থাইল্যাণ্ড : কী আরেক পাকিস্তান হতে চলেছে

থাইল্যাণ্ড : কী আরেক পাকিস্তান হতে চলেছে    থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোড় নিয়েছে। বিরোধীদের জোট ‘রেড শার্ট’-এর আন্দোলন ঠেকাতে সরকারের আক্রমণাত্মক ভূমিকা দেশটিতে অস্থিরতা-উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই  তুলছে। আন্দোলন দমনে দেশটির ১৫টি রাজ্যে জরুরি আইন জারি করেছে সরকার। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১৯ জন এবং আহত হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক। বিগত দুই মাস ধরে চলা সরকার বিরোধী এই আন্দোলনে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জন। হতাহতের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন। রাজপথে জনবিক্ষোভ অন্যদিকে সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর গুলি, টিয়ার শেলের ধোঁয়া এবং বোমায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক পরিণত হয়েছে একটি ভীতিকর নগরীতে। থাইল্যান্ডের সংঘাতময় বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতাদের অনেকেই। স্বভাবতঃই বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ অস্বাভাবিক এ পরিস্থিতির অবসান চায়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এই পরিস্থিতিকে আর বাড়তে না দিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জোর আহŸান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা সরকারও থাই সরকারের প্রতি আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের আহŸান জানান। সেনা সরিয়ে নিয়ে লাল শার্টদের সঙ্গে অবিলম্বে আবারও আলোচনা শুরুর আহŸান জানান সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। কিন্তু থাইল্যান্ড সরকার আন্দোলনকারীদের সকল দাবি মেনে অবিলম্বে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আনতে সক্ষম হবে, এখন পর্যন্ত সেই লক্ষণ স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে ইতিপূর্বে থাইল্যান্ড সরকার দাবি করলেও বা¯Íবে ঘটেছে বিপরীত। থাইল্যান্ডের রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০৫ সালে বড় ধরনের বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল থাই র‌্যাকথাই পার্টি। কিন্তু ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং তার দল থাই র‌্যাকথাইকে অবলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সামরিক জান্তার হ¯Íক্ষেপের পর হতে থাইল্যান্ডে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসে নাই।  দেশটিতে ১৯৩২ সালে প্রথম সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। সেই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজার একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো হয় এবং থাইল্যান্ডকে একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের দেশে পরিণত করা হয়। জেনারেল ফি বুনের নেতৃত্বে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। জেনারেল ফি বুনের নেতৃত্বে পিপলস পার্টি গঠিত হয় এবং তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন।  ১৯৫৭ সালে জেনারেল সারিত ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তিনিও ন্যাশনাল সোশ্যালিষ্ট পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এইভাবে একটি দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনী থাইল্যান্ডের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর পরিণতিতে থাইল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে কোন গণতান্ত্রিক শক্তি বিকশিত হতে পারে নাই। দেশটিতে যারাই আশির দশকের পর হতে বেসামরিক শাসন পরিচালনা করেছেন তাদের সবারই যোগাযোগ ছিল সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন জেনারেলদের সাথে। সেনাবাহিনী পর্দার অন্তরালে থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশ পরিচালনার ব্যাপারে কলকাঠি নেড়েছেন।  এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন। সামরিক জান্তা ও উচ্চ আদালত তাার বিরুদ্ধে গেলেও থাকসিনের জনপ্রিয়তা কমে নাই। রেড শার্ট আন্দোলনকারীরা তাার সমর্থক হিসাবেই পরিচিত। অন্যদিকে দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করে সেনা সহায়তায় ক্ষমতা গ্রহণের পর হতেই বিরোধীদের প্রবল প্রতিরোধের মধ্যে রয়েছেন থাইল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিজিত ভেজ্জাজিভা।  থাইল্যান্ড সরকারের বোঝা উচিত গুলি আর নির্যাতন চালিয়ে কোন গণবিক্ষোভকে দমন করা যায় না। রেড শার্টধারীদের বিক্ষোভে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষও জড়িত আছেন। থাইল্যান্ডের মানুষ কোন অপশাসন নয়, গণতান্ত্রিক শাসনের অধীন শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশে বাস করতে চায়। এ কারণে নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দসই সরকার গঠন করতে চায় তারা। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। এখন সর্বতোভাবে বর্তমান সরকারকে বিদায় করে সেখানে নূতন সরকার প্রতিষ্ঠাই আন্দোলনকারীদের মূল দাবি । পরিস্থিতির উত্তরণে থাইল্যান্ডের রাজার হ¯Íক্ষেপ আশা করছেন অনেকে। কিন্তু ৮২ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ রাজার পÿে দেশের জটিল কোন সমস্যা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করা কতটা সম্ভব, ইহা নিয়ে রয়েছে সংশয়।   এই পরিস্থিতিতে আবারও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। গণতন্ত্রকামি শান্তিপ্রিয় মানুষ চায় থাইল্যান্ডে সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ও রক্তপাত বন্ধ হোক। আমরাও আশা করি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সকল পক্ষের অবিচল আস্থাই দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসতে পারে। 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (3টি রেটিং)

বিক্ষোভের ইতি না টানলে আলোচনা হবে না : থাই সরকার
সুতরাং সহসা আন্দোলন থামবে বলে মনে হয় না।

পাকিস্তান ধ্বংস হলে আমাদের কি? বেটারা আমাদের বহুত জ্বালাইছে। 

সব জ্যান্তা আর স্বৈরাচারীগুলো এশিয়া ও আফ্রিকাতেই পড়েছে?

-

বজ্রকণ্ঠ থেকে বজ্রপাত হয় না, চিৎকার-চেঁচামেচি হয়; অধিকাংশ সময় যা হয় উপেক্ষিত।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (3টি রেটিং)