নিরাপদ মাতৃত্ব ও গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা

‘নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করি, সুস্খ সবল জাতি গড়ি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ২৮ মে পালিত হল নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারী কর্তাবৃন্দ মাতৃস্বাস্থ্য সেবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দাবি করলেও প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখনও বাংলাদেশে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হার অনেক বেশি। মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ১২,০০০ মা প্রসবজনিত জটিলতার কারণে মারা যায়। বর্তমানে মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লক্ষ জীবিত জন্মে ২৯০ জন ও নবজাতকের মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ৩৭ জন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল) অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু হার ৪ ভাগের ৩ ভাগ ও নবজাতকের মৃত্যু হার ৩ ভাগের ২ ভাগ কমিয়ে আনতে হবে। ২০১৫ সালের আগেই সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর কথা বলছে সরকার। অথচ তার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার, উপায়-উপকরণ ও প্রশিক্ষণ দরকার তা সরকারের নেই। 

নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি নারীর অধিকার। এ অধিকার অর্জনে আমরা এখনো অনেক পিছনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতা, গর্ভকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়া ও অদক্ষ দাইয়ের হাতে বাচ্চা প্রসব করানোর ফলে বাংলাদেশে মাতৃ মৃত্যুর হার খুব বেশি। বর্তমানে শতকরা ১৫ ভাগ প্রসব বিভিন্ন হাসপাতার বা ক্লিনিকে হয়ে থাকে। বাকি ৮৫ ভাগ প্রসব বাড়িতে অদক্ষ দাই অথবা নিকট আত্মীয়দের দ্বারা হয়। ফলে অনেক সময় গর্ভকালীন বা গর্ভপরবর্তী জটিলতায় অনেক মায়ের অকাল মৃত্যু হয়। তাছাড়া আমাদের দেশে অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ প্রজনন স্বাস্থ্য জরিপ-এ দেখা যায়, এদেশে শতকরা ৮০ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সে। এর মধ্যে শতকরা ২৩ ভাগ নারী ২০ বছর বয়সের আগেই গর্ভধারণ করে। এদেশের অধিকাংশ মা-ই অপুষ্টি ও রক্তশূণ্যতায় ভোগে যা মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এর পিছনে রয়েছে কিছু প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার ও রক্ষণশীলতা। যেমন গ্রামে অনেক পরিবারে গর্ভকালীন সময়ে হাঁসের গোশত, মুরগীর ডিম, মৃগেল মাছ, কচুশাকসহ অনেক পুষ্টিকর খাবার খেতে দেয়া হয় না। এমনকি গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিচর্যার ক্ষেত্রেও অবহেলা করা হয়। বরং অনেক সময় তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে এখনো ১৪ শতাংশ নারী গর্ভাবস্থায় স্বামী ও শ্বশুরপক্ষের আত্মীয়ের হাতে নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এতে মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুকিঁ বাড়ছে।

স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন পৌর এলাকাতে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো সমস্যার জন্য হাসপাতালে যেতে পারছে না অনেক নারী। হাসপাতালে পৌঁছালেও ডাক্তার না থাকার কারণে মিলছে না চিকিৎসাসেবা। আবার অনেকে পুরুষ ডাক্তারের হাতে প্রসব করাতেও রাজি হয় না। এমনকি তারা মেয়েদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যাপারেও বাধা প্রদান করে। গ্রামীণ জনপদ ও চরাঞ্চলের অবস্থা আরো খারাপ। এসব জায়গায় নেই কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। থাকলেও সেখানে ডাক্তাররা থাকতে চায় না। কেউ অসুস্থ হলে স্থানীয় ওঝা, ফকির বা হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। এসব এলাকার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা থাকেন পৌর এলাকায়। এনজিও-গুলোও শহর এলাকায় কাজ করে। ঔষুধ দোকানদারই এখানে ‘ডাক্তার’ নামে পরিচিত। নেই কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা। ফলে ঘটছে জনবিস্ফোরণ, বাড়ছে মা ও শিশুর মৃত্যু। শহর এলাকার অবস্থা যে খুব ভালো তাও বলা যায় না। কারণ শহরে স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই বাজারমুখি, ব্যবসাকেন্দ্রিক ও মুনাফাসর্বস্ব। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা চড়া দামে কিনতে হয়। শহরের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী দরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত। এদের পক্ষে ক্লিনিক বা দামী হাসপাতাল থেকে গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা নেয়া কঠিন।

