খলিফা হিসেবে আলী(আ.)কে নিজের পাগড়ী পরান বিশ্বনবী (সা.)

%e0%a6%96%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%80(%e0%a6%86)%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%9c%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a7%80-(%e0%a6%b8%e0%a6%be)

আজ ঐতিহাসিক গাদীর দিবস। ইরানসহ সারা বিশ্বের নানা অঞ্চলে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ ঈদ উতসব।

আজ থেকে ১৪২৪ বছর আগে দশম হিজরির এই দিনে (১৮ ই জিলহজ) বিদায় হজ শেষে
সুরা মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াত নাজেল হওয়ার পর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ
(সা.) তাঁর চাচাতো ভাই ও জামাতা আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-কে ‘গাদীর’
নামক স্থানে নিজের উত্তরসূরি বা স্থলাভিষিক্ত বলে ঘোষণা করেছিলেন।
এই দিনটি ঐতিহাসিক গাদীর দিবস বা ঈদে গাদীর হিসেবে খ্যাত। আজ সেই ঈদে গাদীর উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি ঈদ মুবারক।
সুরা মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: "হে রসূল, পৌঁছে
দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি
আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে
মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন
করেন না।"
গাদীরের ওই সমাবেশে এক লাখ বিশ হাজারেরও বেশি সাহাবি ও হজযাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
'জুহফা' নামক এলাকার কাছে 'গাদিরে খুম' জলাশয়ের পাশে বিশ্বনবী (সা.)
ঘোষণা করেছিলেন যে " মান কুনতু মাওলা ফাহাজা আলিয়ুন মাওলা" অর্থাত আমি
যাদের মাওলা আলীও তাদের মাওলা বা নেতা।
ইমাম বোখারীসহ ৩৬০ জন সুন্নি মনীষী এ সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই
হাদিসটির সনদ ১১০ সাহাবি কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে এবং ২৬ জন মুসলিম মনীষী এর
সনদ ও পন্থা সম্পর্কে আলাদা বই রচনা করেছেন।
বিশ্বনবী (সা.) নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আলী (আ.)'র মাথায় নিজের হাতে
তাঁর একটি পবিত্র পাগড়ী পরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি গাদিরে খুমে তিন দিন অবস্থান
করেছিলেন। এই তিন দিন ধরে শীর্ষস্থানীয় সব সাহাবিগণসহ সব মুসলিম
নারী-পুরুষ পৃথকভাবে হযরত আলী (আ.)-কে আমিরুল মুমিনিন হিসেবে অভিনন্দন
জানিয়েছিলেন বলে নির্ভরযোগ্য সুন্নি বর্ণনায় এসেছে।
বিখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবেত্তা আবু জাফার তাবারি এই হাদীসের সনদ ও পন্থাকে দুই খণ্ডের এক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন।
আর সে দিনই হাসসান বিন সাবিত গাদীরের ঐতিহাসিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেন-
ینادیهم یوم الغدیر نبیهم بخم واسمع بالرسول منادیا
فقال فمن مولاکم و نبیکم؟ فقالوا و لـم یبدوا أهناک التعامیا
إلهک مولانا و أنت نبینا و لم تلق من فی الولایة عاصیا
فقال له: قم یا علی فإننی رضیتک من بعدی إماما و هادیا
فمن کنت مولاه فهذا ولیّه فکونوا له اتباع صدق موالیا
هناک دعا: اللهم وال ولیه و کن للذی عادی علیا معادیا
অনুবাদ:
১। গাদীরের দিন তাদের (মুসলমানদের) নবী তাদেরকে আহ্বান জানালেন উচ্চস্বরে,
(কি বিস্ময়!) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল (সা.) দেখ কিভাবে আহ্বান করছেন {
কিংবা শোন এখন, যা বললেন রাসূল (সা.) }
২। অতঃপর তিনি শুধালেন জনগণকে: কে তোমাদের প্রভু (মাওলা তথা অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক) ও নবী? সেখানকার সবাই বললো নির্দ্বিধায়:
৩। আপনার আল্লাহ আমাদের অভিভাবক এবং আপনি আমাদের রাসূল। আজ আপনি আমাদের মাঝে কোনো অবাধ্যকেই খুঁজে পাবেন না।
৪। অতঃপর বললেন: হে আলী ওঠ! নিশ্চয়ই আমি এতে সন্তুষ্ট যে আমার পর তুমিই ইমাম (নেতা) ও হেদায়াতকারী।
৫। অতএব, আমি যার মাওলা আলীও তার মাওলা। তোমরা তাঁর প্রকৃত বন্ধু হও বা তাঁকে ভালবাস ও তাঁর অনুসারী হও।
৬। এরপর তিনি সেখানে দোয়া করলেন: হে আল্লাহ্! আলীর বন্ধুকে তোমার বন্ধু
মনে কর এবং যে আলীর সাথে শত্রুতা করবে তুমিও তার সাথে শত্রুতা কর।
গাদিরে খুমের ওই ঘটনার ২৫ বছর পর তৃতীয় খলিফা নিহত হলে মুসলমানদের ব্যাপক
অনুরোধ ও পীড়াপীড়ির মুখে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.) এখন থেকে ১৩৯৯
বছর আগে ঠিক আজকের দিনটিতে (১৮ ই জ্বিলহজ্ব) একান্ত অনীহা ও অনিচ্ছা
সত্ত্বেও মুসলমানদের রাজনৈতিক নেতা বা খলিফা হন। সামাজিক
ন্যায়বিচার-ভিত্তিক আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা হিসেবে প্রায় ৫ বছর
শাসন করার পর এক ধর্মান্ধ খারেজির সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে (একুশে
রমজান) তিনি শহীদ হন। হামলার সময় তিনি কুফার মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়
করছিলেন। আর তাঁর জন্ম হয়েছিল পবিত্র কাবা ঘরে।
সাহাবিদের মধ্যে আলী (আ.)’র অনন্য এবং শ্রেষ্ঠ মর্যাদার কিছু যুক্তি ও  দলিল-প্রমাণ: 

