্র থেকে আরো হিংস্র হয়ে উঠতে লাগলো। চারদিকের ঘরবাড়ি যেন ভেঙ্গে পড়ছে, গাছপালা ও উপড়ে পড়ছে। এদিকে টুনু মিয়া আর চিকু মিয়া প্রচন্ড ঝড়ে ঘুম ভেঙ্গে বসে আল্লাহকে ডাকছে। ভয়ে দুই ভাই যেন চুপসে যাচ্ছে। অপর দিকে প্রচন্ড ঝড়ের কারনে নানা নানীর ঘুম ভেঙ্গে গিয়ে তারাও চিন্তা করতে লাগলো তাদের আদরের নাতিদের জন্য। তারা অপর ঘর থেকে ডাকতে লাগলো। কিন্তু বাহিরে বের হওয়া ও অপর ঘরে যাওয়া মোটেও সম্ভব নয়। বাতাসের এতো গতি। আদরের নাতিদের জন্য নানা নানীও ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছে। এদিকে টুনুমিয়া আর চিকুমিয়া তারা তাদের খাটের উপর বসে আল্লাহকে ডাকছে। ঝড়ের গতি যেন আরো বেড়ে চলছে। কাল বৈশাখি যেন এবার তার কলো ছোবল মারার জন্য তার গতি আরো বাড়িয়ে দিল। টুনুমিয়ারা যে ঘরে ছিল সে ঘর ভেঙ্গে পড়লো। আল্লাহর মহান রহমতে ঘর এমনভাবে ভেঙ্গে পড়লো। টুনুমিয়া আর চিকুমিয়া যে খাটে বসে ছিল সেই খাটের এক হাত পরিমান উপরে ঘরের চৌখাট এসে স্থির হলো। আল্লাহর মহান রহমতে তাদের দুই ভাইকে বাঁচিয়ে দিলেন। টুনুমিয়া আর চিকুমিয়া এই অবস্থা দেখে খাট থেকে নেমে খাটের নিচে গিয়ে আশ্রয় নিল। আর আল্লাহর শুকুরিয়া আদায় করতে লাগলো।

অপর প্রান্তে নানা নানী ঘর পড়ে গিয়েছে দেখে তারা আর স্থির থাকতে পারলেন না। তারা দু’জনই দৌড়ে এই ঘরের পাশে এসে কাঁদতে লাগলেন। তাদের আদরের নাতিদের ডাকতে লাগলেন। প্রথমে কোন সাঁড়া নেই। নানা নানী আরো জোরে তাদের ডাকতে লাগলেন। ডাক শুনে তারাও জবাব দিল। যে তারা বেঁচে আছে, তাদের কোন ক্ষতি হয়নি। তারা খাটের নিচে আছে। তাদের বেঁচে থাকার কথা শুনে যেন নানা নানী নিজেদের জীবনকে খুঁজে পেলেন। তারা আল্লাহর দরবারে শুকুরিয়া আদায় করলেন। কারণ যে ঘরে তারা শুয়ে ছিল সে ঘরের চৌখাটে যে পরিমান মালামাল বোঝাই ছিল সব নিয়ে ঘরে পড়ে গেলে ভিতরের কেউ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। যাহোক আল্লাহর বিশেষ রহমতে সেইদিন টুনুমিয়া আর চিকুমিয়া বেঁচে গেল। আবার যেন তাদের জীবন সেই অভাবের সংসারের দড়ি টেনে ধরে নতুন ভবিষ্যতের খোঁজে চলতে লাগলো.........

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ.. আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ছিলো তাই বেঁচে গেছে দুইভাই।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)