কর্মজীবি নারীদের সমস্যাও প্রকট। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, মেয়েদের কমপক্ষে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝুকিঁপূর্ণ অবস্থায় সন্তান জন্মদানের পূর্বেই ছুটি নেয়ার নিয়ম আছে। অথচ দেশে সরকারী চাকুরীজীবীদের জন্য চার মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি বরাদ্দ আছে। আর বেসরকারী পর্যায়ে মায়েরা এখনো ছুটি থেকে বঞ্চিত। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ছুটি দেয়া হচ্ছে বটে, কিন্তু বেতন মিলছে না। বিশেষ করে নারীশ্রমিকদের ক্ষেত্রে এটি বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-এর মতে গার্মেন্টসে কর্মরত ২০ লাখ নারী শ্রমিক নির্দিষ্ট মাতৃত্বকালীন ছুটি পাচ্ছে না। ছুটি না পাওয়ায় সন্তান প্রসবের আগে ও পরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারীদের। এছাড়া গর্ভাবস্থায় কর্মজীবী নারীদের বিশেষ করে নারীশ্রমিকদের অনেক ঝুকিঁপূর্ণ কাজ করতে হয়। ফলে ঝুকিঁপূর্ণ হচ্ছে মা ও সন্তানের জীবন।

মাতৃমৃত্যু রোধে বিদ্যমান সেবাগুলোর মাধ্যমে শিশু জন্মের পর প্রাথমিক ও অত্যাবশ্যকীয় পরিচর্যা, স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানোর কৌশল দ্রুততর ও সহজ করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া ঝুকিঁপূর্ণ গর্ভ চিহ্ণিতকরণ, টিটি টিকা দান, আয়রন ফলিক এসিড ট্যাবলেট বিতরণসহ কতিপয় জটিলতা যেমন প্রি-এক্লাম্পশিয়া শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। গর্ভকালীন প্রসব ও প্রসব পরবর্তী জটিলতা রোধে পুরুষদের সম্পৃক্ততা একটি জরুরী বিষয়। অনেকে মাতৃস্বাস্থ্যের সব বিষয়কে নারীর সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করে। এটা মোটেই কাম্য নয়। এর পরিবর্তন হওয়া দরকার। 

মা হলেন জননী, জন্মদাত্রী, স্তন্যদায়ী, পালনকর্ত্রী। মায়ের সুস্থতার উপর নির্ভর করে সন্তানের নিরাপদ জন্ম, সুস্থ জীবন। তাই মায়ের স্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ স্বাস্থ্য মায়ের অধিকার। আর এ অধিকার আদায়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমসহ সমাজ সচেতন সবাইকেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

"র্তমানে শতকরা ১৫ ভাগ প্রসব বিভিন্ন হাসপাতার বা ক্লিনিকে হয়ে থাকে। বাকি
৮৫ ভাগ প্রসব বাড়িতে অদক্ষ দাই অথবা নিকট আত্মীয়দের দ্বারা হয়।"

উপরের অংশটি কোট করলাম এজন্য যে, এই শতকরা ১৫ ভাগ যখন হাসপাতালে যাচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে প্রায় ৮৫ ভাগকে সিজারের মাধ্যমে প্রসব করানো হয়। এটা কোন সঠিক সমাধান? একজন সিজার করা মা অনেক দিক থেকে কিছু না কিছু পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে বাধ্য হন।

তাহলে কি দাঁড়ালো এই "নিরাপদ মাতৃত্ব ও গর্ভকালীন স্বাস্থসেবা"র শ্লোগানের আড়ালে?