রাসূল (সা.) বিভিন্ন সময়ে বলেছেন:
" আলী আমার থেকে এবং আমি তাঁর থেকে এবং আলীই আমার পর সমস্ত মুমিনদের ওলি তথা অভিভাববক ও নেতা" (তিরমিজি, ৫ম খণ্ড, পৃ-১১০)
রাসূল (সা.) আরো বলে গেছেন, আলী সব সময়ই হকের পথে থাকবে। “আলী (আ.)-কে
মহব্বত করা ঈমান, আর আলী(আ.)’র সঙ্গে শত্রুতা করা মুনাফেকী” (মুসলিম, ১ম
খণ্ড, পৃ-৪৮)।“আমি জ্ঞানের শহর, আলী তার দরজা”(সহি তিরমিজি, ৫ম খণ্ড,
পৃ;২০১)। এমনকি রাসূল (সা.) এ দোয়াও করেছেন যে, “হে আল্লাহ সত্যকে আলীর
পক্ষে ঘুরিয়ে দিও।”  রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, কেবল মুনাফিকই আলীর সঙ্গে
শত্রুতা করবে।
“যে আলীকে দোষারোপ করল, সে আমাকে দোষারোপ করল, আর যে আমাকে দোষারোপ করল সে
খোদাকে দোষারোপ করল। আল্লাহ তাকে মুখ নিচু করে দোজখে নিক্ষেপ করবেন।”(সহি
বুখারী-দ্বিতীয় খণ্ড, সহি মুসলিম- দ্বিতীয় খণ্ড, সহি তিরমিজি, ৫ম খণ্ড)।
“আমি যার মাওলা আলীও তার মাওলা। হে খোদা যে আলীর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখে
তুমিও তার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখ, যে আলীর সাথে শত্রুতা রাখে তুমিও তার সাথে
শত্রুতা রাখ।” (সহি মুসলিম, ২য় খণ্ড, পৃ-৩৬২, মুসনাদে ইমাম হাম্বল, ৪র্থ
খণ্ড, পৃ-২৮১)
সাহাবিদের অনেকেই বলতেন, আমরা আলীর সঙ্গে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা দেখে কে মুনাফিক ও কে মুমিন তা নির্ধারণ করতাম।
রাসূল (সা.) আরো বলেছেন: “এই আলী আমার ভাই, আমার ওয়াসি এবং আমার পর আমার
প্রতিনিধি হবে। তাই তাঁর আদেশ শোন, তাঁর আদেশ মত কাজ কর।” (তাফসিরে তাবারি,
১৯ খণ্ড, পৃ-১২১, ‘লাইফ অফ মুহাম্মাদ’-ড. মো. হোসাইন হায়কাল, প্রথম
সংস্করণ১৩৫৪ হি,প্রথম খণ্ড, পৃ-১০৪)
হযরত আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন, “যত ফজিলতের বর্ণনা আলীর বেলায় এসেছে অন্য
কোনো সাহাবির বেলায় তা আসেনি। আলী (আ.)’র অসংখ্য শত্রু ছিল। শত্রুরা অনেক
অনুসন্ধান করেছে আলী (আ.)’র দোষ-ত্রুটি বের করার, কিন্তু পারেনি।”
হযরত কাজী ইসমাইল নাসায়ি আবু আল নিশাবুরি বলেন, “যত সুন্দর ও মজবুত সনদের
মাধ্যমে আলী (আ.)’র ফজিলতগুলো বর্ণিত হয়েছে-অন্য সাহাবিদের বেলায় তেমনি
আসেনি।”
হযরত আলী সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, আলী প্রেম মানুষের পাপ এমনভাবে
ধ্বংস করে যেমনি আগুন জ্বালানী কাঠ ধ্বংস করে দেয়। একবার হযরত আলী (আ.)-কে
দেখে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছিলেন, তিনটি এমন বৈশিষ্ট্য তোমার রয়েছে
যেটা আমারও নেই, এই তিনটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তুমি এমন একজনকে শ্বশুর হিসেবে
পেয়েছে, যা আমি পাইনি, এমন একজনকে তুমি স্ত্রী হিসেবে পেয়েছে, যে কিনা
আমার কন্যা, আর তৃতীয়টি হচ্ছে তুমি হাসান- হুসাইনের মত সন্তানের পিতা যেটা
আমার নেই।
রাসূলে খোদা (সা.) এর আগেও বহুবার আলী (আ.)-র বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের
কথা ঘোষণা করেছেন। ইবনে আব্বাসসহ আরো অনেকের বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূলের
পরে আলী (আ.)-ই ছিলেন সবচেয়ে মোত্তাকি ও সাহসী ব্যক্তি।
একবার বিশ্বনবী (সা.) কয়েকজন সাহাবির সঙ্গে ঘরে বসেছিলেন। সেখানে একটি
বিশেষ পাখীর মাংস খাবার হিসেবে আনা হয়েছিল। রাসূল (সা.) বললেন, হে আল্লাহ
তোমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। এমন সময় দরজায় টোকা
দিলেন আলী (আ.)। রাসূল (সা.) আলী (আ.)-কে নিয়ে সেই মাংস খান।
জাবের বিন আব্দুল্লাহ আনসারি বলেছেন, একবার রাসূল (সা.)-র কাছে আলী (আ.)
এলেন। রাসূল বললেন, আলী (আ.) ও তার অনুসারীরা কিয়ামতে পরিত্রাণপ্রাপ্ত। এ
সময় সূরা বাইয়ানার ৭ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যারা ঈমান
এনেছে এবং সত কাজ করেছে, তারা আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি। এরপর থেকে রাসূলের
সাহাবিরা আলী (আ.)-কে দেখলেই বলতেন, ওই যে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
হযরত আলী (আ.) ছিলেন জ্ঞান, বীরত্ব, সাহস, দূরদর্শিতা, মহানুভবতা, দয়া,
পরোপকার, ন্যায়নিষ্ঠা ইত্যাদি গুণের আকরসহ মানবীয় মূল্যবোধ ও যোগ্যতার সব
দিক থেকে একজন ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপূর্ণ আদর্শ মানব। বিশ্বনবী (সা.) তাঁকে
প্রায় ৫/৬ বছর বয়স থেকে নিজের হাতে ও নিজের ঘরে রেখে মনের মত করে গড়ে তোলেন
এবং জ্ঞানগত নানা দিকসহ সব দিকে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেব প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
উমর ইবনে খাত্তাব বলেছেন, আলী না থাকলে ওমর ধ্বংস হয়ে যেত এবং আলীর মত
একজন মহামানব জন্ম দেয়ার ক্ষমতা পৃথিবীর আর কোনো নারীর নেই। তিনি আলী
(আ.)'র শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন হিসেবে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা শ্রেষ্ঠত্বের
কথা উল্লেখ করেছেন যা আর কারো ছিল না। এ তিনটি বৈশিষ্ট্য ছিল:
"(নবী-নন্দিনী) ফাতিমা (সা. আ.)'র সঙ্গে তাঁর বিয়ে, মসজিদে (নববীর) ভেতরে
তাঁর বসবাস অব্যাহত থাকা যা আমার জন্য বৈধ নয় এবং খায়বার যুদ্ধের পতাকা
(তথা সেনাপতিত্ব) পাওয়া।"
আলী (আ.)'র আগে অন্য সেনাপতিরা মদিনায় ইহুদি শত্রুদের খায়বার দুর্গ জয় করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন,
"আগামীকাল আমি এমন একজনের হাতে পতাকা দেব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালবাসেন।"

