মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করল জাতিসংঘ


জাতিসংঘ ঘোষণা করেছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী অক্টোবর মাস থেকে রোহিঙ্গা নিধনের জন্য মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় গতকাল (২য় ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ঘোষণা করেছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিয়েছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সেদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশু, যুবক, নারী, পুরুষ এবং বৃদ্ধদের নির্মম ভাবে হত্যা করেছে এবং যারা পালানোর চেষ্টা করেছে তাগে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, প্রতিটি গ্রামে আগুন ধরিয়েছে, অনেককে গ্রেফতার করেছে এবং নারীদের ৭৮ ও যৌন সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে।

এছাড়াও তাদের খাদ্যের গুদাম ধ্বংস করেছে।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে আরও এসেছে, "আঞ্চলিক ক্লিয়ারিং অপারেশনের ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

একজন মহিলা জাতিসংঘের তদন্তকারীদের নিকট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী কীভাবে ৮ মাসের নিষ্পাপ শিশুর গলা কেটে হত্যা করেছে তার বিবরণ দিয়েছে। অপর এক নারী বলেছে, মিয়ানমারের পাশবিক সৈন্যরা তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে এবং তার চোখের সামনে ৫ বছরের মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জাইদ রাদুল হুসাইন প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলেন: "রোহিঙ্গা শিশুদের বিরুদ্ধে যে অত্যাচার ও নিপীড়ন করা হয়েছে তা অসহনীয়"।

এই প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ম অক্টোবরের ঘটনার পর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের অত্যাচারের ফলে রাখাইন প্রদেশে থেকে প্রায় ৬৯ হাজার জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

এছাড়াও ২২০ জন রোহিঙ্গা মুসলমান মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে কক্সবাজারে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু পালানোর সময় সকলেই নিহত হয়।

এদিকে মিয়ানমার সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সকল অভিযোগই অস্বীকার করেছে। দেশটির সরকার দাবী করছে, এটি সন্ত্রাস বিরোধী একটি বৈধ অভিযান।

এছাড়াও মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ সকল পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য বাধা প্রয়োগ করছে এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সাথে সহযোগিতা ও ধর্ষণ সহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে।

জাইদ মিয়ানমারের অপরাধমুলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং মিয়ানমারকে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করার অনুরোধ করেছেন।

তিনি বলেন: "একজন মানুষের বিরুদ্ধে এমন কী ঘৃণা রয়েছে যে, শিশুকে তার মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পেটানো হচ্ছে? এবং সন্তানের হত্যার সাক্ষী স্বয়ং মা হচ্ছেন! এমতাবস্থায় নিরাপত্তাকর্মীরা তার নিরাপত্তা প্রদান না করে, তাকে গণ ধর্ষণ করছে? এটা কোন ধরনের ক্লিন আপ অপারেশন?"

 জাইদ বলেন: "এ ধরণের পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে কোন দেশের নিরাপত্তা সংগঠিত হবে?"

বাংলাদেশের এক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে বাংলাদেশ সীমান্তে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় একটি দ্বীপে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে।

তবে সমালোচকগণ বলছে ঐ দ্বীপটি বসবাসের অযোগ্য।

এর প্রতিক্রিয়ায় ঐ কর্তৃপক্ষ বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসবাসের স্থানটি অস্থায়ী। পরিশেষে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিজ বাড়ীতে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেবে।

iqna

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)