যদি ভারত ৭১-এ বাংলাদেশের ব্যাপারে নাক না গলাতো তাহলে কি সত্যিই জামায়াত পাকিস্তানের যুলুমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতো?

একটি খবর দেখে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেলাম। খবরটি নিচে শেয়ার করেছি তবু দ্বিধার কথাটা তুলে ধরছি-

কাশ্মীর ভিত্তিক হিররিয়াত চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী শাহ গিলানী বলেছেন যে,

‘‘ভারতীয় আধিপত্যের ছায়াতলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবে এমন উপলব্ধি থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। যদি সে সময় ভারত হস্তক্ষেপ না করতো তাহলে সম্ভবত স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিতে জামায়াতের জন্য কোনো সমস্যা থাকত না।’’

কিন্তু আমরা জানি যে, জামায়াত চেয়েছিল অখণ্ড পাকিস্তান। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের উপর যুলুম করেছিল -একথা জামায়াতও স্বীকার করে। এখন প্রশ্ন দেখা দিল- যদি ভারত তখন বাংলাদেশের ব্যাপারে নাক না গলাতো তাহলে কি সত্যিই জামায়াত পাকিস্তানের যুলুমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতো?

নিচে খবরটি হুবহু তুলে দিলাম-

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরভিত্তিক প্রবীণ রাজনীতিক সৈয়দ আলী শাহ গিলানী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযম ও দলটির সব নেতার মুক্তি দাবি করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক জোট অল পার্টিজ হুররিয়াত কনফারেন্সের (এপিএইচসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী শাহ গিলানী বলেন, জামায়াত নেতাদের আটক রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। তাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর তিনি চিঠি লেখেন।

বাংলাদেশের ওপর ভারতের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থেকেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি বলে যুক্তি দিয়েছেন গিলানী। তিনি বলেছেন, ‘‘ভারতীয় আধিপত্যের ছায়াতলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবে এমন উপলব্ধি থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। যদি সে সময় ভারত হস্তক্ষেপ না করতো তাহলে সম্ভবত স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিতে জামায়াতের জন্য কোনো সমস্যা থাকত না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সাম্রাজ্যবাদী মতলবের ব্যাপারে জামায়াত নেতাদের সেই উপলব্ধি পরে সত্য হয়েছে আর তৎপরবর্তী ৪০ বছরে ভারত তো প্রমাণ করেছে যে, দেশটি বাংলাদেশের বন্ধু নয়। যদি তাই-ই না হতো, তাহলে নয়াদিল্লী পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উসকানি দিত না এবং তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিত না।'

এছাড়া, ভারত পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার কৌশল নিয়ে অবিচারই করেনি সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের পশুর মতো হত্যা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন শাহ গিলানী।

তিনি বলেন, ‘তবে বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে যে কারণই থাক, দেশটি এখন পৃথিবীর মানচিত্রে একটি মুসলিম রাষ্ট্র এবং সত্যিকারের সব মুসলমান এর শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনা করে।'

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে তার সবগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। কারণ শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলেই যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন গিলানী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন ৪০ বছর পর আপনার সরকার কিছু নিরপরাধ লোককে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছে। এটা বেআইনি, অনৈতিক এবং সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।'

সূত্র

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

সালাম

মাশ-আল্লাহ ভালো লেগেছে আপনার লেখা।

আল্লাহ তা'য়ালা নিরোপরাধী আলেম সমাজকে হেফাজত করুন। যারা প্রতি হিংসা মূলক বাংলাদেশের মেরুদ্ন্ড ভাঙতে চায়, তাদের অচিরেই পতন হবে ইনশাল্লাহ

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)