বেলায়েত বা নেতৃত্বের দর্শন:
সমাজ পরিচালনার জন্য নেতৃত্ব একটি অপরিহার্য বিষয়। মানুষের জন্য আল্লাহ
প্রদত্ত নেয়ামতগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা নেয়ামত হলো- নেতৃত্বের যোগ্যতা। এই
যোগ্যতা, গুণ ও ক্ষমতা সীমিত সংখ্যক লোকের মধ্যেই আল্লাহ দিয়ে থাকেন।
বাকীরা তাদের অনুসরণ করেন। মানব ইতিহাসের কিছু নেতা সরাসরি আল্লাহর মাধ্যমে
মনোনীত। এঁরা হলেন, নবী, রাসূল ও আহলে বাইতের ইমামগণ, যারা সরাসরি আল্লাহর
তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। ফলে তাদের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণ সব মানুষের
জন্য যথাযথভাবে অনুকরণীয়। মানব সমাজের নেতৃত্বের বিষয়টি যে আল্লাহর পক্ষ
থেকে নির্ধারিত, সে বিষয়টি পবিত্র কুরানেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১২৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্মরণ
করো যখন ইবরাহীমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি ব্যাপারে পরীক্ষা করলেন এবং সেসব
পরীক্ষায় সে পুরোপুরি উত্তীর্ণ হলো। এরপর আল্লাহ বলেছিলেন "আমি তোমাকে সব
মানুষের নেতার পদে অধিষ্ঠিত করবো।" ইবরাহীম আবেদন করেছিলেন- আর আমার
বংশধরদের মধ্য থেকেও ( ইমাম বা নেতা করুন)। আল্লাহ জবাব দিলেন: "আমার এ
অঙ্গীকার জালেমদের ব্যাপারে প্রযোজ্য হবে না (কেবলমাত্র তোমার যেসব বংশধর
নিষ্পাপ ও পবিত্র থাকবে,তারাই এ পদের যোগ্য হিসেবে গণ্য হবে)।
হজরত মূসা(আ.) তাঁর ভাই হারুনকে নিজের সহযোগী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে
নির্বাচিত করার জন্য আল্লাহর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরপর আল্লাহ তা
কবুল করেন। সূরা ত্বাহার ৩৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে: আল্লাহ
বললেন, "হে মূসা! তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেয়া হলো।' 
সূরা সা'দের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা, হজরত দাউদ (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে
বলেছেন, 'হে দাউদ ! আমি অবশ্যই তোমাকে পৃথিবীতে সৃষ্টিকুলের প্রতিনিধি
করেছি। সুতরাং মানুষের মধ্যে সত্য ও [ ন্যায়ের ] ভিত্তিতে বিচার -মীমাংসা
কর।'

এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা এ কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে,তিনিই মানব
জাতির নেতা ও ইমাম নির্ধারণ করেন। ইসলাম ধর্মে নেতৃত্ব ও ইমামত কেবল
মানুষের দৈনন্দিন ও প্রচলিত জীবন ব্যবস্থার জন্য নয়। ইসলাম ধর্মে একজন ইমাম
বা নেতা, বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিক-উভয় ক্ষেত্রের নেতা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, ইসলাম ধর্মে একজন নেতা, জনগণ থেকে
আলাদা নয়। গাদিরের ঘটনাকে তিনি জনগণের নেতৃত্ব ও নীতির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
হিসেবে গণ্য করেন।
রাসূল (সা.)-র ওফাতের পর শান্ত মুসলিম সমাজ যাতে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বে
জড়িয়ে না পড়ে এবং স্বার্থান্বেষীরা ওই শোকাবহ ঘটনাকে যাতে অপব্যবহার করতে
না পারে সেজন্য রাসূল (সা.)-কে এ দায়িত্ব দেয়া হয় যে, তিনি যাতে তাঁর
পরবর্তী নেতার নাম ঘোষণা করেন।  রাসূলে খোদা বিদায় হজ্বের পর এক সমাবেশে 
আলী(আ.)কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করেন। তিনি আলী (আ.)-এর যোগ্যতা বর্ণনা
করতে যেয়ে বলেন,
“হে জনগণ, এমন কোনো জ্ঞান নেই, যা আল্লাহ আমাকে দেননি এবং আমিও
পরহেজগারদের নেতা আলী (আ.)-কে সেই জ্ঞান শিখিয়েছি। আপনারা কেউই আলী (আ.)-র
পথ থেকে বিচ্যুত হবেন না। তাঁর পথ থেকে দূরে সরে যাবেন না। তাঁর নেতৃত্বকে
অমান্য করবেন না। কারণ সে সবাইকে সত্যের পথে পরিচালিত করে এবং ন্যায়ের
ভিত্তিতে কাজ করে। সে অন্যায়-অবিচারের অবসান ঘটায় এবং নিজে অন্যায় থেকে
দূরে থাকে। আলী (আ.) আল্লাহর পথে চলার ক্ষেত্রে কোনো কিছুকেই ভয় করে না।
আলী (আ.) হচ্ছে প্রথম মুসলমান। রাসূলে খোদার জন্য সে তাঁর প্রাণ বিসর্জন
দিতে প্রস্তুত রয়েছে। সে সর্বদা রাসূলের পাশে ছিল ও আছে এবং আর কেউই তাঁর
মতো রাসূলের নির্দেশ মেনে চলার ক্ষেত্রে এতো বেশি আন্তরিক নয়।
হে মুসলমানগণ, আলী (আ.) হচ্ছে আমার ভাই, স্থলাভিষিক্ত ও আমার শিক্ষায়
শিক্ষিত। সে আমার উম্মতের নেতা-কোরানের তাফসির যার জানা। সে কুরআনের দিকে
আহ্বানকারী এবং কুরআনের নির্দেশ বাস্তবায়নকারী। সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য
কাজ করে। সে আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। সে আল্লাহ বিরোধীদের শত্রু
এবং আল্লাহপ্রেমীদের বন্ধু। সে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে জনগণকে বিরত রাখে।”
মানুষের ওপর তিনিই নেতৃত্ব দেয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য যিনি সবচেয়ে বেশি
জ্ঞানী। আর বিশ্বনবী (সা.)’র পর তাঁর পবিত্র হাদিস অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি
জ্ঞানী ছিলেন আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)। কারণ, হাদিসে এসেছে, রাসূল
(সা.) বলেছেন, আমি জ্ঞানের নগর আর আলী হল তার দরজা। অর্থাত বিশ্বনবী
(সা.)’র জ্ঞানের শহরে প্রবেশের জন্য আলী (আ.) নামক মাধ্যম বা দরজা দিয়েই
ঢুকতে হবে।
এ ছাড়াও হাদিসে বলা হয়েছে, “আল ওলামাউ ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া।” অর্থাত
নবীগণের উত্তরসূরি হচ্ছেন আলেমগণ। হযরত আলী (আ.) যে বিশ্বনবী (সা.)’র পর
শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন তাতে তাঁর শত্রু -মিত্র নির্বিশেষে কোনো সাহাবিই সন্দেহ
পোষণ করতেন না। এ কারণেই মহান আল্লাহর নির্দেশে বিশ্বনবী (সা.) আলী
(আ.)-কে তাঁর উত্তরসূরি বা স্থলাভিষিক্ত তথা মুসলমানদের ইমাম বা নেতা বলে
ঘোষণা করেছিলেন পবিত্র গাদীর দিবসে। এই ইমামত হচ্ছে নবুওতেরই ধারাবাহিকতা। 
ইসলামে ঐশী ইমামত বা খোদায়ী নেতৃত্ব ঠিক করে দেন মহান আল্লাহ। আর সেটা বংশ
পরম্পরায়ও চলতে পারে। যেমন, নবী হয়েছিলেন ইব্রাহিম (আ.)'র বংশধরগণ এবং
হযরত দাউদ (আ.)'র পুত্র সুলায়মান ও হযরত মুসা (আ.)'র ভাই হারুন (আ.)।
ইমামত বা নবুওতের মত ঐশী বা খোদায়ী পদগুলোতে কারা আসীন হবেন মানুষ তা ঠিক
করার অধিকার রাখে না। কারণ, মানুষের মনোনয়ন বা নির্বাচন ভুলও হতে পারে। তাই
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই তা ঠিক করে দেন। বিশ্বনবী (সা.) বিভিন্ন সময় আলী(আ.)
কে নিজ খলিফা হিসেবে নিযুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন। এরমধ্যে তিনটি
দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ করছি:
প্রথমত: রাসূল হিসেবে মনোনীত হওয়ার তথা বে’সাতের প্রথম দিকে: বিশ্বনবীকে
(সা.) যখন নিজের আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দেয়ার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে
নির্দেশ দেয়া হয় তখন তিনি সবার উদ্দেশে বললেন:“যে ব্যক্তি এই পথে আমাকে
সাহায্য করবে, সেই হবে আমার ওয়াসি তথা কর্তৃত্বের অধিকারী, উজির বা
পৃষ্ঠপোষক এবং স্থলাভিষিক্ত ।” রাসূল (স.) এভাবে বলেন-
“তোমাদের মাঝে কে এমন আছে যে এই কাজে আমাকে সহযোগিতা করবে যাতে সে তোমাদের
মাঝে আমার ভাই, উজির (পৃষ্ঠপোষক), খলিফা এবং স্থলাভিষিক্ত হতে পারে?”
কেবল আবু তালিবের সন্তান আলী (আ.) রাসূল (স.) এর কথায় হ্যাঁ সূচক উত্তর
দেন।আর তখন আল্লাহর রাসূল (স.) নিজ আত্মীয় স্বজনদের উদ্দেশে বলেন-
“এই (আলী) তোমাদের মাঝে আমার ভাই, ওয়াসি এবং খলিফা। অতএব, তোমরা তার কথা শোন এবং তাকে অনুসরণ কর।”
দ্বিতীয়ত: তাবুকের যুদ্ধে: রাসূলুল্লাহ (স.) আলী (আ.) এর উদ্দেশে বলেন-
“[হে আলী!] তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে ঠিক তদ্রূপ যেমন
হারুন (আ.) ছিলেন মুসা (আ.) এর কাছে। তবে পার্থক্য এই যে, আমার পরে আর কোনা
নবী নেই (আসবে না)।’
অর্থাৎ যেভাবে হারুন (আ.) কোনরকম ব্যবধান ছাড়াই মুসা (আ.) এর স্থলাভিষিক্ত ছিলেন তুমিও আমার খলিফা ও স্থলাভিষিক্ত।
তৃতীয়ত: দশম হিজরিতে: বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে ‘গাদীরে খুম’ নামক স্থানে
হাজিদের এক বিশাল সমাবেশে মহানবী (স.) আলী (আ.) কে মুসলমান ও মু’মিনদের
নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি বলেন-
“আমি যার মাওলা (অভিভাবক) আলীও তার মাওলা।” এই বাক্যটি তিনি তিনবার
পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। এরপর বললেন:- “হে আল্লাহ! তাকে তুমি ভালবাসত যে
আলীকে ভালবাসে ও তুমি তার প্রতি শত্রুতা পোষণ কর যে আলীর প্রতি শত্রুতা
পোষণ করে; তুমি সহযোগিতা কর তাকে যে আলীকে সহযোগিতা করে, তুমি তাকে নিঃসঙ্গ
কর যে আলীকে একা রাখে এবং সত্যকে আলীর সাথে রাখ তা যে দিকেই থাক না কেন”।
হে লোকসকল! আপনারা অবশ্যই যারা উপস্থিত আছেন তারা এই বাণীটি অনুপস্থিতদের
নিকট পৌঁছিয়ে দিবেন। রাসূলের (সা.) বক্তব্য শেষ হলে জিবরাঈল (আ.) আবার
দ্বিতীয়বারের মত অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে এই বাণীটি পৌঁছে দেন:
আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম ও আমার নেয়ামত বা অবদানকে তোমাদের
উপর সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের ধর্ম হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা
মায়িদা-৩)
রাসূল (সা.) এই বাণী পেয়ে মহা-আনন্দিত হলেন এবং বললেন- মহান আল্লাহর শুকর
করছি যে তিনি দ্বীনকে পরিপূর্ণ ও তাঁর নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন এবং মহান
প্রভু আমার রেসালাতের বা নবুওতি দায়িত্বের ও আলীর বেলায়াতের বা
অভিভাবকত্বের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আল্লাহর রাসূল (স.) তাঁর বক্তব্যের শুরুতে
বলেছিলেন: “আমি কি তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব রাখি না?”
তখন উপস্থিত সব মুসলমান দাঁড়িয়ে রাসূল (স.) এর এ কথার প্রতি সম্মতি জানান।
অতএব, বিষয়টি হতে স্পষ্ট হয় যে, এই হাদিসে 'মাওলা' বলতে মু’মিনদের ওপর
শ্রেষ্ঠত্ব ও তাদের পূর্ণ কর্তৃত্বকে বোঝানো হয়েছে। অতএব, এটা স্পষ্ট যে,
আল্লাহর রাসূল (স.) যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন উম্মতের ক্ষেত্রে তা
তিনি আলী(আ.) এর জন্যও নিশ্চিত করে যান।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