মাতৃত্ব নিরাপদ করতে হলে আগে প্রয়োজন দেশের চিকিৎসা নীতির চিকিৎসা করা। হাসপাতালগুলোকে নিরাপদ করা। অন্যথা সেবার নামে দলে দলে প্রসূতীরা হাসপাতালে ঢুকবে আর বেরিয়ে আসবে সারাজীবনের পঙ্গুত্ব নিয়ে।

কেন হচ্ছে এগুলো? একটাই জবাব। ডাক্তার ও নার্সদের অতিরিক্ত লোভ। সাধারণ প্রসবের জন্য তারা যা পাবেন, সিজারের জন্য পাবেন তার আট/দশগুণ টাকা। সবাই নিরাপদ মাতৃত্বের কথা বলে শ্লোগান দিচ্ছে অথচ হাসপাতালগুলো আদৌ নিরাপদ কিনা মাতৃত্বের জন্য, সেদিকটা কেউ ভাবছে না।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

আপনার কিছু কথার সাথে আমি একমত চিকিৎসা নীতির অবশ্যই চিকিৎসা প্রয়োজন। ডাক্তার ও নার্সদের অতিরিক্ত লোভের কথাও সত্য। কিন্তু তারপরও কিছু কথা থাকে। সিজার করলেই যে কিছু না কিছু পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় তা পুরোপুরি ঠিক নয়। আর আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েরা যে অবস্থায় হাসপাতালে আসে তখন সিজার না করেও উপায় থাকে না। আমাদের দেশে সাধারণ জনগণ মোটেই স্বাস্থ্য সচেতন নয়। সচেতনতা বাড়লে ডাক্তার-নার্সদের পক্ষে এত বেশি দুর্নীতি করা সম্ভব হত না। 

-

বৃদ্ধ বিবেক

আমার ভাই যে মন্তব্য করেছেন আমি তার পাল্টা মন্তব্য করবো না, শুধু কিছু যোগ করতে চাই...''শতকরা ১৫ ভাগ যখন হাসপাতালে যাচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে প্রায় ৮৫ ভাগকে
সিজারের মাধ্যমে প্রসব করানো হয়। এটা কোন সঠিক সমাধান? একজন সিজার করা মা
অনেক দিক থেকে কিছু না কিছু পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে বাধ্য হন।''.........আমাদের দেশে যে সব প্রসূতি হাসপাতালে যায় তাদের ৯৫ ভাগই প্রসব ব্যা্থা শুরু হবার পর বা প্রসব ব্যাথা না উঠার কারনে। সুতরাং ডাক্তারি শিক্ষা অনুযাই মায়ের জীবন বাচাতে সেসব ক্ষেত্রে সীজার আব্শ্যক।তাছারা আমাদের দেশের অনেকেই বিশেষ করে অভিজাত পরিবারের মায়েরা প্রসব বেদনা সহ্য করতে আগ্রহী নয়! অর এক্ষেত্রে যদি কিছু মা পঙ্গুত্ব বরন করেও (যদিও সে সংখ্যাটা খুব কম) তা তার অকাল মৃত্যুর ক্ষতির তুলনায় নগন্যই বলা যায়।আর সাধারন ডেলিভারীর ক্ষেত্রেও মা ও নবজাতকের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে......

-

foysullah

হাসপাতালে গেলেই অনাবশ্যকভাবে সিজার করে ফেলা হয়- এমনটি সবক্ষেত্রে সত্য নাও হতে পারে। তবে কৌশলে পূর্ব থেকেই সিজারকে আবশ্যক করে তোলা হয়। যেসব কারণে স্বাভাবিক প্রসব অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় তার কয়েকটি নিম্নরূপ:-
(১) টিকা
(২) ক্যালসিয়াম ও আয়রন ট্যাবলেট
(৩) জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি
(৪) পরীক্ষা ও চেকআপের নামে বারবার হাত ঢুকিয়ে অতিরিক্ত নাড়াচাড়া, এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে পানি ভেঙ্গে দেয়া

সুপ্রসবের ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত প্রতিবন্ধকসমূহ পরিহার করার পাশাপাশি সুপ্রসবে সহায়ক কয়েকটি পন্থা নিম্নে উল্লেখ করছি:-
(১) নির্দিষ্ট এক বা একাধিক হোমিও ঔষধ রয়েছে, যা গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট সময় থেকে (সম্ভবত ৩ বা ৪ মাস থেকে) সেবন করলে প্রসব সহজ হয়। সম্ভবত ঔষধটি Pulsatilla-Q। (তবে এটাকে কেউ ডাক্তারী প্রেসক্রিপশন হিসেবে গণ্য করবেন না।) কিন্তু ৩ মাস পূর্ণ হবার পূর্বে এটি খাওয়া হলে উল্টো ফল হতে পারে, অর্থাৎ গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।
(২) সূরা ফাতেহা পড়ে পানি পড়া খাওয়ানো।
(৩) সূরা যিলযালের সম্ভবত প্রথম দুটি আয়াত পাঠ করে নির্দিষ্ট নিয়মে একটি তদবির করার দ্বারা দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করবার ব্যবস্থা গ্রাম-গঞ্জে প্রচলিত আছে। তবে শুনেছি, দক্ষ দাই না হলে উক্ত আমলের দ্বারা উল্টো ফল হতে পারে, অর্থাৎ নাড়ি-ভূঁড়ি সহ বের হয়ে আসতে পারে।

নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব কঠিন হবার পিছনে আরো কিছু কারণ আছে। এর মধ্যে কিছু নিজেদের অজ্ঞতা ও অবহেলাবশত, আর কিছু পারিবারিক ও সামাজিক কারণে মানবসৃষ্ট। নিচে এগুলো বর্ণিত হলো:-
(১) যেসব মেয়েরা দুই পা একত্র করে শয়ন করে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। দুই পা সরিয়ে শয়নকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ থাকে।
(২) স্বামী প্রবাসে থাকা অথবা অতৃপ্ত ও অনিয়মিত দাম্পত্য মিলন।
(৩) শাক-সবজির অভাব।
(৪) দীর্ঘক্ষণ বসা (বিশেষ করে মাছ-তরকারি কোটার জন্য ফিড়িতে বসা) ও দাঁড়ানো কাজ, অতিরিক্ত কষ্টদায়ক উত্তাপ ও ঘর্মক্ষয় এবং সর্বোপরি সামর্থ্যের বাইরে অমানুষিক শারীরিক পরিশ্রম।
(৫) ঠাণ্ডা লাগা। গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালীন অবস্থায় যদি ঠাণ্ডা লাগে বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে তা আর সহজে ভালো হতে চায় না, মা ও শিশু উভয়ে স্থায়ীভাবে রোগীতে পরিণত হয়।

কোন মেয়ের নসীবে যদি বেকার স্বামী, যৌথ পরিবার, হিংসুক ও বৈরীভাবাপন্ন ননদ আর তাদের (মানে সেই ননদদের) দ্বারা প্রভাবিত ও বশীভূত স্বেচ্ছাচারী শাশুড়ী এবং উদাসীন ও অবিবেচক পক্ষপাতদুষ্ট শ্বশুড়— এই সবগুলো উপাদান একত্রিত হয়, উপরন্তু বাপের বাড়ির ভৌগলিক দূরত্ব যদি বেশি হয়, তাহলে উপরের ৩ ও ৪ নং সংকট তার জীবনে অনিবার্য। অর্থাৎ, সে যেমন ভাতে মরবে, তেমনি শ্রমেও মরবে। যেসব খাবার তার দরকার (বিশেষত দুর্বল ও নাজুক সময়ে), সেসব খাবারও খেতে পারবে না, সকলের পছন্দসই খাবার আইটেমগুলো নাম ধরে ধরে রান্না করতে হলেও নিজের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবার জন্য সবজি রান্না করে খাওয়ার অনুমতি পাবে না। আর যেসব শারীরিক পরিশ্রম গর্ভাবস্থার জটিলতাকে বাড়িয়ে তুলবে এবং প্রসূতি ও বাচ্চার জীবন সংকটাপন্ন করে তুলবে, সেসব থেকেও অব্যাহতি বা বিরতি মিলবে না।
এরূপ প্রতিকূল পরিবেশে নরমাল ডেলিভারি বা সিজার কোনটাই বরাতে জুটবে না। বৈষম্যমূলক পরিবারে একই ডাক্তারের কাছে দুই রকম বিধান মিলতে পারে। একজনের ক্ষেত্রে বলা হবে, রান্না করলে কোন ক্ষতি নেই, পাকঘরের কাজ করলে সমস্যা নেই। আরেকজনের ক্ষেত্রে (নিজের ক্ষেত্রে বা পরিবারের অপর কোন সদস্যের ক্ষেত্রে) বলা হবে, রান্না করতে গিয়ে ঘাম হলে বাচ্চার দুধ কমে যাবে, পানি ধরলে মায়ের ঠাণ্ডা লাগবে, তাতে বাচ্চারও ঠাণ্ডা লাগতে পারে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)