লাখো সাহাবীর সামনে নবীজী (সা:) এতবড় একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়া এবং সকল সাহাবী এটা মেনে নেবার পরও তা কার্যকর হলো না কেন?

Normal
0

false
false
false

EN-US
X-NONE
AR-SA

MicrosoftInternetExplorer4

সালাম,

মোহভঙ্গ ভাই, আপনি সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছেন এবং এমনটি হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে।
নবীজি (সা.) শুধুমাত্র গাদিরের সময়ই নয় অন্যান্য স্থানেও ইমাম আলী (আ.)কে পরিচয় করিয়ে
দিয়েছেন।

এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে
আমি বর্তমানে ফিরে আসতে চাই। বর্তমানে (রাজনৈতিক) ক্ষমতার জন্য একজন ব্যক্তি কতইনা
জঘন্য কাজ করে থাকে। এমন কি এক জন নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যা'ও করতেও দ্বিধাবোধ করেনা। তার নিকট ক্ষমতাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়ায়।
আর ক্ষমতার কাছে সব কিছুই মূল্যহীন। কারণ তার ক্ষমতার মধ্যে স্বার্থ রয়েছে।

এ প্রশ্নের জন্য এটি একটি
পরোক্ষ উত্তর। কারণ সব কথা সব স্থানে উল্লেখ করা ঠিক নায়। গাদিরের সময় সকলেই মেনে নিলেও
কিছু কিছু ব্যক্তির মনে হিংসা ছিল। এছাড়াও তখন যে সকল সাহাবীগণ উপস্থিত ছিলেন তাদের
মধ্যে অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন এবং শুধুমাত্র হজের সময়ই মক্কায় আসতেন।

আর একটি বিষয়, আপনি যদি ইসলামি ইতিহাস অধ্যয়ন করে থাকেন তাহলে ভালো ভাবে বুঝতে
পারবেন হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর ওফাতের সময়, তিনি কাগজ ও কলম চেয়েছিলেন (কেন চেয়েছিলেন তা অনেক মুফাসসিরগণ
ব্যক্ত করেছেন)। কিন্তু কিছু ব্যক্তি বলেছিলেন, হযরত মুহাম্মাদ (সা.), (নাউযুবিল্লাহ) মনগড়া (প্রবৃত্তির বশে) কোন
কথা বলছেন। কারণ, তিনি এখন মৃত্যু বরণ
করছেন আর এ সময় অনেকই আবল তাবল বলেন। কিন্তু পবিত্র কুরআনেই মহান আল্লাহ বলেন:

 وَمَا
يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ- إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ (নাজম, আয়াত ৩ ও ৪) 

অর্থ: এবং সে মনগড়া (প্রবৃত্তির
বশে) কোন কথা বলেন না। এতো কেবল প্রত্যাদেশ (ওহী), যা (তাঁর প্রতি) প্রত্যাদেশ করা হয়। (যা বলেন তা ওহী থেকেই বলেন)

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-priority:99;
mso-style-qformat:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin-top:0in;
mso-para-margin-right:0in;
mso-para-margin-bottom:10.0pt;
mso-para-margin-left:0in;
line-height:115%;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:11.0pt;
font-family:"Calibri","sans-serif";
mso-ascii-font-family:Calibri;
mso-ascii-theme-font:minor-latin;
mso-fareast-font-family:"Times New Roman";
mso-fareast-theme-font:minor-fareast;
mso-hansi-font-family:Calibri;
mso-hansi-theme-font:minor-latin;}

জবাবের জন্য ধন্যবাদ। বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ সাহাবীদের কথা না হয় বাদ দিলাম। খোলাফায়ে রাশেদীন সহ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী কি ঐ স্থানে উপস্থিত ছিলেন? আর ক্ষমতালোভী বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে, তা কি একটু খোলাসা করে বলা যাবে? কার কার মনে হিংসা ছিল এবং নবীজীকে কাগজ কলম দিতে অস্বীকার করে নবীজীর নামে অসংলগ্ন কথা কে কে বলেছিলেন, তা কি সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে?

আল্লাহ তাআলা বলেন: এ সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরগণের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি
হতে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও
তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী। আর এ সম্পদ তাদের জন্যও, যারা
মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে এ নগরীতে বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে। তারা
মুহাজিরদেরকে ভাল-বাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তার জন্য তারা
অন্তুরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে নিজেদের উপর
অগ্রাধিকার দেয়। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। [সূরা-হাশর, ৮-৯]
এখন দেখুন, স্বয়ং আল্লাহ যাদেরকে হিংসামুক্ত বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন, আপনি কিভাবে তাদের মনে হিংসা আবিস্কার করেন?

সালাম

চমৎকার   জবাব  ভাই  ,  যাজাক  আল্লাহ ।

সালাম,
 এ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ।
আসলে এটি এমন একটি বিষয় যা এভাবে প্রশ্ন-উত্তর অথবা মন্তব্য আদান প্রদানের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। যেহেতু ওয়েব ব্লগ একটি উন্মুক্ত স্থান এবং এখানে একটা মন্তব্যের পর আরেকটা মন্তব্য চলে আসবে এবং মাঝখান থেকে অনেকে অনেক কিছু মনে করতে পারে এবং তারাও বিভিন্ন ধরণের ভালো মন্দ মন্তব্য করতে পারে।
যা বিভিন্ন ব্লগে দেখা যায়। আর এ জন্য আমি এভাবে এর কোন উত্তর দিতে চাচ্ছি না। কারণ, এর মাধ্যমে কোন সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
ভালো থেকেন
আল্লাহ হাফেজ

সালাম

রাসূল   সাল্লাললাহু  আলাইহি  ওয়া  সাল্লামের   প্রকাশ্য  ঘোষণা  পরে   সাহাবীরা   তাঁর  আদেশ  অমান্য  করে   হজরত  আবু  বকর  রা:   কে  খলিফা  বানালেন  ,  এটা  কিভাবে   সম্ভব ?    এই   হাদীসগুলি  কি   সহীহ  ?   শিয়ারা  ছাড়া  অন্যরা কি  এসব  মানেন  ?

যাই  হোক ,  হাজার  বছরের  পরেও  এসব  নিয়ে  বিতর্ক করার  কোন মানে হয়  না  ।   তাছাড়া  ,  আল্লাহই  তো  আমাদের   আসল   অভিভাবক  ।     কোন  নবী  বা  খলিফাকে   অভিভাবক  হিসাবে   প্রচার করলে   ও  তা  মেনে  নিলে   শিরক  করার  মহাপাপ   ঘটে  যেতে  পারে ।     আমাদের   দেশের মুসলমানদের  অনেকেই  বা  বেশীরভাগই  ধর্ম সম্পর্কে  সঠিক  জ্ঞান  রাখেন  না  ।  তাই সাবধানতার  অংশ  হিসাবে এই জাতীয়  লেখা  না  লেখাই  ভাল  বলে  মনে  করি   ।

মুসলমানদের  ঈদ  তো  দুটো  বলেই  জানতাম ।    তিন নং  ঈদ  কবে থেকে   চালু   হলো  ?  রাসূল  সাল্লাললাহু আলাইহি  ওয়া  সাল্লাম  বা  কোন  সাহাবী  কাউকে   গাদীর   দিবস  উপলক্ষ্যে    ঈদ  মোবারাক  বলতে    শিখিয়েছেন  ?  ইরান  ছাড়া  অন্য কোন   দেশে   -  ঈদে গাদীর উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি ঈদ মুবারক -   এভাবে  কেউ   শুভেচ্ছা  বিনিময়  করেন  ?

এই  সপ্তাহের যুগান্তরের    লেখাটি  কি  আপনার   ?

http://www.jugantor.com/islam-and-life/2015/10/02/331619

সালাম,
আপনি হাদিসগুলো নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। (আমি বলব: এমনটি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়)। যেহেতু আপনার মধ্যে এ বিষয় নিয়ে সন্দেহ বিরাজ করছে, যেহেতু আপনার সন্দেহ মূল উৎসের দিকে ফিরে যাবে। অর্থাৎ এ হাদিস গুলো যে সকল গ্রন্থে উল্লেখ রা হয়েছে তার দিকে। তবে, যে সকল গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো আপনি দেখতে পারেন। যে গ্রন্থ সমূহের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে: তিরমিজ, মুসলিম, তাফসিরে তাবারি সহ অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
আর আপনি ঈদের কথা বলেছেন, আসলে ঈদ শব্দের অর্থ হচ্ছে উৎসব, আনন্দ অথবা খুশি। যে কোন খুশির দিনকেই ঈদ বলা যেতে পারে। এছাড়াও ঈদে মাব'য়াস নামের একটি ঈদ বা খুশির দিন রয়েছে। এ দিনটি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর নবুয়ত প্রাপ্তির দিন।
না ভাই, যুগান্তরের এই লেখাটি আমার না।
ভালো থেকেন
আল্লাহ হাফেজ

যারা মক্কা বিজয়ের সময় (কেউ হয়তো জান বাঁচানোর জন্য আবার কেউ হয়তো সত্যের প্রমাণ পেয়ে বা উপলব্ধি ঘটার কারণে আবার কেউবা অনুকূল পরিবেশ পেয়ে) ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাদের ব্যাপারে না হয় কিছু নাই বললাম। কিন্তু যারা শুরু থেকেই নবীজীর পাশে থেকেছেন, তাদের সম্পর্কে তো কোরআনই সাক্ষী: ‘মুহাজির ও আনসারদের প্রথম অগ্রবর্তী দল এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করে আল্লাহ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, এটাই মহা সাফল্য।’ [সূরা তওবা-১০০]
আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীনও যে এ আয়াতে বর্ণিত অগ্রবর্তী দলের অন্তর্ভুক্ত, তা বলাই বাহুল্য। তাই বলি ভাই, তাঁদের মধ্যে শুধু একজনকে নয়, বরং সবাইকে অনুসরণ করাই জরুরী বলে প্রমাণিত হয়েছে এ আয়াত থেকে। কার্যক্ষেত্রে অনুসরণ অবশ্য যেকোন একজনকে করলেই চলবে, কিন্তু স্বীকৃতি দিতে হবে সবাইকে। অন্যথায় আল্লাহর প্রশংসিত ও সুসংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে কুধারণা বা সন্দেহ পোষণ করলে সেটা কুফরীর পর্যায়েও পৌঁছতে পারে। কারণ, এর দ্বারা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নয়, বরং কোরআনকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়। যেমন- ইবলীস শুধু আদমকে অসম্মান করেনি, বরং সে অবজ্ঞা করেছে আল্লাহর হুকুমকে। তাই সে কাফের হয়েছে।
গদীরে গুমের কাহিনী আলী (রা:)-কে সম্মানিত করার জন্য নয়, বরং নবীর সঙ্গী-সাথীগণকে বিশ্বাসঘাতক প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই রচিত। যদি আলী (রা:)-কে শুরুতেই খলীফা বানিয়ে দেয়া হতো, তাহলে ইহুদীরা হয়তো আবুবকরের (রা:) ভক্ত সেজেই নতুন একটা মাযহাব বানিয়ে ফেলত।
মজার ব্যাপার হল, নবীর ঘনিষ্ঠতম সহচরগণের প্রতিই যাদের আস্থা নেই, তারা হাদীস বিশ্বাস করে কিভাবে? হাদীস এসেছে কাদের মাধ্যমে? নবীর বাণী উম্মতের মধ্যে পৌঁছিয়েছে কাদের হাত দিয়ে? এদের দশা দেখে মনে হয়: "শ্বশুর আব্বা, আপনি কি শাদী করিয়াছেন?"Smile
গদীরে গুমের ঘটনা যদি সত্যিও হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে 'মাওলা' অর্থ পরবর্তী খলীফা বা রাষ্ট্রপ্রধান বোঝানোটা জরুরী নয়, বরং মাওলা অর্থ বন্ধু। তিন খলীফার আমলেই আলী (রা:) তাঁদের হিতৈষী ও বন্ধু হিসেবে কর্ম ও পরামর্শ দিয়ে তাঁদেরকে সহযোগিতা করেছেন। সুতরাং আলীকে (রা:) রাষ্ট্রক্ষমতা না দিয়ে পূর্ববর্তী খলীফাগণ নবীর ওসীয়ত অমান্য করেছেন- ব্যাপারটি এমন নয়।
তিন খলীফার আমলেই আলী (রা:) রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার হিসেবেই ছিলেন। তিনি বিরোধী দলে নয়, বরং সরকারী দলেই ছিলেন।

Normal
0

false
false
false

EN-US
X-NONE
AR-SA

MicrosoftInternetExplorer4

সালাম,

ভাই কিছু মনে করেন না।
গাদীরে গুম বলে কিছু নেই। তবে গাদীরে খুম غدیز خم শব্দটি আছে এবং আমাদের
আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে গাদিরে খুম। আর আপনি যে মাওলা শব্দের অর্থ শুধুমাত্র বন্ধু বুঝিয়েছেন ঠিক আছে। তবে মাওলা শব্দের অনেক অর্থ
রয়েছে। তার মধ্যে একটি অর্থ বন্ধু।

তবে যদি এখানে যদি মাওলা শব্দের অর্থ বন্ধু
বোঝানো হয় তাহলে সেখানে আরো অনেকেই ছিল, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কেন তাদের সকলের নাম ধরে বলেন
নি যে, তারা সকলেই আমার বন্ধু।
এছাড়াও, শুধুমাত্র বন্ধু যদি
বোঝানো হয়, তাহলে হজের সকল হাজিদের
গাদির খুম নামক স্থানে নিয়ে একত্রিত করার কোন প্রয়োজন ছিল কি? কয়েক জনের সামনেই এ কথাটি
বলতে পারতেন।

এবং  হযরত মুহাম্মাদ (সা.) -“‘মান কুনতু মাওলা ফাহাজা
আলিয়ুন মাওলা’ অর্থাৎ আমি যাদের মাওলা
আলীও তাদের মাওলা বা নেতা”-
কথাটি বলার পর ঐ স্থানে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন। এর করণ ছিল, তখন সকলের নিকট হতে বাইয়াত
গ্রহণ করেছিলে। উপস্থিত সকল নারী ও পুরুষের নিকট হতে।

এখানে যদি শুধুমাত্র বন্ধু বলা হত, তাহলে এ কথাটি বলার পর
হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সকলকে ঐ স্থানে থেকে বাইয়াত গ্রহণ করার নির্দেশ দিতেন না।

আপনি কি বলতে পারেন, কেন ঐ স্থানে সকল হাজি
তিন দিল অবস্থান করেছিলেন?

আর একটি বিষয় আপনি লিখেছেন
‘গাদীরে গুমের (খুমের)
ঘটনা যদি সত্যিও হয়ে থাকে,’
এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে এ নিয়ে আপনার মনে সংশয় রয়েছে। তবে এ হাদিসটির বর্ণনাকারী
অনেকেই। এজন্য একে হাদিসে মুতাওয়াতির বলা হয় এবং হাদিসে মুতাওয়াতির সম্পর্কে কোনো ওলামা
বা হাদিস বিশেষজ্ঞদের কোন প্রকার সন্দেহ বা সংশয় নেই। কারণ, এধরণের হাদিস নিঃসন্দেহে
সঠিক।

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-priority:99;
mso-style-qformat:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin:0in;
mso-para-margin-bottom:.0001pt;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:11.0pt;
font-family:"Calibri","sans-serif";
mso-ascii-font-family:Calibri;
mso-ascii-theme-font:minor-latin;
mso-fareast-font-family:"Times New Roman";
mso-fareast-theme-font:minor-fareast;
mso-hansi-font-family:Calibri;
mso-hansi-theme-font:minor-latin;
mso-bidi-font-family:Arial;
mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সরাসরি হাতে না নিয়েও অভিভাবক হওয়া যায়। যেমন, ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী বা খামেনী রাষ্ট্রপ্রধান নন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান তার পরামর্শ অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। তাঁর মর্যাদা রাষ্ট্রপ্রধান অপেক্ষা কোন অংশে কম নয়। অতএব, আলী (রা:) রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সর্বাপেক্ষা শেষে গ্রহণ করেছেন বলে এই নয় যে, প্রথম তিন খলীফার আমলে তিনি উপেক্ষিত বা অবহেলিত ছিলেন। কিংবা রসূল (সা:) প্রদত্ত ও ঘোষিত মর্যাদা তাঁর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে প্রতারণাপূর্বক কেড়ে নিয়ে অন্য কেউ ভোগ করেছে- এমন ধারণাও ঠিক নয়।

শিয়া সম্প্রদায় যে হাদীস উৎপাদনের কারখানা, জাল হাদীস বানানোতে যে তারাই সবার অগ্রণী, তার প্রমাণ হল, তারা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সময়ের চাহিদা অনুসারে নিত্য নতুন আপডেটেড হাদীস উপহার দিতে পারে। যেমন- ইমাম মাহদী সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীতে তারা হেজাযে আবদুল্লাহ নামক জনৈক বাদশাহের মৃত্যু এবং ইরান ও ইয়েমেনে ইমাম মাহদীপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে থাকে। অথচ এক দশক আগেও এসব হাদীস তাদের কাছে ছিল কিনা সন্দেহ।
অতএব গদীরে খুমের হাদীসটা তারা যেভাবে বর্ণনা করে, অর্থাৎ আলী (রা:)-কে  খলীফা হিসেবে মনোনীত করে তার পক্ষে সকল সাহাবীর কাছ থেকে বাইয়াত গ্রহণের যে দাবি করে, তারই বা কতটা ভিত্তি আছে?

সালাম,
ভাই আপনি আসলে কিছু কিছু বিষয়ে সচেতন। তবে এই সচেতনতার মাত্রাটি আরও একটু বৃদ্ধি করনে তাহলে ভালো হতো।
আপনার শেষে মন্তব্য এই নিজেই একটি বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিষয়টি সমালোচনা করেছেন (ইমাম মাহদী সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীতে তারা হেজাযে আবদুল্লাহ নামক জনৈক বাদশাহের মৃত্যু এবং ইরান ও ইয়েমেনে ইমাম মাহদীপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে থাকে)।
আপনি আপনার সন্দেহ দুর করার জন্য এ বিষয়ে গবেষণা করতে পারেন। ১০-১২ বছর পূর্বের নয়, আপনি ১৫-২০ বছরে পূর্বে শিয়াদের যে গ্রন্থ রচিত হয়েছে সেগুলো অধ্যয়ন করেন। আশা করছি আপনার সন্দেহ দুর হবে।
আর গদীরে খুমের হাদীস এবং ঐ দিনে উপস্থিত সকলের নিকট হতে বাইয়াত গ্রহণের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ না করে এ বিষয়েও অধিক অধ্যয়ন করেন। ইনশাআল্লাহ আপনার সকল সন্দেহ দুর হবে।

ওয়ালাইকুমুস সালাম,

ভাই, এ সংক্রান্ত কোন পুরাতন বইয়ের রেফারেন্স দিতে পারেন? বাংলা ভাষায় থাকলে ভাল হয়, না থাকলে বিদেশী ভাষার বই।

সালাম,
ভাই, দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেল। আপনি কি সময়ের অভাবে বইয়ের নাম উল্লেখ করতে পারছেন না, নাকি আসলেই এ ধরনের বইয়ের অস্তিত্ব নেই?

সালাম,
ভাই দীর্ঘ দিন জরুরী কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এজন্য আমি এতদিন উত্তর দিতে পারিনি। এজন্য দুঃখিত।
ভাই আপনি বিস্তারিত জানতেعصر ظهور" " নামক গ্রন্থটি অধ্যয়ন করতে পারেন।

ওয়ালাইকুমুস সালাম,

ধন্যবাদ। উল্লেখিত বইয়ে বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। এতে এ সম্পর্কিত আমার পূর্বের ধারণা ভুল প্রমাণিত হলেও বইটি পড়ে আবার নতুন করে আরো কিছু বিষয় জানতে পেরেছি, যা হয়তো বর্তমান শিয়া শক্তিগুলোর বিপক্ষেই যায়। যদিও বর্তমান পোস্টের আলোচিত প্রসঙ্গ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কিন্তু বিষয়টি আপনার সাথে শেয়ার করার জন্য বলছি। তাহল, উক্ত বইয়ে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সুফিয়ানী বাহিনী তুর্কীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। [যদিও বইটির বর্তমান সংস্করণের সম্পাদক বা অনুবাদক তুর্কী অর্থ করেছেন রাশিয়ান, কিন্তু আক্ষরিক অর্থে তুর্কীদেরকে বোঝাই স্বাভাবিক। অবশ্য বর্ণিত ঘটনাবলীর সময়কালে পৃথিবীর মানচিত্র কেমন হবে, সে ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত নই।] তারপর ইরানীদের সাথে মিলে ইরাকে হস্তক্ষেপ করবে। [যদিও আমরা বর্ণিত ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে নিশ্চিত নই, কিন্তু বর্ণিত দেশগুলোতে বর্তমানের শাসকগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলো প্রযোজ্য হয়ে থাকলে তা বোধহয় শিয়াদের জন্য নেতিবাচক ইঙ্গিতবহ।] অবশ্য শেষ পর্যন্ত ইরানীদের হাতেই সুফিয়ানী পরাজিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হতে পারে, ইরানের এক সময়কার শাসকবর্গ তার বন্ধু ও সহযোগী হবে, আর পরবর্তীতে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে ইরান তার শত্রু হয়ে উঠবে। হয়তো ইরানের বর্তমান শিয়াবাদী শাসকরা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যদি অন্য কোন শাসক আসে, তারা হয়তো সিরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর বিপক্ষে চলে যাবে এবং ইমাম মাহদীর সহযোগী হবে। আল্লাহ ভালো জানেন।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)